Homeকলকাতাকনস্টেবল নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে তোলাবাজি রুখতে কড়া এসিবি

কনস্টেবল নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে তোলাবাজি রুখতে কড়া এসিবি

eisamay_2026-10-03_bate2g3c_policwwa (1)

নিউজ ডেস্ক: রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘সিএ ভেরিফিকেশন’-এর নামে টাকা দাবি বা বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ করল অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ বা এসিবি। সদ্য নির্বাচিত কনস্টেবলদের চরিত্র ও পূর্ব ইতিহাস যাচাইয়ের সময় কোনও চাকরিপ্রার্থী বা তাঁর পরিবারের কাছ থেকে যাতে ঘুষ বা অন্য কোনও বেআইনি সুবিধা দাবি করা না হয়, সে বিষয়ে রাজ্যের সমস্ত পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপারদের সতর্ক করা হয়েছে।

এসিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য পুলিশের পুলিশ সুপার কামনাশিস সেনের নামাঙ্কিত প্যাডে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রাজ্য জুড়ে কনস্টেবল পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের ‘সিএ ভেরিফিকেশন’ প্রক্রিয়া চলছে। এই যাচাইয়ের সঙ্গে যুক্ত ডিআইবি বা ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের আধিকারিক এবং অন্যান্য পুলিশকর্মীদের স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভেরিফিকেশনের কোনও পর্যায়েই যাতে অবৈধ আর্থিক লেনদেন বা কোনও ধরনের ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ না ওঠে।

এসিবির নির্দেশিকায় শুধু সতর্ক করাই নয়, অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাকেও আরও সহজ করার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নির্দিষ্ট হেল্পলাইন বা মোবাইল নম্বর প্রকাশ্যে টাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও সেই যোগাযোগের নম্বর প্রচার করতে বলা হয়েছে। এর ফলে ভেরিফিকেশনের সময় কোনও প্রার্থীর কাছে টাকা দাবি করা হলে তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

এসিবি আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের বিরুদ্ধে ভেরিফিকেশনের নামে টাকা চাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা আধিকারিকের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য, নিয়োগের শেষ ধাপের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং চাকরিপ্রার্থীদের কোনও ধরনের হয়রানি বা আর্থিক চাপ থেকে দূরে রাখা।

এদিকে, রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই নানা কারণে আলোচনায় রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের ২০২৪ সালের কনস্টেবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অন্য দিকে, কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল ও লেডি কনস্টেবল নিয়োগ নিয়েও বর্তমানে বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে।

এই পরিস্থিতিতে নিয়োগের ভেরিফিকেশন পর্বে এসিবির এই সতর্কবার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া বা বেআইনি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তা জানানোর সুযোগ তৈরি করাই এই নির্দেশিকার অন্যতম লক্ষ্য। এখন দেখার, মাঠপর্যায়ে এই নজরদারি কতটা কার্যকর হয় এবং ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ভাবে সম্পন্ন করা যায়।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved