
নিউজ ডেস্ক: পুজোর মরসুম যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে নতুন মোটরসাইকেল কেনার বাজার। প্রতি বছরই উৎসবের আগে দুই চাকার গাড়ির বিক্রি বাড়তে দেখা যায়। এবার সেই বাড়তি চাহিদার সময় যাতে নিয়মবহির্ভূত ভাবে মোটরসাইকেল বিক্রি না হয়, তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় হল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিবহণ দফতর। তমলুকের মানিকতলা এলাকার একাধিক বাইকের শোরুমে আচমকা অভিযান চালিয়ে খতিয়ে দেখা হল গাড়ি বিক্রির নথি থেকে শুরু করে ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
শুধু পরিবহণ ক্ষেত্র নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের তরফে অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই নজরদারির আওতাতেই এবার চলে এল মোটরসাইকেলের শোরুম। পুজোর আগে বিক্রির ব্যস্ততা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনও শোরুম সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করছে কি না, মূলত সেটাই দেখতেই এই পরিদর্শন বলে জেলা পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
তমলুকের মানিকতলা এলাকায় আচমকা পৌঁছে যান জেলা RTO সঞ্জয় হালদার, ARTO-সহ পরিবহণ দফতরের একাধিক আধিকারিক। আগে থেকে নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। শোরুমে ঢুকে আধিকারিকরা বিক্রির নথিপত্র পরীক্ষা করেন। পাশাপাশি নতুন মোটরসাইকেল ক্রেতাদের কাছ থেকে কী কী নথি নেওয়া হচ্ছে এবং গাড়ি হস্তান্তরের আগে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়।
পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, জেলার কয়েকটি মোটরসাইকেল শোরুমের বিরুদ্ধে আগে থেকেই কিছু অভিযোগ পৌঁছেছিল। অভিযোগের মধ্যে অন্যতম ছিল, কোনও কোনও ক্ষেত্রে নম্বর প্লেট ছাড়াই মোটরসাইকেল বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এমন ক্রেতাদের কাছেও মোটরসাইকেল বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
যদিও এ দিনের পরিদর্শনে বড় ধরনের কোনও অনিয়ম ধরা পড়েনি বলেই দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। তমলুকের মানিকতলা এলাকার তিনটি শোরুমে গিয়ে নথিপত্র পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা। প্রাথমিক ভাবে সেখানে সরকারি নিয়ম মেনে গাড়ি বিক্রি করা হচ্ছে বলেই তাঁদের নজরে এসেছে।
তবে এই অভিযানকে শুধুমাত্র নিয়মিত পরিদর্শন হিসেবে দেখছে না পরিবহণ দফতর। কারণ পুজোর বাজারে মোটরসাইকেলের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির সংখ্যাও বাড়তে পারে। সেই সময়ে নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হলে পরবর্তী সময়ে ক্রেতাদের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণেই আগেভাগে শোরুমগুলিকে সতর্ক করার পাশাপাশি এবার মাঠে নেমে পরিস্থিতি যাচাই করছে প্রশাসন।
পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ সামনে আসার পর জেলার বিভিন্ন বাইকের শোরুম মালিকদের আগেই সরকারি নিয়ম মেনে গাড়ি বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গাড়ি বিক্রির সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই, ক্রেতার বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে কি না, এবং মোটরসাইকেল হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল তাঁদের।
পরবর্তীতে শোরুম মালিকদের তরফেও ক্রেতাদের সচেতন করতে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। সেখানে নিয়ম মেনে মোটরসাইকেল কেনাবেচার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ প্রশাসনের নির্দেশ শোরুমগুলিতে পৌঁছেছিল আগেই। এবার সেই নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা দেখতেই আচমকা পরিদর্শনে নামে পরিবহণ দফতর।
জেলা RTO সঞ্জয় হালদারের বক্তব্য অনুযায়ী, শোরুম মালিকদের আগেই সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছিল। এ দিনের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল সেই নির্দেশ বাস্তবে মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা।
অধিকারিকরা শুধু শোরুমে থাকা মোটরসাইকেল দেখেই ফিরে যাননি। বিক্রির রেজিস্টার, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ক্রেতাদের নথি এবং গাড়ি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনও গাড়ি নিয়ম ভেঙে বিক্রি করা হয়েছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়।
মোটরসাইকেল বিক্রির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি এবং আইন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও গাড়ি বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়া রাস্তায় নামলে পরবর্তী সময়ে সেই গাড়ির মালিকের পাশাপাশি শোরুম কর্তৃপক্ষকেও সমস্যায় পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, নম্বর সংক্রান্ত নিয়ম এবং চালকের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে কি না—এই বিষয়গুলির উপর পরিবহণ দফতরের নজর থাকে।
তাই পুজোর মরসুমে যখন নতুন বাইক কেনার জন্য শোরুমগুলিতে ভিড় বাড়বে, তখন এই বিষয়গুলিতে কোনও রকম ছাড় দিতে চাইছে না প্রশাসন। ক্রেতার তাড়াহুড়ো বা উৎসবের বাজারের চাপকে কারণ দেখিয়ে নিয়ম ভাঙা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না—এই বার্তাই কার্যত দেওয়া হয়েছে।
না, নজরদারি আপাতত চলবে বলেই পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর। পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায় থাকা মোটরসাইকেল শোরুমে আগামী দিনেও আচমকা পরিদর্শন চালানো হতে পারে। কোন শোরুমে কী ভাবে গাড়ি বিক্রি হচ্ছে, ক্রেতাদের নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না এবং গাড়ি হস্তান্তরের সময় সরকারি নির্দেশিকা মানা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
পরিবহণ দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পরবর্তী অভিযানেও যদি কোনও অনিয়ম সামনে আসে, তা হলে সংশ্লিষ্ট শোরুমের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ শুধু সতর্ক করে দায়িত্ব শেষ করতে চাইছে না প্রশাসন; প্রয়োজন হলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পথেও হাঁটা হবে।
পুজোর আগে সাধারণত নতুন গাড়ি কেনার প্রবণতা বাড়ে। পরিবারের প্রয়োজন, ব্যক্তিগত যাতায়াত কিংবা উৎসবের সময়ে নতুন বাইক কেনার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে শোরুমগুলিতে বিক্রি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই সময়েই যাতে ব্যবসার বাড়তি চাপের মধ্যে নিয়মকানুন উপেক্ষিত না হয়, তা নিশ্চিত করাই পরিবহণ দফতরের লক্ষ্য।
তমলুকের মানিকতলায় এ দিনের আকস্মিক অভিযান তাই কার্যত একটি সতর্কবার্তা। প্রাথমিক পরিদর্শনে বড় ধরনের অনিয়ম না মিললেও নজরদারি যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট। পুজোর বাজারে বাইকের চাহিদা যত বাড়বে, ততই শোরুমগুলির উপর প্রশাসনের নজরও থাকবে। ফলে ক্রেতা এবং বিক্রেতা—দুই পক্ষকেই প্রয়োজনীয় নথি ও সরকারি নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিবহণ দফতর।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments