
নিউজ ডেস্ক; রাস্তার বেহাল দশা ফের প্রশ্নের মুখে ফেলল ঘুসুড়ির গিরিশ ঘোষ রোডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার সকালে একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে রাস্তার খানাখন্দে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল একটি টোটো। সেই সময় টোটোয় এক অভিভাবকের সঙ্গে যাচ্ছিল এক স্কুলপড়ুয়া। দুর্ঘটনায় শিশুটি গুরুতর আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালেও স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে ব্যস্ত ছিল গিরিশ ঘোষ রোড। স্কুলের সামনে দিয়ে এক অভিভাবক তাঁর শিশুকে সঙ্গে নিয়ে টোটোয় করে যাচ্ছিলেন। আচমকাই রাস্তার একটি খারাপ অংশে গিয়ে টোটোটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যে সেটি উল্টে যায়। টোটো থেকে ছিটকে পড়ে জখম হয় শিশুটি। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আহত পড়ুয়ার শরীর থেকে তখন রক্তপাত হচ্ছিল। পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহত শিশুটিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা কতটা গুরুতর, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।
এই দুর্ঘটনার পরেই সামনে এসেছে রাস্তার দীর্ঘদিনের বেহাল দশার অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গিরিশ ঘোষ রোডের একাধিক জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। আবার কোথাও রাস্তার উপরিভাগ এতটাই অসমান যে, টোটো, অটো বা অন্যান্য ছোট যানবাহন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্ষা বা বৃষ্টির পরে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্কুলপড়ুয়া এবং তাঁদের অভিভাবকদের। প্রতিদিন সকালে এবং দুপুরে স্কুলের সামনে পড়ুয়াদের ভিড় থাকে। ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের যাতায়াত করতে হয় ওই রাস্তা দিয়েই। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তার খানাখন্দ যে কোনও মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, শুধু স্কুলপড়ুয়া নয়, এলাকার সাধারণ মানুষকেও প্রতিদিন এই রাস্তার উপর নির্ভর করতে হয়। বয়স্ক মানুষ, কর্মজীবী নাগরিক এবং বিভিন্ন ছোট যানবাহনের চালকদের জন্য রাস্তার খারাপ অংশগুলি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোথাও গর্ত এড়াতে গিয়ে যানবাহনকে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করতে হয়। ফলে পাশ দিয়ে যাওয়া অন্য গাড়ি বা বাইকের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কাও তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনার সময় এলাকায় একজন সিভিক ভলান্টিয়ার উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। কিন্তু রাস্তার পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে দুর্ঘটনা ঠেকানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। তাঁদের বক্তব্য, শুধু যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। রাস্তার বিপজ্জনক অংশগুলি দ্রুত মেরামত করাও জরুরি।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিভাবকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার খারাপ অবস্থার কথা জানানো হলেও কেন স্থায়ী ভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না? তাঁদের অভিযোগ, কোনও দুর্ঘটনা ঘটলেই সাময়িক ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু কিছুদিন পর পরিস্থিতি আবার আগের জায়গায় ফিরে যায়।
স্কুলের সামনে রাস্তার এমন পরিস্থিতি নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগও যথেষ্ট। তাঁদের বক্তব্য, ছোট শিশুদের নিয়ে যাতায়াতের সময় সামান্য অসাবধানতাতেই বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে। টোটো বা অটোর মতো ছোট যানবাহন রাস্তার গর্তে পড়ে ভারসাম্য হারালে যাত্রীদের গুরুতর চোট লাগতে পারে। এ দিনের ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই আরও প্রকট করে তুলেছে।
অভিভাবকদের আরও আশঙ্কা, শুধু টোটো নয়, বড় গাড়ি বা মোটরবাইকও একই ভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে। কোনও দ্রুতগতির গাড়ি যদি রাস্তার গর্ত এড়াতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়, তা হলে দুর্ঘটনার মাত্রা আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষ করে স্কুলের সামনে এমন ঘটনা ঘটলে একসঙ্গে একাধিক পড়ুয়া ও পথচারী বিপদের মুখে পড়তে পারেন।
স্থানীয়দের দাবি, গিরিশ ঘোষ রোডের খারাপ অংশগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে সংস্কার করতে হবে। শুধু গর্তে মাটি বা সামান্য নির্মাণসামগ্রী ফেলে সাময়িক মেরামত নয়, প্রয়োজন স্থায়ী ভাবে রাস্তার পিচের কাজ। পাশাপাশি স্কুলের সামনে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, একটি দুর্ঘটনার পরে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগে থেকেই বিপজ্জনক জায়গাগুলি চিহ্নিত করে সংস্কার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেখানে নিয়মিত স্কুলপড়ুয়া এবং অভিভাবকদের যাতায়াত রয়েছে, সেই জায়গাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাঁদের মতে, প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানোর পরেও যদি রাস্তার পরিস্থিতি একই থাকে, তা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনার পর তাই স্থানীয়দের মূল দাবি একটাই—আর কোনও পড়ুয়া যেন বেহাল রাস্তার কারণে দুর্ঘটনার শিকার না হয়। স্কুলের সামনে রাস্তার দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হোক। আহত স্কুলপড়ুয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি এলাকার মানুষ চাইছেন, এই দুর্ঘটনাই যেন প্রশাসনের কাছে রাস্তা সংস্কারের শেষ সতর্কবার্তা হয়ে ওঠে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments