
নিউজ ডেস্ক: পুজোর মুখে ফেরি পরিষেবা বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়লেন হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে জলপথে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রীরা। বোনাস ও বকেয়া বেতন মেটানোর দাবিতে বুধবার থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। আগেই এই কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কর্মীদের অভিযোগ।
বুধবার দুপুর থেকেই ফেরিঘাটের বাইরে আটকে পড়েন বহু যাত্রী। ঘাটে ঢোকার মুখে কোলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে লঞ্চ ধরতে এসে গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় ছিল না যাত্রীদের। পুজোর কেনাকাটা, কাজের প্রয়োজনে যাতায়াত কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নদী পারাপার—সব ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ।
ফেরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের অভিযোগ, বোনাস এবং বকেয়া বেতন মেটানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানানো হলেও প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়নি। তাঁদের দাবি, বারবার বিষয়টি জানানোর পরেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তাঁরা পরিষেবা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
কর্মীদের বক্তব্য, বকেয়া পাওনা না মিটলে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন। সেই কারণেই বুধবার থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরিষেবা কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি।
বুধবার দুপুরে ফেরিঘাটে গিয়ে বহু যাত্রীকে লঞ্চের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বারবার গেট খোলার অনুরোধ জানান তাঁরা। কয়েকজন যাত্রী কর্মীদের কাছে লঞ্চ চালানোর আবেদনও করেন। কিন্তু তাতেও পরিষেবা শুরু হয়নি বলে অভিযোগ।
এক সময়ে যাত্রীদের সঙ্গে ফেরিঘাটের কর্মীদের বচসা শুরু হয়। আচমকা পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। তাঁদের অভিযোগ, লঞ্চ চলবে কি না, তা নিয়ে আগে থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। ফলে ঘাটে পৌঁছে বিপাকে পড়তে হয়েছে তাঁদের।
যাত্রী বলদেব হাজরা বলেন, “খুব অসুবিধা হয়েছে। হঠাৎ করে বন্ধ করে দিল। কী কারণে বন্ধ করল, সেটাও কিছু বলছে না।”
অন্য এক যাত্রী জয়ন্তী সিংয়ের অভিজ্ঞতাও একই রকম। তাঁর কথায়, প্রথমে লঞ্চ ছাড়ার সময় জানতে চাইলে তাঁকে দুপুর ২টোর কথা বলা হয়েছিল। পরে টিকিট কাউন্টারে গিয়ে খুচরো টাকা দিতে বলা হয়। খুচরো জোগাড় করে ফিরে এসে তিনি দেখেন, কাউন্টার বন্ধ এবং লঞ্চ চলবে না বলে জানানো হচ্ছে। ছোট শিশুকে সঙ্গে নিয়ে কী ভাবে আহিরীটোলা পৌঁছবেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি।
পুজোর আগে হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে যাত্রী চলাচল বাড়ে। এই সময়ে ফেরি পরিষেবা বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় ও খরচের মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত নদী পারাপারের জন্য লঞ্চের উপর নির্ভর করেন, তাঁদের সমস্যার আশঙ্কা বেশি।
কর্মীদের বেতন ও বোনাস সংক্রান্ত দাবি এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ—দুই বিষয়েই দ্রুত সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে। এখন নজর প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে। আলোচনা করে পরিষেবা কবে চালু করা যায়, তা-ই দেখার। তত দিন ফেরিঘাটে আসার আগে পরিষেবার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়া যাত্রীদের জন্য জরুরি।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments