Homeরাজ্যমোদীর ২৫ বছর পূর্তিতে রাজ্যজুড়ে ‘সেবা সংকল্প’, ১৭ সেপ্টেম্বর স্কুল পড়ুয়াদের হাতে প্রদীপ

মোদীর ২৫ বছর পূর্তিতে রাজ্যজুড়ে ‘সেবা সংকল্প’, ১৭ সেপ্টেম্বর স্কুল পড়ুয়াদের হাতে প্রদীপ

নিউজ ডেস্ক; প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর আওতায় আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০
resizeplus_Screenshot 2026-09-11 170708_edited

নিউজ ডেস্ক; প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর আওতায় আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি চালানোর কথা জানানো হয়েছে। আর এই কর্মসূচির সূচনাতেই স্কুল পড়ুয়াদের যুক্ত করার পরিকল্পনা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।

১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন। সেই দিন সন্ধ্যায় রাজ্যের স্কুল পড়ুয়াদের দিয়ে প্রদীপ জ্বালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার স্কুল পরিদর্শকদের কাছে নির্দেশ পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়ুয়াদের নাম, যোগাযোগের নম্বর এবং অভিভাবকের নাম-সহ তালিকা প্রস্তুত করার কথা বলা হয়েছে। সেই তালিকা জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিধায়ক বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রত্যেক পড়ুয়ার হাতে একটি করে প্রদীপ তুলে দেওয়া হবে। সন্ধ্যা ৭টায় পড়ুয়ারা নিজেদের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেই প্রদীপ জ্বালাবে। রাজ্য সরকারের ব্যাখ্যা, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে সমষ্টিগত অঙ্গীকার এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক হিসাবেই এই আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক পরিকল্পনায় বিধানসভা-ভিত্তিক স্কুলগুলিকেও এই কর্মসূচির আওতায় আনার কথা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি স্কুল মিলিয়ে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ২৫ হাজার প্রদীপ জ্বালানোর লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। সেই হিসাবে হিসাব করলে রাজ্যজুড়ে প্রদীপের সংখ্যা ৭০ লক্ষেরও বেশি হতে পারে। প্রতিটি প্রদীপের জন্য দু’টাকা করে বরাদ্দের কথাও নির্দেশিকায় রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৃহস্পতিবার নবান্নে এই কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর আগে থেকে ঘোষিত ‘অন্নপূর্ণা দিবস’-এর কর্মসূচির পাশাপাশি সূর্যাস্তের পর রাজ্যজুড়ে পালিত হবে ‘আশীর্বাদো কি দিয়া’। এই কর্মসূচিতে এক কোটিরও বেশি পরিবারকে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।

শুধু স্কুল বা বাড়ির মধ্যেই এই আয়োজন সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা নেই। গঙ্গার তীর, কালীঘাট মন্দির এবং রাইটার্স বিল্ডিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের কর্মসূচি হবে বলে জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে যুক্ত করে কর্মসূচিকে আরও বড় আকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

স্কুলগুলির জন্যও থাকছে একাধিক আলাদা কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৮০ হাজারের বেশি স্কুলকে এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘বাচ্চো কে স্বপ্ন কা ভারত’ নামে একটি কর্মসূচির আওতায় পড়ুয়াদের নিয়ে নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করার কথা বলা হয়েছে। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’কে সামনে রেখে ড্রয়িং, কুইজ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, বিতর্ক এবং লেখালিখির মতো বিভিন্ন প্রতিযোগিতা হবে।

স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের জন্য ‘নমো সেবা নাটক’-এরও আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র প্রদীপ প্রজ্জ্বলন নয়, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও ছাত্রছাত্রীদের এই অভিযানে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদেরও এই কর্মসূচির অংশ করার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, শৌচালয় নির্মাণ, জল জীবন মিশন, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর, আয়ুষ্মান ভারত এবং পিএম কিষান সম্মান নিধির মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করার কথা রয়েছে। ওই সমস্ত প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধাভোগী পরিবারগুলির আর্থ-সামাজিক অবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তা তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এর পাশাপাশি কোভিড টিকাপ্রাপকদের একটি নির্দিষ্ট তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত মানুষদের এক ছাতার তলায় এনে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-কে বৃহত্তর সামাজিক প্রচারে পরিণত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

এই অভিযানে মোট ১৩ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি রাখার কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সাফাই ও স্বচ্ছতা অভিযান, রক্তদান শিবির, সেবাযাত্রা, আলপনা বা রঙ্গোলি প্রতিযোগিতা এবং উদ্ভাবন-ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি। কোথাও সামাজিক পরিষেবা, কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আবার কোথাও পড়ুয়াদের সৃজনশীল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অভিযানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশাসনিক নির্দেশিকায় প্রতিটি কর্মসূচির ছবি ও ভিডিয়ো সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে। ফলে শুধু অনুষ্ঠান আয়োজন নয়, তার নথিবদ্ধকরণ এবং রিপোর্টিংয়ের উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে সরকারের এই পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষক সংগঠনের একাংশ। বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী পরিবারগুলিকে কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি উঠেছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল অভিযোগ করেছেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী পড়ুয়া এবং তাঁদের অভিভাবকদের এই ধরনের কর্মসূচিতে যুক্ত করা হলে তাঁদের উপর এক ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কোনও রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তাদের বক্তব্য, স্কুল মূলত পড়াশোনা ও শিক্ষামূলক কার্যকলাপের জায়গা। সেখানে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি চালানো হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

অন্য দিকে, রাজ্য সরকারের তরফে এই কর্মসূচিকে জনসেবামূলক এবং সামাজিক অঙ্গীকারের অংশ হিসাবেই তুলে ধরা হচ্ছে। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য সামনে রেখে পড়ুয়া, পরিবার, সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী এবং সাধারণ মানুষকে একাধিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

ফলে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকেই এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া আরও বাড়তে পারে। এক দিকে সরকারের তরফে বিপুল সংখ্যক পরিবার ও পড়ুয়াকে যুক্ত করার প্রস্তুতি, অন্য দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সংগঠনের আপত্তি—দুইয়ের সংঘাতেই ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved