Last updated: September 16th, 2026 at 03:31 pm

নিউজ ডেস্ক; টানা বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির প্রভাব এবার পড়েছে বন্যপ্রাণীদের উপরেও। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর, রায়না ও মাধবডিহি এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে লোকালয়ের আশপাশে শিয়ালের আনাগোনা বেড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। শুধু মাঠ বা নদীবাঁধ নয়, গ্রামের বাড়ির উঠোনেও ঢুকে পড়ছে শিয়াল। অভিযোগ, সুযোগ পেলেই হাঁস-মুরগি নিয়ে পালাচ্ছে তারা।
স্থানীয়দের বক্তব্য, দামোদরের বাঁধ ও সংলগ্ন মাঠের বিভিন্ন গর্তে দীর্ঘদিন ধরে শিয়ালের বাস রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বৃষ্টি, ডিভিসি-র জল ছাড়া এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে সেই গর্তগুলিতে জল ঢুকছে। ফলে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে শিয়ালগুলি বাধ্য হয়ে গর্ত ছেড়ে খোলা মাঠ এবং লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। এতে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
জামালপুরের শিয়ালি, মাঠশিয়ালি, কোরা, অমরপুর-সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা শিয়ালের উপদ্রব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়ির উঠোনে রাখা হাঁস-মুরগিও নিরাপদ থাকছে না। পাশাপাশি চাষের জমি বা বাঁধের কাছাকাছি কাজ করতে যাওয়ার সময়ও অনেকে সতর্ক থাকছেন।
আরও একটি আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দামোদরের জল বাঁধের গর্তে ঢুকে পড়লে বাঁধের মাটি আলগা হয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সেই কারণে কয়েকটি জায়গায় বালির বস্তা দিয়ে গর্ত বন্ধ করার কাজও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে শিয়ালদের মেরে ফেলা বা আঘাত না করার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক করেছে বন দফতর। জেলা বনাধিকারিক সঞ্চিতা শর্মার বক্তব্য, শিয়ালও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনের আওতায় রয়েছে। খাবারের অভাব এবং আশ্রয়ের সমস্যা—দুই কারণেই তারা লোকালয়ের দিকে চলে আসছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের তরফেও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। বাঁধের দুর্বল অংশগুলির মেরামতির পাশাপাশি শিয়ালের গতিবিধির উপরও নজর রাখা হচ্ছে। বন্যপ্রাণী এবং মানুষের নিরাপত্তা—দুই দিক সামলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments