Last updated: August 14th, 2026 at 05:47 am

নিউজ ডেস্ক: বাঙালি মনন ও জাতীয় আবেগের মহানায়ক দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে টানা অসংলগ্ন ও অপমানজনক মন্তব্যের কঠোর শাস্তি পেলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্রনাথ রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফে জারি করা এক অভূতপূর্ব নির্দেশিকায় তাঁর ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কাড়িয়া নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। নিজ দলেরই সাংসদের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকারের এই কড়া ও নজিরবিহীন পদক্ষেপে চরম রাজনৈতিক খোলস ছেড়ে বেরিয়েছে বিতর্ক। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নেতাজির মতো মহান ব্যক্তিত্বকে অসম্মান করা ব্যক্তির কাছে এই সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান থাকা বঙ্গবিভূষণের মর্যাদার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অনন্ত মহারাজের পাশাপাশি তাঁর অনুগামীরা সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নেতাজিকে নিয়ে শালীনতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে কুরুচিকর প্রচার চালাচ্ছিল, যার ফলে সমগ্র রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছিল তীব্র গণবিক্ষোভ। এই আবহেই বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার নিউ আলিপুরের ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলা এলাকায় একটি নেতাজি মূর্তির ডান হাত ভাঙার ঘটনা সামনে এলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়।
ঘটনার জল গড়ালে নবান্ন থেকে সরাসরি কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, নেতাজির ঐতিহ্য নিয়ে খেলা করা কাউকে বরদাস্ত করা হবে না এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর পোস্টকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। কলকাতা ও জেলাগুলির পুলিশ সাইবার সেল গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সামাজিক মাধ্যম থেকে ১৩০টি বিতর্কিত ও আপত্তিকর পোস্ট মুছে দিয়েছে, যার বড় অংশই কোচবিহারের অনন্ত-অনুগামীদের তৈরি। পাশাপাশি, সামাজিক মাধ্যমে অবমাননাকর পোস্ট করার অভিযোগে কোচবিহারের পিন্টু রায়, কৃষ্ণ কারজি এবং উত্তর দিনাজপুরের কিরণ কুমার দাস সহ মোট ৪ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। রাজ্যজুড়ে এখন পর্যন্ত মোট ৯টি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, অনন্ত মহারাজের রাজ্যসভার সাংসদ পদ বাতিল ও তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তবে এই বিশাল বিতর্কের মাঝেও অনড় ও বেপরোয়া অনন্ত মহারাজ। তাঁর বিতর্কিত সাফাই, “আমাকে কেন গ্রেপ্তার করা হবে? গ্রেপ্তার করার হলে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে করা হোক। নেতাজি যে আজাদ হিন্দ ফৌজ বানাননি, তা আর্কাইভের নথিই বলে এবং অমিত শাহও তা জানেন।”
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments