Homeদেশনির্বাচন কমিশন নিয়ে আদালতের আরও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে প্রাক্তন বিচারপতি কুরিয়েন জোসেফ

নির্বাচন কমিশন নিয়ে আদালতের আরও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে প্রাক্তন বিচারপতি কুরিয়েন জোসেফ

eisamay_2026-08-04_v0vn1yrz_Court

নিউজ ডেস্ক: দেশের নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের আবহে আদালতের ভূমিকা সম্পর্কে সরব হলেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কুরিয়েন জোসেফ। তাঁর বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে আদালত শুধুমাত্র উদ্বেগ প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ করতে পারে না। গণতন্ত্র রক্ষায় বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশিত ফল না দিলে আরও বলিষ্ঠ পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।

মঙ্গলবার কেরল হাইকোর্টের চেম্বার কমপ্লেক্সে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব লইয়ার্স’ (আইএএল)-এর উদ্যোগে আয়োজিত একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তিনি। সম্মেলনের বিষয় ছিল, ‘ভারতের নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা কি বিপন্ন?’ সেখানে নির্বাচন কমিশনের স্বশাসন, সাংবিধানিক পদাধিকারীদের নিরপেক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আদালতের ভূমিকা নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন প্রাক্তন বিচারপতি।

আদালতের ভূমিকা নিয়ে কী বললেন?

কুরিয়েন জোসেফ একটি ইংরেজি প্রবাদ উল্লেখ করেন— ‘বার্কিং ডগ সেলডম বাইটস’। অর্থাৎ, যে কুকুর ঘেউ ঘেউ করে, সে সচরাচর কামড়ায় না। এই প্রবাদের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বোঝাতে চান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার ক্ষেত্রে শুধু সতর্কবার্তা বা উদ্বেগ প্রকাশ যথেষ্ট নাও হতে পারে। তাঁর মতে, সুপ্রিম কোর্টের সতর্কবার্তায় যদি প্রত্যাশিত ফল না আসে, তা হলে গণতন্ত্রের স্বার্থে আরও কার্যকর পদক্ষেপের কথা ভাবতে হবে।

তবে তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা রক্ষায় আদালতের দায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিচারবিভাগের ভূমিকা নিয়ে এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে আলোচনা চলছে।

নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

কুরিয়েন জোসেফের বক্তব্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কেবল একজন ব্যক্তি নন; তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকেন। সেই পদে থাকা ব্যক্তির সততা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার প্রভাব নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং স্বাধীনতার উপর পড়তে পারে।

নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখতে কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও এই বিতর্কে উঠে আসছে।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ পদ্ধতি এবং চাকরির শর্তাবলিতে সাংবিধানিক সংশোধনের পক্ষে মত দিয়েছেন কুরিয়েন জোসেফ। তাঁর মতে, কমিশনের স্বশাসন সুনিশ্চিত করার জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।

ভোটাধিকার নিয়েও চলছে বিতর্ক

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া মন্তব্য করেছিলেন, কোনও প্রক্রিয়ায় যদি লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার বাতিল হয়ে যায়, তা হলে প্রশাসন বা বিচারব্যবস্থা সেই পরিস্থিতিকে অনুমোদন দিতে পারে না। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রোহিংটন নরিম্যানও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবি এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যে কুরিয়েন জোসেফের মন্তব্য নতুন করে বিচারবিভাগের দায়িত্ব ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার প্রশ্নকে সামনে এনেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, নিয়োগ পদ্ধতি এবং ভোটাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কের নিষ্পত্তি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও আইনি পদক্ষেপের উপর।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved