Last updated: September 25th, 2026 at 12:50 pm

নিউজ ডেস্ক: আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির কাজে বালি কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত দাম গুনতে হবে না। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সরকারি নির্ধারিত দরেই বালি পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে পূর্ব বর্ধমানে। ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন ব্লকের প্রায় ৩৬০ জন আবাস-উপভোক্তা সরকারি দরে বালি পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রতি ট্র্যাক্টর বা ১০০ ঘনফুট বালির জন্য নির্ধারিত দাম রাখা হয়েছে ১২০০ টাকা।
কয়েক দিন ধরেই আবাস যোজনার উপভোক্তাদের একাংশের অভিযোগ ছিল, বাড়ি তৈরির জন্য বরাদ্দ অর্থের বড় অংশই চলে যাচ্ছে বালি কিনতে। বৃষ্টির অজুহাতে বিভিন্ন স্টক পয়েন্টের ইজারাদাররা বালির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে সরকারি প্রকল্পের টাকা হাতে পাওয়ার পরেও নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়ছিলেন বহু উপভোক্তা।
বিষয়টি নিয়ে একাধিক জেলা থেকে অভিযোগ পৌঁছয় প্রশাসনের কাছে। এরপরই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বৈঠকে সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে আবাস যোজনার উপভোক্তাদের জন্য বালির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বেআইনি বালির কারবার বন্ধ করা এবং সরকারি রাজস্ব যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এর পরেই পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপ শুরু হয়। জেলাশাসকের নির্দেশে জেলার ২৩টি ব্লকের বিএলএলআরও-দের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠানো হয়। যে সমস্ত এলাকায় বৈধ বালি খাদান রয়েছে, সেখানে আবাস যোজনার উপভোক্তাদের সরকারি নির্ধারিত ১২০০ টাকা দরে বালি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়। পুরো বিষয়টির উপর নজরদারি করছেন জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের আধিকারিকরা।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে ইতিমধ্যেই উপকৃত হয়েছেন প্রায় ৩৬০ জন উপভোক্তা। মঙ্গলকোট, মেমারি, খণ্ডঘোষ, জামালপুর-সহ জেলার একাধিক এলাকায় সরকারি নির্ধারিত দরে বালি সরবরাহ করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন উপভোক্তা জানিয়েছেন, বাজারদরের তুলনায় এই ব্যবস্থায় তাঁদের বাড়ি তৈরির খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।
আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে সরকারি অর্থের সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর বাজারদরের সামঞ্জস্য না থাকলে উপভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে বালির দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে বাড়ির নির্মাণকাজ থমকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই সরকারি দরে বালি সরবরাহের এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে শুধু নির্ধারিত দাম ঘোষণা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কোথাও অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, বৈধ উৎস থেকেই বালি সরবরাহ হচ্ছে কি না এবং উপভোক্তারা প্রকৃতপক্ষে নির্ধারিত দামে বালি পাচ্ছেন কি না—এসব বিষয়েও নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের তরফে সেই নজরদারি অব্যাহত রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এখন পূর্ব বর্ধমানে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থার ফলে আবাস যোজনার বাকি উপভোক্তারাও কতটা উপকৃত হন, সেটাই দেখার। সরকারি প্রকল্পের বাড়ি নির্মাণে বালির অতিরিক্ত দাম যাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের এই উদ্যোগ।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments