
নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রূপনারায়ণপুরের হিন্দুস্তান কেবলস কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত পাম্প অ্যান্ড কম্প্রেসার লিমিটেড (বিপিসিএল) এই কারখানা অধিগ্রহণ করতে পারে বলে খবর। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা করতে নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প মন্ত্রক এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের মধ্যে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
কারখানাটি অধিগ্রহণের সম্ভাবনা ঘিরে স্থানীয় শিল্পমহল ও বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত অধিগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। প্রস্তাবিত বৈঠকে জমি, সম্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সূত্রের খবর, গত ৬ অক্টোবর দিল্লির ন্যাশনাল করিডোর ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের সিইও তথা সিএমডি রজতকুমার শাইনি-সহ রাজ্যের আধিকারিকরা হিন্দুস্তান কেবলসের জমি সংক্রান্ত নথি কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প মন্ত্রকের কাছে জমা দেন। জমির বিস্তারিত বিবরণ, মানচিত্র এবং কোথায় কোথায় জমি জবরদখল হয়ে রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই তথ্যও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বন্ধ কারখানাটির জমি ও সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা অধিগ্রহণের সম্ভাব্য প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বৈঠকে এই নথিগুলি নিয়ে আলোচনা হলে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে স্পষ্টতা আসতে পারে।
উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের নৈনিতে অবস্থিত ভারত পাম্প অ্যান্ড কম্প্রেসার লিমিটেড কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প মন্ত্রকের অধীনস্থ একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। পাম্প ও কম্প্রেসার তৈরির ক্ষেত্রে সংস্থাটির পরিচিতি রয়েছে। তাদের উৎপাদিত যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে রেসিপ্রোকেটিং পাম্প, সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প, রেসিপ্রোকেটিং কম্প্রেসার এবং উচ্চচাপের সিমলেস গ্যাস সিলিন্ডার।
তেল ও গ্যাস শিল্প-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। ফলে হিন্দুস্তান কেবলসের জমি ও পরিকাঠামো অধিগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলে, সেখানে ভবিষ্যতে কী ধরনের শিল্পকার্য হতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও হিন্দুস্তান কেবলসের জমিতে নতুন করে কী উৎপাদন বা শিল্প প্রকল্প গড়ে তোলা হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনার কথা সামনে আসেনি।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হিন্দুস্তান কেবলস একসময় এলাকার শিল্পপরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন কোনও উদ্যোগের সম্ভাবনা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়তে পারে এলাকার অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত আলোচনায়। তবে অধিগ্রহণের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে কি না, হলে কী ধরনের প্রকল্প নেওয়া হবে এবং স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।
নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রস্তাবিত বৈঠকের দিকেই এখন নজর। বৈঠকের পর কারখানার জমি ও পরিকাঠামো নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে। আপাতত অধিগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments