Homeরাজ্যসরকারি কর্মী-পেনশনভোগীদের চিকিৎসায় বড় স্বস্তি, কো-মর্বিডিটির জন্য আর লাগবে না মূল চিকিৎসকের রেফারেল

সরকারি কর্মী-পেনশনভোগীদের চিকিৎসায় বড় স্বস্তি, কো-মর্বিডিটির জন্য আর লাগবে না মূল চিকিৎসকের রেফারেল

নিউজ ডেস্ক; রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল হেল্থ স্কিমের আওতায় থাকা উপভোক্তাদের জন্য চিকিৎসা খরচের রিইম্বার্সমেন্টের ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন আনল রাজ্য অর্থ দফতর। বেসরকারি হাসপাতাল বা তালিকাভুক্ত স্বাস্থ্য
resizeplus_Screenshot 2026-09-12 124923_edited

নিউজ ডেস্ক; রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল হেল্থ স্কিমের আওতায় থাকা উপভোক্তাদের জন্য চিকিৎসা খরচের রিইম্বার্সমেন্টের ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন আনল রাজ্য অর্থ দফতর। বেসরকারি হাসপাতাল বা তালিকাভুক্ত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে মূল রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো কো-মর্বিডিটি বা সহ-অসুস্থতার চিকিৎসা করাতে গিয়ে এত দিন যে অতিরিক্ত নিয়মের মুখোমুখি হতে হত, তা এবার অনেকটাই সহজ করা হল। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কো-মর্বিডিটির চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গেলে আর মূল রোগের চিকিৎসা করা চিকিৎসকের কাছ থেকে পৃথক রেফারেল বা সুপারিশপত্র সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক থাকছে না।

এত দিন পর্যন্ত রাজ্য স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীকে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হত। ধরা যাক, কোনও ব্যক্তি কোনও বিশেষ রোগের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসার মাঝেই তাঁর ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন হল। সে ক্ষেত্রে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের কাছে গেলেই চলত না। নিয়মিত যে চিকিৎসক মূল রোগটির চিকিৎসা করছেন, তাঁর কাছ থেকে রেফারেল বা সুপারিশপত্র নেওয়ার প্রয়োজন হত।

এই নিয়ম বাস্তবে অনেকের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলেও প্রথমে মূল চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রেফারেল সংগ্রহ করতে হত। বিশেষ করে বয়স্ক পেনশনভোগী বা নিয়মিত চিকিৎসাধীন রোগীদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় সময় ও অতিরিক্ত ঝামেলা বাড়ছিল। চিকিৎসা করানোর পর বিল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে টাকা ফেরতের আবেদন করার সময়ও রেফারেল সংক্রান্ত নথি না থাকলে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা থাকত।

এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এবার নিয়মে বদল আনল অর্থ দফতর। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কোনও সরকারি কর্মচারী বা পেনশনভোগী যদি রাজ্য স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় কোনও মূল রোগের চিকিৎসা করান এবং সেই চিকিৎসার পাশাপাশি অন্য কোনও কো-মর্বিডিটির জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হয়, তা হলে তিনি তালিকাভুক্ত হাসপাতালের উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে সরাসরি যেতে পারবেন। এর জন্য মূল রোগের চিকিৎসকের কাছ থেকে আলাদা করে রেফারেল লেটার সংগ্রহ করার প্রয়োজন হবে না।

অর্থাৎ, বহির্বিভাগ বা ওপিডিতে চিকিৎসার সময় রোগীর যদি একাধিক শারীরিক সমস্যার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তা হলে সংশ্লিষ্ট রোগের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যাবে সরাসরি। এতে চিকিৎসার প্রক্রিয়া যেমন দ্রুত হবে, তেমনই অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতাও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে চিকিৎসার খরচ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নিয়ম থাকছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন, হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিল এবং প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি যথাযথ ভাবে জমা দিতে হবে। সেই কাগজপত্রের ভিত্তিতেই রিইম্বার্সমেন্টের আবেদন বিবেচনা করা হবে।

নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, শুধু রেফারেলের বাধ্যবাধকতাই তুলে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে ওয়েস্ট বেঙ্গল হেল্থ স্কিমের আওতায় চিকিৎসার পরিধি বা অনুমোদিত খরচের সীমা বাড়ানো হয়েছে। অর্থ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রকল্পের অন্যান্য নিয়ম, শর্ত এবং অনুমোদিত চিকিৎসা পরিষেবার কাঠামো আগের মতোই বহাল থাকবে।

ফলে সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি মূলত চিকিৎসা নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে যাঁদের বয়স বেশি এবং একসঙ্গে একাধিক শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা প্রয়োজন হয়, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য পরিষেবায় কো-মর্বিডিটি এখন অত্যন্ত পরিচিত একটি বিষয়। একজন রোগী একটি নির্দিষ্ট সমস্যার চিকিৎসা করাতে গিয়ে অন্য শারীরিক সমস্যার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার মুখোমুখি হতে পারেন। সেই পরিস্থিতিতে প্রতিবার মূল চিকিৎসকের কাছে ফিরে গিয়ে রেফারেল সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। নতুন নিয়মে সেই অতিরিক্ত ধাপটি বাদ যাওয়ায় রোগীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দ্রুত নিতে পারবেন।

সব মিলিয়ে, রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত রিইম্বার্সমেন্ট ব্যবস্থায় এটি একটি উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক সরলীকরণ। মূল রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কো-মর্বিডিটির চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর রেফারেল-নির্ভরতার কারণে আটকে থাকতে হবে না। তবে চিকিৎসার বিল ও অন্যান্য নথিপত্র সংরক্ষণ এবং প্রকল্পের বাকি নিয়ম মেনে আবেদন করার বিষয়টি আগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved