Homeঅন্যান্যসোশ্যাল মিডিয়ার চ্যাটেই প্রমাণ নয়, স্ত্রী বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে কি না, খোরপোশ মামলায় জানাল হাইকোর্ট

সোশ্যাল মিডিয়ার চ্যাটেই প্রমাণ নয়, স্ত্রী বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে কি না, খোরপোশ মামলায় জানাল হাইকোর্ট

eisamay_2026-10-03_6on7wv6g_New-Project-2026-10-03T114521.156

নিউজ ডেস্ক: শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় কথোপকথন বা চ্যাটের ভিত্তিতে কোনও স্ত্রী বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে রয়েছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। খোরপোশ সংক্রান্ত একটি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, স্ত্রীকে খোরপোশ থেকে বঞ্চিত করতে হলে তাঁর ‘অ্যাডাল্টারি’ বা বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে থাকার অভিযোগের পক্ষে আরও নির্ভরযোগ্য ও সমর্থনকারী প্রমাণ প্রয়োজন। শুধু ইনস্টাগ্রাম বা অন্য কোনও সোশ্যাল মিডিয়ার বার্তা সেই অভিযোগ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।

মামলায় স্বামীর অভিযোগ ছিল, তাঁর স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে রয়েছেন। সেই সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় হওয়া কথোপকথনের উল্লেখ করা হয়। স্বামীর বক্তব্য ছিল, ওই চ্যাট থেকে স্ত্রীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট। সেই কারণে তাঁকে খোরপোশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও দাবি করা হয়।

তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র ডিজিটাল কথোপকথন থেকেই কোনও ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বা একসঙ্গে বসবাসের বিষয়টি নিশ্চিত ভাবে প্রমাণিত হয় না। বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে চ্যাটের পাশাপাশি তার সমর্থনে অন্য প্রমাণও থাকা প্রয়োজন।

আদালতের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার বার্তায় ঘনিষ্ঠতা, বন্ধুত্ব কিংবা ব্যক্তিগত কথাবার্তার ইঙ্গিত থাকতে পারে। কিন্তু সেগুলিকে সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। ফলে কোনও স্ত্রীর খোরপোশের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতকে আরও সতর্ক হতে হবে।

বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ অবশ্যই গুরুতর—এ কথাও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। কিন্তু এমন অভিযোগ শুধু অনুমান, সন্দেহ বা বিচ্ছিন্ন কিছু ডিজিটাল বার্তার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিশ্বাসযোগ্য অতিরিক্ত প্রমাণ থাকা জরুরি।

এই রায়ের ফলে খোরপোশ সংক্রান্ত মামলায় সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাটের প্রমাণমূল্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এল। ডিজিটাল যোগাযোগ এখন বিবাহবিচ্ছেদ এবং পারিবারিক বিবাদের মামলায় প্রায়ই প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হচ্ছে। কিন্তু সেই চ্যাটের বিষয়বস্তু কী, তার প্রেক্ষাপট কী এবং সেটি আদৌ অভিযোগকে সমর্থন করছে কি না—সব দিক বিচার করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এর আগেও বিভিন্ন আদালত বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। জুলাই ২০২৬-এর একটি মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টও বলেছিল, শুধু অভিযোগ করলেই হবে না, বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন।

ফলে সাম্প্রতিক এই পর্যবেক্ষণ শুধু একটি খোরপোশ মামলার ক্ষেত্রেই নয়, ভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়ার চ্যাটকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দাম্পত্য বিরোধের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আদালতের বার্তা স্পষ্ট—ডিজিটাল কথোপকথন থাকলেই তা বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের চূড়ান্ত প্রমাণ হয়ে যায় না।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved