
নিউজ ডেস্ক: আলিপুরদুয়ারে প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ ঘিরে শুরুতেই তৈরি হল বিতর্ক। মাঝেরডাবরি চা-বাগানের জমিতে নির্মাণকাজের সম্ভাবনা সামনে আসতেই আপত্তি জানালেন বাগানের শ্রমিকদের একাংশ। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, চা-বাগানের জমি নষ্ট করে কোনও নির্মাণকাজ করা চলবে না। এই দাবিকে সামনে রেখেই বুধবার সকালে জমি জরিপের কাজে আসা জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের বাধা দেন শ্রমিকরা। পরে বাগানের ফ্যাক্টরির সামনে জমায়েত করে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা।
প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হলেও জমি ব্যবহারের প্রশ্নে শ্রমিকদের আপত্তি সামনে এসেছে। তাঁদের বক্তব্য, বাগানের যে জমি বর্তমানে পতিত অবস্থায় রয়েছে, সেখানে চা-গাছ লাগানো হোক। সেই জমিতে অন্য কোনও প্রকল্পের জন্য নির্মাণকাজ তাঁরা মেনে নিতে রাজি নন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা মাঝেরডাবরি চা-বাগানের সংশ্লিষ্ট জমি জরিপ করতে যান। সেই সময়ই শ্রমিকরা কাজে বাধা দেন। তাঁদের আপত্তির জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর শ্রমিকরা বাগানের ফ্যাক্টরির সামনে জড়ো হতে শুরু করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন চা-বাগানের জেনারেল ম্যানেজার চিন্ময় ধর। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। তাঁদের দাবি, বাগানের জমি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শ্রমিকদের স্বার্থ এবং জমির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের বক্তব্য, মাঝেরডাবরি চা-বাগানের যে জমিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেখানে নতুন করে চা-গাছ লাগানো উচিত। তাঁদের আশঙ্কা, ওই জমিতে নির্মাণকাজ শুরু হলে চা-বাগানের জমির পরিমাণ কমে যেতে পারে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে বাগানের ভবিষ্যতের উপর।
চা-বাগানের সঙ্গে বহু শ্রমিক পরিবারের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। তাই জমি ব্যবহারের বিষয়টি তাঁদের কাছে শুধু নির্মাণকাজের প্রশ্ন নয়, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ জীবিকার সঙ্গেও সম্পর্কিত। সেই কারণেই প্রশাসনের জমি জরিপের সময় তাঁরা আপত্তি জানান বলে জানা গিয়েছে।
বিক্ষোভের সময় শ্রমিকরা জেলাশাসক ময়ূরী ভাসুর কাছে তাঁদের আপত্তির কথা লিখিতভাবে জানানোর দাবি তোলেন। জমি নিয়ে তাঁদের বক্তব্য প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে পৌঁছক, এমনটাই চাইছেন তাঁরা।
তবে প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য ঠিক কতটা জমি প্রয়োজন, জমির মালিকানা ও ব্যবহারের বর্তমান আইনি অবস্থান কী এবং শ্রমিকদের আপত্তির বিষয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করবে—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের তরফে পরবর্তী কোনও সিদ্ধান্ত বা বিস্তারিত বক্তব্য সামনে এলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
একদিকে আলিপুরদুয়ারে চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনা, অন্যদিকে চা-বাগানের জমি ও শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষার দাবি—দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় কী ভাবে হবে, এখন সেটাই দেখার। জমি নিয়ে আপত্তির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত প্রকল্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments