Homeমুর্শিদাবাদসামশেরগঞ্জহাইকমান্ডের নির্দেশে সায় নেই অধীরের! মুর্শিদাবাদে যোগদানে অনড় প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি

হাইকমান্ডের নির্দেশে সায় নেই অধীরের! মুর্শিদাবাদে যোগদানে অনড় প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি

নিউজ ডেস্ক: অন্য দল থেকে নেতা-কর্মীদের দলে টানার আগে এবার থেকে রাজ্য কংগ্রেসের মূল কেন্দ্র বিধান ভবন এবং অল ইন্ডিয়া
Screenshot 2026-08-26 134350

নিউজ ডেস্ক: অন্য দল থেকে নেতা-কর্মীদের দলে টানার আগে এবার থেকে রাজ্য কংগ্রেসের মূল কেন্দ্র বিধান ভবন এবং অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (এআইসিসি)-র সরাসরি অনুমতি বাধ্যতামূলক— এআইসিসির নতুন ইনচার্জ প্রকাশ জোশীর এমনই নতুন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। কিন্তু দলের ইনচার্জের দেওয়া সেই কড়া নির্দেশিকাকে কার্যত সশব্দে অগ্রাহ্য করে নিজের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা বিদায়ী সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। প্রদেশ কংগ্রেসকে না জানিয়ে বা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ছাড়পত্র ছাড়া যোগদান করানো যাবে না বলে জোশী স্পষ্ট নির্দেশ দিলেও, অধীর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বুধ এবং আগামী ২৯ অগস্ট মুর্শিদাবাদে একাধিক অন্য দলের নেতা-কর্মীকে কংগ্রেসে যোগদান করাবেন তিনি।

বিতর্কের সোপান তৈরি হয়েছিল গত ২৩ অগস্ট, মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে। সেদিন অধীর চৌধুরী এবং মালদা দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর যৌথ উপস্থিতিতে শাসকদল তৃণমূলের একঝাঁক নেতা-কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে হাত শিবিরের পতাকা তুলে নেন। ওই যোগদানকারীদের তালিকায় ছিলেন ধুলিয়ান পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ একাধিক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তবে এই যোগদানের পরেই ক্ষোভের আবহ তৈরি হয় দলের একাংশের মধ্যে। এআইসিসির একটি প্রবীণ সূত্রের দাবি, যোগদানের তালিকায় ছিলেন ধুলিয়ানের বিতর্কিত তৃণমূল নেতা ইনজামামুল ইসলাম। সামশেরগঞ্জ ও ধুলিয়ান এলাকায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক এক অশান্তির ঘটনায় ওই নেতার নাম জড়িয়ে পড়েছিল। সেই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পৌঁছায় নতুন ইনচার্জ প্রকাশ জোশীর টেবিলে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা বিচার করে সোমবার জোশী নির্দেশিকা জারি করে ওই যোগদান প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

সোমবারে এআইসিসির তরফে দেওয়া এই স্থগিতাদেশের পরপরই মঙ্গলবার বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী নিজের চিরাচরিত চাঁছাছোলা ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, প্রকাশ জোশী এই নির্দিষ্ট যোগদান প্রক্রিয়াটিকে শুধুই ‘স্থগিত’ (Suspended) রেখেছেন, সম্পূর্ণ বাতিল (Cancelled) করেননি। সেই সঙ্গে দলের বিতর্কিত নেতার পক্ষে সুর চড়িয়ে অধীরের বক্তব্য, “যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে, এনআইএ (NIA) কিংবা সিআইডি (CID)-র তল্লাশিতে কিন্তু তাঁকে একবারের জন্যও ডাকা হয়নি। দেশের আইনি ব্যবস্থায় অভিযোগ থাকলেই কেউ অপরাধী হয়ে যায় না, অপরাধ প্রমাণিত হলে সে জেলে যাবে।”

বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে শুধু রাজ্য ইনচার্জই নন, দিল্লি হাইকমান্ডের শীর্ষস্তর থেকেও ফোন যায় অধীর চৌধুরীর কাছে। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নিজেই খোলসা করে বলেন, “এআইসিসির জেনারেল সেক্রেটারি মহাশয় আমাকে নিজে ফোন করেছিলেন। তিনি আমাকে জানান যে দলভুক্ত হওয়া একজনের বিরুদ্ধে একটা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি যেন আমি নিজে একবার খতিয়ে দেখি। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, সবদিক খতিয়ে দেখে যা ভালো মনে করবেন, সেটাই করবেন।” অর্থাৎ হাইকমান্ডের তরফে চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাটন শেষ পর্যন্ত অধীরের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

তবে প্রকাশ জোশী সোমবার প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে যে লিখিত নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন, তার বয়ান যথেষ্ট কঠোর। সেখানে বলা হয়েছে, অন্য দল থেকে কোনও ব্যক্তি কংগ্রেসে যোগ দিতে চাইলে প্রথমে প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (PCC) তাঁর অতীতের সমস্ত তথ্য ও রাজনৈতিক পটভূমি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখবে। এরপর সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট এআইসিসি (AICC)-র কাছে পাঠাতে হবে। দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব অনুমোদন দিলে তবেই সেই নেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে নেওয়া যাবে। এই নিয়মটি দলের সমস্ত প্রবীণ ও নবীন নেতার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে বলেও জোশীর বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু হাইকমান্ডের এই নিয়ম বাতলে দেওয়ার প্রশাসনিক পদক্ষেপকে খুব একটা আমল দিচ্ছেন না বহরমপুরের বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা। অধীর তাঁর অবস্থানে অনড় থেকে স্পষ্ট জানান, “আমি কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) একজন অন্যতম সদস্য। দলের শৃঙ্খলা, আইনকানুন বা প্রশাসনিক নিয়ম আমার অজানা নয়। আমি ভালো করেই জানি কীভাবে সংগঠন চালাতে হয়। আগামী কাল বুধবার এবং ২৯ তারিখ বহরমপুর পার্টি অফিসে পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই যোগদান কর্মসূচি হবে। আমি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বাংলায় কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার লড়াইয়েই মাঠ নেমেছি।” ফলে এআইসিসির নতুন ইনচার্জের সঙ্গে রাজ্য কংগ্রেসের অভিজ্ঞ সেনাপতির এই মনস্তাত্ত্বিক দড়ি টানাটানি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved