Last updated: October 8th, 2026 at 04:52 pm

নিউজ ডেস্ক : কলকাতা এক সময় যে প্রেক্ষাগৃহের সামনে সন্ধ্যা নামলেই ভিড় জমত, টিকিটের জন্য লম্বা লাইন পড়ত, সেই চেনা ছবিটা এখন অনেকটাই স্মৃতি। সময়ের সঙ্গে বদলেছে শহর, বদলেছে বিনোদনের মাধ্যমও। একের পর এক পুরনো সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হারিয়ে যাচ্ছে কলকাতার চলচ্চিত্র-সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে সেই হারিয়ে যাওয়া নস্টালজিয়াকে ফেরানোর উদ্যোগে আশার আলো দেখাচ্ছে একটি পুরনো চিত্রালয়।
বহুদিনের অবহেলা ও সময়ের ধাক্কায় জীর্ণ হয়ে পড়া প্রেক্ষাগৃহটির এখন প্রায় কঙ্কালসার অবস্থা। দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, বহু জায়গায় ভাঙনের চিহ্ন স্পষ্ট। এক সময় যেখানে রুপোলি পর্দায় সিনেমার আলো ঝলমল করত, সেখানে এখন নীরবতা। তবু সেই কাঠামোর মধ্যেই যেন টিকে রয়েছে পুরনো দিনের স্মৃতি। আর সেই স্মৃতিকেই নতুন করে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
চিত্রালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক প্রজন্মের মানুষের আবেগ। কারও কাছে এটি প্রথম সিনেমা দেখার জায়গা, কারও কাছে কলেজজীবনের আড্ডার ঠিকানা, আবার কারও কাছে পরিবারের সঙ্গে ছুটির দিনে সিনেমা দেখার স্মৃতি। শহরের বদলে যাওয়া জীবনযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে সেই অভ্যাস হারিয়ে গেলেও পুরনো প্রেক্ষাগৃহের নাম শুনলেই এখনও অনেকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই সময়ের ছবি।
বর্তমানে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাও অনেকটাই বদলে গিয়েছে। মাল্টিপ্লেক্স, অনলাইন স্ট্রিমিং এবং বাড়িতে বসে সিনেমা দেখার সুযোগের ফলে একক পর্দার হলগুলির গুরুত্ব কমেছে। একের পর এক পুরনো হল বন্ধ হয়েছে, কোথাও তৈরি হয়েছে বহুতল, কোথাও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। ফলে ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলগুলির অস্তিত্ব রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতিতে পুরনো চিত্রালয়কে ফেরানোর উদ্যোগ নিছক একটি ভবন পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা নয় বলেই মনে করছেন অনেকে। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শহরের সাংস্কৃতিক ইতিহাসও। পুরনো স্থাপত্যের চরিত্র যতটা সম্ভব ধরে রেখে আধুনিক দর্শকের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রেক্ষাগৃহকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা, দর্শক পরিষেবা, প্রযুক্তি এবং আরামদায়ক পরিবেশ—সব দিকেই গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে পুনর্গঠনের কাজ কতটা দ্রুত এগোয়, সেটাই এখন দেখার। জীর্ণ কাঠামোকে নতুন রূপ দেওয়ার পথে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক একাধিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। পুরনো স্থাপত্যের স্মৃতি অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করাই হতে পারে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
শহরের প্রবীণদের কাছে এই প্রত্যাবর্তনের অর্থ অবশ্য আরও গভীর। তাঁদের কাছে এটি শুধু একটি সিনেমা হলের ফিরে আসা নয়, বরং হারিয়ে যেতে বসা একটি সময়ের পুনরাগমন। নতুন প্রজন্ম হয়তো আধুনিক প্রেক্ষাগৃহের ঝাঁ-চকচকে পরিবেশে অভ্যস্ত। কিন্তু পুরনো দর্শকদের কাছে চিত্রালয়ের দরজা আবার খুললে ফিরে আসতে পারে বহু বছরের জমে থাকা স্মৃতি, আড্ডা আর সিনেমা দেখার সেই অন্য রকম আনন্দ।
কঙ্কালসার কাঠামো পেরিয়ে যদি সত্যিই ফেরে চিত্রালয়, তবে তার সঙ্গে ফিরবে শুধু পর্দার আলো নয়—ফিরবে কলকাতার এক টুকরো চলচ্চিত্র-নস্টালজিয়াও।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments