Homeপূর্ব মেদিনীপুরতমলুকতমলুকে শুরু আধার সেবা কেন্দ্র, মিলবে নতুন আধার থেকে তথ্য সংশোধনের সব পরিষেবা

তমলুকে শুরু আধার সেবা কেন্দ্র, মিলবে নতুন আধার থেকে তথ্য সংশোধনের সব পরিষেবা

নিউজ ডেস্ক; আধার সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে চালু হল নতুন আধার সেবা কেন্দ্র। নতুন আধার তৈরি, আধারে
Screenshot 2026-08-29 171947_edited

নিউজ ডেস্ক; আধার সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে চালু হল নতুন আধার সেবা কেন্দ্র। নতুন আধার তৈরি, আধারে থাকা বিভিন্ন তথ্য সংশোধন থেকে শুরু করে শিশুদের আধার সংক্রান্ত পরিষেবা—এক ছাদের তলায় একাধিক সুবিধা মিলবে এই কেন্দ্রে। গত ২০ অগস্ট থেকে তমলুকের আবাসবাড়ি এলাকায় পরিষেবা চালু হয়েছে। কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তমলুকের বিধায়ক হরেকৃষ্ণ বেরা এবং জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার।

দীর্ঘদিন ধরেই আধার কার্ড সংক্রান্ত নানা কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে একাধিক জায়গায় ঘুরতে হয় বলে অভিযোগ ছিল। নামের বানান সংশোধন, জন্মতারিখে ভুল, ঠিকানা পরিবর্তন কিংবা নতুন করে আধার তৈরির মতো পরিষেবার জন্য অনেক সময় দূরের কেন্দ্রে যেতে হত নাগরিকদের। তমলুকে নতুন আধার সেবা কেন্দ্র চালু হওয়ায় সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

ইউআইডিএআই-এর স্টেট অফিসের ডিরেক্টর শুভদীপ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই কেন্দ্রে আধার সংক্রান্ত প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা পাওয়া যাবে। নতুন আধার তৈরি করার পাশাপাশি আধারে থাকা নাম, জন্মতারিখ-সহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের সুযোগও থাকছে। শিশুদের আধার তৈরির ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে একটি কেন্দ্র থেকেই পরিবারের একাধিক সদস্যের আধার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ করার সুযোগ পাবেন বাসিন্দারা।

শুধু সাধারণ পরিষেবাই নয়, আধার নিয়ে কোনও জটিলতা তৈরি হলেও প্রাথমিক ভাবে এই কেন্দ্র থেকেই তার সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। কোনও সমস্যা স্থানীয় স্তরে মেটানো সম্ভব না হলে কলকাতার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে নাগরিকেরা আধার সংক্রান্ত সরকারি হেল্পলাইন নম্বর ১৯৪৭-এও যোগাযোগ করতে পারবেন।

নতুন কেন্দ্রটির পরিষেবা দেওয়ার ক্ষমতাও যথেষ্ট বেশি। আধিকারিকদের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ জন নাগরিককে পরিষেবা দেওয়ার পরিকাঠামো রয়েছে এখানে। ভবিষ্যতে মানুষের ভিড় এবং চাহিদা বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কিট বা পরিষেবা পরিকাঠামো বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে আধার সংক্রান্ত কাজের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার সময় কমবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

এই কেন্দ্রের পরিষেবা চালুর পাশাপাশি শিশুদের আধার নিয়ে বিশেষ বার্তাও দিয়েছে প্রশাসন। আধার ব্যবস্থায় শিশুদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়োমেট্রিক তথ্য আপডেট করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, পাঁচ বছর বয়সে এবং পরবর্তী সময়ে ১৫ বছর বয়সে শিশুদের বাধ্যতামূলক ভাবে বায়োমেট্রিক আপডেট করাতে হবে। নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে এই আপডেট করালে কোনও চার্জ দিতে হবে না।

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ থেকে সাত বছর এবং ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে শিশুদের বায়োমেট্রিক আপডেট বিনামূল্যে করা হবে। তাই অভিভাবকদের নির্দিষ্ট বয়সসীমার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সময়মতো শিশুর আধারে প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য আপডেট না করলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন পরিষেবা পেতে সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন আধিকারিকেরা।

তমলুকের এই আধার সেবা কেন্দ্র সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকবে। সোমবার থেকে রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পরিষেবা পাওয়া যাবে। তবে জাতীয় ছুটি এবং নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উৎসবের দিনগুলিতে কেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে। ফলে পরিষেবা নিতে যাওয়ার আগে ছুটির দিন সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ আধার তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে নাগরিকদের নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। কোন ধরনের তথ্য সংশোধন করা হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় নথির ধরনও আলাদা হতে পারে। আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, আবেদন এবং নথি যাচাইয়ের পরে সংশোধিত তথ্য আপডেট হতে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

প্রশাসনের লক্ষ্য, শুধু আধার তৈরি বা সংশোধনের পরিষেবা দেওয়া নয়, নাগরিকদের আধার সংক্রান্ত জটিলতার দ্রুত সমাধানের জন্য স্থানীয় স্তরে একটি নির্ভরযোগ্য পরিষেবা ব্যবস্থা তৈরি করা। বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু এবং দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে স্থানীয় আধার কেন্দ্র চালু হওয়ায় যাতায়াতের ঝক্কি কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, তমলুকে এই কেন্দ্র চালুর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে মহকুমাভিত্তিক আরও আধার কেন্দ্র খোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অর্থাৎ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আধার পরিষেবা আরও সহজলভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।

আধার বর্তমানে সরকারি পরিষেবা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আর্থিক ও নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে আধারে থাকা তথ্য সঠিক এবং হালনাগাদ রাখা সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কেন্দ্র চালু হওয়ায় তমলুক ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সেই কাজ অনেক সহজ হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

বিশেষ করে শিশুদের বায়োমেট্রিক আপডেটের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আধিকারিকেরা। অনেক অভিভাবকই শিশুর ছোট বয়সে আধার তৈরি করার পর পরবর্তী আপডেটের প্রয়োজনীয়তার কথা ভুলে যান। তমলুকের নতুন কেন্দ্র সেই পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—আধার সংক্রান্ত কাজ ফেলে না রেখে প্রয়োজনীয় বয়স ও সময় অনুযায়ী আপডেট করানো এবং সংশোধনের ক্ষেত্রে সঠিক নথি নিয়ে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত। তমলুকে প্রতিদিন কয়েকশো মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো থাকায় আধার সংক্রান্ত সমস্যায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved