Homeজেলাকোলোড়া রেলগেটে গাফিলতি, ঘুমের অভিযোগ নস্যাৎ রেলের

কোলোড়া রেলগেটে গাফিলতি, ঘুমের অভিযোগ নস্যাৎ রেলের

নিউজ ডেস্ক; হুগলির কোলোড়া রেলগেট ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর তদন্ত করে নিজেদের বক্তব্য জানাল পূর্ব রেল। গেটম্যান ডিউটির সময়ে ঘুমিয়ে ছিলেন—সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এমন দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ মেলেনি
resizeplus_eisamay_2026-09-16_xaz9ecx9_Rail-Line

নিউজ ডেস্ক; হুগলির কোলোড়া রেলগেট ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর তদন্ত করে নিজেদের বক্তব্য জানাল পূর্ব রেল। গেটম্যান ডিউটির সময়ে ঘুমিয়ে ছিলেন—সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এমন দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে রেল। তবে একই সঙ্গে তদন্তে গেট বন্ধ করতে দেরি এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিষয়টি সামনে এসেছে।

ঘটনাটি ঘটে ব্যান্ডেল-কাটোয়া শাখার সোমড়া স্টেশনের কাছে কোলোড়া রেলগেটে। ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ৩৭৭৫৪ ডাউন কাটোয়া-ব্যান্ডেল লোকাল ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় রেলগেটটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। ট্রেনটি এগিয়ে আসতে দেখে চালক হর্ন দেন। সেই সময় গেট বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার একটি ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযোগ ওঠে, গেটম্যান ঘুমিয়ে ছিলেন। কিন্তু রেলের তদন্তে সেই দাবি নিশ্চিত করার মতো কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। পূর্ব রেলের বক্তব্য, ভিডিয়োয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম নিয়েও ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। ফলে গেটম্যান ঘুমিয়ে ছিলেন—এমন দাবি তথ্যসমর্থিত নয়।

অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে রেল একাধিক নথি ও রেকর্ড খতিয়ে দেখে। তদন্তে ডেটা লগার, ট্রেনের স্পিড চার্ট, গেটের ভয়েস রেকর্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বক্তব্য পরীক্ষা করা হয়। সেই তদন্তেই গেট বন্ধ করতে দেরি হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে রেল জানিয়েছে।

রেলের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় গেটটি সড়ক যান চলাচলের জন্য খোলা থাকায় সংশ্লিষ্ট গেট সিগন্যাল ‘ON’ অবস্থায় ছিল। ট্রেনের মোটরম্যান সিগন্যাল মেনে গতি কমিয়ে দেন। প্রায় ৩৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা থেকে ট্রেনের গতি নামিয়ে আনা হয় প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। রাত ৯টা ২২ মিনিট নাগাদ রেলগেটটি সম্পূর্ণ বন্ধ ও লক করা হয়। এরপর সিগন্যাল ক্লিয়ার হলে ট্রেনটি এগিয়ে যায়। রেলের দাবি, ট্রেনটি থামেনি এবং কোনও দুর্ঘটনাও ঘটেনি।

তবে তদন্তে পুরোপুরি দায়মুক্তি মেলেনি। দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং স্টেশন মাস্টার ও গেটম্যানের মধ্যে সময়মতো যোগাযোগের ক্ষেত্রে ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পূর্ব রেল। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে নিয়ম মেনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অর্থাৎ, ‘গেটম্যান ঘুমিয়ে ছিলেন’—এই অভিযোগের প্রমাণ না মিললেও, রেলের নিজস্ব তদন্তেই দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিষয়টি উঠে এসেছে। ঘটনার জেরে রেলগেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে।

No Comments