Homeউত্তর ২৪ পরগনাবনগাঁভালো কাজের টোপ দিয়ে স্ত্রীকে ডেকে ধর্ষণের অভিযোগ, আড়াই মাসেও গ্রেফতার নয়; হাইকোর্টে অভিযুক্ত

ভালো কাজের টোপ দিয়ে স্ত্রীকে ডেকে ধর্ষণের অভিযোগ, আড়াই মাসেও গ্রেফতার নয়; হাইকোর্টে অভিযুক্ত

নিউজ ডেস্ক; সংসার চালাতে সেলুনে কাজ করতেন বনগাঁর গোপালনগর এলাকার এক যুবক। আর্থিক অনটনের মধ্যেই কোনও রকমে দিন কাটছিল তাঁর।
Screenshot 2026-08-27 123338

নিউজ ডেস্ক; সংসার চালাতে সেলুনে কাজ করতেন বনগাঁর গোপালনগর এলাকার এক যুবক। আর্থিক অনটনের মধ্যেই কোনও রকমে দিন কাটছিল তাঁর। অভিযোগ, সেই সুযোগ নিয়েই তাঁকে ভালো কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি তথা ক্যাফের মালিক লিটন সিকদার। কাজের বিষয়ে কথা বলার জন্য এক সন্ধ্যায় নিজের ক্যাফেতে ওই যুবককে ডাকা হয়। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছন যুবক। কিন্তু অভিযোগ, তাঁকে ক্যাফের বাইরে পাঠিয়ে তাঁর স্ত্রীকে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন লিটন। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও আড়াই মাস কেটে যাওয়ার পরেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আইনি জটিলতা গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। বারাসত জেলা আদালতে অভিযুক্তের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর এ বার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন লিটন সিকদার। মঙ্গলবার বিচারপতি শব্বর রশিদির বেঞ্চে তাঁর আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে অভিযোগকারিণী তরুণীর বক্তব্য জানতে চেয়ে সেই শুনানি পিছিয়ে দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, আর্থিক ভাবে অসচ্ছল ওই তরুণীকে বিনামূল্যে উপযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য হাইকোর্ট লিগাল সার্ভিসেস অথরিটিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপালনগর থানা এলাকার সদ্য বিবাহিত ওই তরুণী চলতি বছরের ২৬ মার্চ লিটন সিকদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কাজের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর স্বামীকে ক্যাফেতে ডাকা হয়েছিল। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই সেখানে যাওয়ার পর ওই যুবককে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ক্যাফের ভিতরের একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করে। তাঁকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্যও পাঠানো হয়। ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত পোশাকও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। অভিযোগের দু’দিন পর পোশাক বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরে ফরেন্সিক পরীক্ষাতেও প্রাথমিক ভাবে যৌন হেনস্থার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এত কিছুর পরেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগকারিণীর পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে লিটন এলাকায় প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনকি যে ক্যাফেতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ, সেটিও পুলিশ সিল করেনি বলে দাবি পরিবারের। ফলে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে পুলিশের তদন্ত চলাকালীনই বারাসত জেলা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন অভিযুক্ত লিটন সিকদার। সেখানে তাঁর আইনজীবী অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ধর্ষণের অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের কোনও সিসিটিভি ফুটেজ নেই বলেও আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়। অভিযুক্তের তরফে পুরো ঘটনাটিকে মিথ্যা অভিযোগ হিসেবে দাবি করা হয়েছিল।

তবে পুলিশের কেস ডায়েরি খতিয়ে দেখে সেই যুক্তিতে সায় দেয়নি বারাসত জেলা আদালত। গত ১১ জুন লিটনের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। এর পরেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ নির্যাতিতার পরিবারের। ফলে জেলা আদালতে জামিন না মেলায় এ বার উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন লিটন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় স্তরেও নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারিণীর পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত স্থানীয় তৃণমূলকর্মী এবং এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। গোপালনগর থানার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথাও স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে বলে অভিযোগ। সেই কারণেই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করছে না বলে দাবি পরিবারের। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে পুলিশের তরফে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি।

অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আইনগত ভাবে কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে না। এই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ এবং দ্রুত হয়েছে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জেলা আদালত আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করার পরও গ্রেফতার না হওয়ায় তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিযোগকারিণীর পরিবারের সদস্যরা।

অন্যদিকে, কলকাতা হাইকোর্টের মঙ্গলবারের শুনানিতে অভিযোগকারিণীর বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য শোনার পরই অভিযুক্তের আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর্থিক ভাবে অসচ্ছল তরুণী যাতে নিজের বক্তব্য আদালতের সামনে যথাযথ ভাবে তুলে ধরতে পারেন, সে জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তার নির্দেশও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বনগাঁ পুলিশ জেলার এক আধিকারিক অবশ্য জানিয়েছেন, গোপালনগর থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ দায়িত্ব নিয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ফলে এখন নজর রয়েছে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

এই ঘটনায় একদিকে যেমন একজন তরুণীর করা গুরুতর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে, অন্যদিকে তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা এবং অভিযুক্তের গ্রেফতার না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জেলা আদালতের পর এ বার হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন ঘিরে আইনি লড়াই চলছে। আদালত অভিযোগকারিণীর বক্তব্য শোনার পর কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দোষী বলা যায় না। তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়াতেই ঘটনার প্রকৃত সত্য নির্ধারিত হবে। অভিযোগকারিণীর পরিবারের দাবি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved