Homeহাওড়াডোমজুড়মাকড়দহজমা জলে যুবকের দেহ উদ্ধার, ডোমজুড়ের মাকড়দহে চাঞ্চল্য

জমা জলে যুবকের দেহ উদ্ধার, ডোমজুড়ের মাকড়দহে চাঞ্চল্য

নিউজ ডেস্ক; টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হাওড়ার ডোমজুড়ের মাকড়দহ এলাকায় জমা জলের মধ্যে এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার
resizeplus_eisamay_2026-09-02_368nh2ob_Howrah-News

নিউজ ডেস্ক; টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হাওড়ার ডোমজুড়ের মাকড়দহ এলাকায় জমা জলের মধ্যে এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার দুপুরে মাকড়দহ ব্যানার্জিপাড়া এলাকায় রাস্তার ধারে জমে থাকা জলে ওই যুবকের দেহ ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে বাড়ির উঠোনে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক এসে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতের নাম সহদেব বাছার। বয়স ৩২ বছর।

তবে ঠিক কী কারণে সহদেবের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশের তরফে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। মাকড়দহ থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বুধবার বাজার করে বাড়ি ফিরছিলেন সহদেব। বাড়ির কাছাকাছি আসার পর তাঁকে জমা জলের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রথমে স্থানীয়রাই বিষয়টি দেখতে পান। তাঁরা তড়িঘড়ি ওই যুবককে জল থেকে তুলে বাড়ির উঠোনে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসককে খবর দেওয়া হলে তিনি এসে সহদেবকে মৃত বলে জানান।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। সহদেবের পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। কী ভাবে ওই যুবক জলে পড়লেন, পড়ে যাওয়ার আগে তাঁর শারীরিক কোনও সমস্যা হয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনও কারণে মৃত্যু হয়েছে—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ইন্দ্রজিৎ মুখোপাধ্যায় জানান, সহদেব ওই এলাকারই বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, সহদেবের মৃগী রোগ ছিল। বাজার করে বাড়ি ফেরার সময়ে রাস্তায় তাঁর কোনও শারীরিক সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। সেই অবস্থাতেই তিনি জমা জলের মধ্যে পড়ে যান বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে এই বক্তব্য এখনও পুলিশের তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সামনে এসেছে মাকড়দহ ব্যানার্জিপাড়া এলাকার দীর্ঘদিনের জল জমার সমস্যা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে বর্ষা এলেই ওই এলাকায় জল জমে যায়। সামান্য বৃষ্টিতেও রাস্তাঘাট ডুবে থাকে। গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান জল, কোথাও আবার বাড়ির উঠোন এবং রাস্তার সঙ্গে জল একাকার হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ।

এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, জল জমে থাকার কারণে সাধারণ মানুষের চলাফেরায় চরম সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বাজার, স্কুল, কর্মস্থল কিংবা চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। রাস্তার কোথায় গর্ত রয়েছে, কোথায় নিকাশি নালা রয়েছে, আর কোথায় রাস্তার অংশ ভেঙে গিয়েছে—জলের তলায় সবই ঢাকা পড়ে থাকছে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যার কথা প্রশাসনকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় কার্যকর নিকাশি ব্যবস্থা নেই। বর্ষা এলেই বাসিন্দাদের জলবন্দি হয়ে দিন কাটাতে হয়। জমা জল সরানোর জন্য সাময়িক ভাবে পাম্প চালানো হলেও বৃষ্টি থামার পরেও অনেক জায়গায় জল থেকে যায়। ফলে দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জল জমে থাকায় মশার উপদ্রবও বেড়ে যায়। পচা জল এবং নোংরা পরিবেশে নানা ধরনের রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। তার উপর বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা এলাকা বা রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটি থাকায় জমা জলের মধ্যে চলাচল করা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। সহদেবের মৃত্যুর পর সেই আশঙ্কাই আরও তীব্র হয়েছে।

পুলিশ আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা ধরে তদন্ত শুরু করেছে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর পাশাপাশি পরিবারের সদস্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। সহদেবের শারীরিক অসুস্থতার কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি রয়েছে কি না, মৃত্যুর আগে তিনি কোথায় ছিলেন এবং কী ভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন—সেই সব তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রশাসনের তরফে এখনও জল জমার সমস্যা নিয়ে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাময়িক ভাবে জল সরানোর বদলে স্থায়ী নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। নিকাশি নালা সংস্কার, জল বেরোনোর পথ পরিষ্কার রাখা এবং নিচু এলাকাগুলিতে দ্রুত জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে প্রতি বর্ষাতেই একই দুর্ভোগ চলবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

সহদেবের মৃত্যু দুর্ঘটনা, অসুস্থতাজনিত ঘটনা, নাকি অন্য কোনও কারণে হয়েছে—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। কিন্তু এই ঘটনা মাকড়দহের জল জমার দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাকে ফের প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে দ্রুত জল নিষ্কাশনের পাশাপাশি এলাকার রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থার স্থায়ী সংস্কার করতে হবে।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved