Last updated: October 5th, 2026 at 08:27 pm

নিউজ ডেস্ক: আলিপুরদুয়ার, উত্তরবঙ্গরেললাইনে হাতির মৃত্যু ঠেকাতে প্রযুক্তির সঙ্গে প্রকৃতির কৌশলকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে সাফল্য পেল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। AI-ভিত্তিক নজরদারি থেকে শুরু করে মৌমাছির গুঞ্জনের শব্দ—একাধিক পদ্ধতির সমন্বয়ে চলতি বছরের প্রথম ন’মাসে ২৫৫টি হাতিকে সম্ভাব্য ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে Northeast Frontier Railway বা NFR। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আলিপুরদুয়ার, রঙ্গিয়া, লামডিং এবং তিনসুকিয়া ডিভিশনে এই সাফল্য এসেছে।
রেলের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি হাতিকে রক্ষা করা হয়েছে অসমের লামডিং ডিভিশনে—১২২টি। এর পরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ডিভিশন, যেখানে ১০৬টি হাতিকে সময়মতো হস্তক্ষেপ করে রেললাইনের বিপদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রঙ্গিয়ায় ১৪টি এবং তিনসুকিয়ায় ১৫টি হাতিকে রক্ষা করা হয়েছে।
এই গোটা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে AI-ভিত্তিক Intrusion Detection System বা IDS। Distributed Acoustic System বা DAS প্রযুক্তির সাহায্যে রেললাইনের আশপাশে হাতির গতিবিধি শনাক্ত করা যায়। হাতির উপস্থিতি ধরা পড়লেই সংশ্লিষ্ট রেলকর্মীদের কাছে পৌঁছে যায় সতর্কবার্তা। ফলে দ্রুত ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
তবে শুধু AI নয়, হাতিকে রেললাইন থেকে দূরে রাখতেও অভিনব পদ্ধতি নিয়েছে রেল। ব্যবহার করা হচ্ছে ‘Plan Bee’। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট এলাকায় কৃত্রিম ভাবে মৌমাছির গুঞ্জনের শব্দ তৈরি করা হয়। হাতি সাধারণত মৌমাছির ঝাঁক এড়িয়ে চলে। সেই স্বাভাবিক আচরণকে কাজে লাগিয়েই হাতির পালকে রেললাইন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি হাতি চলাচলের এলাকায় রাতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী ভাবে ট্রেনের গতি কমানো হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ও টহল। রেললাইনের ধারের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা, সতর্কতামূলক বোর্ড বসানো এবং চালক ও রেলকর্মীদের সচেতন করার কাজও চলছে। বন দফতরের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ রেখে হাতির গতিবিধির খবর আদানপ্রদান করা হচ্ছে।
হাতিদের নিরাপদে রেললাইন পারাপারের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আন্ডারপাস তৈরির কাজও চলছে। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে খাবারের বর্জ্য না ফেলার জন্য যাত্রী, ট্রেনকর্মী এবং প্যান্ট্রি কার কর্মীদের সচেতন করা হচ্ছে। কারণ খাবারের গন্ধে হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী রেললাইনের কাছাকাছি চলে আসতে পারে।
উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশ হাতির গুরুত্বপূর্ণ করিডরের মধ্যে পড়ে। সেই কারণে ট্রেনের সঙ্গে হাতির সংঘর্ষ দীর্ঘদিনের উদ্বেগ। NFR-এর দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গতি নিয়ন্ত্রণ, মাঠপর্যায়ের সতর্কতা এবং বন দফতরের সঙ্গে সমন্বয়—সবকিছুকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়েই এই ২৫৫টি প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments