Homeপশ্চিম বর্ধমানআসানসোলজামুড়িয়াবাউড়িপাড়ায় ফের ধস, আতঙ্কে স্থানীয়রা! প্রশ্নের মুখে ইসিএলের ভূমিকা

বাউড়িপাড়ায় ফের ধস, আতঙ্কে স্থানীয়রা! প্রশ্নের মুখে ইসিএলের ভূমিকা

eisamay_2026-10-02_nyax04et_asansol

নিউজ ডেস্ক: ফের ধস নামার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়াল বাউড়িপাড়ায়। আচমকা মাটি বসে যাওয়ায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। বারবার মাটি ধসে যাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের প্রশ্ন, বারবার ধসের পরও কেন স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না? একই সঙ্গে ইসিএলের ভূমিকা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার একটি অংশে আচমকাই মাটি ধসে যায়। ধসের জেরে মাটিতে ফাটল এবং বসে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। আতঙ্কে অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার কথা ভাবতে শুরু করেন।

বাসিন্দাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাটির স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও মাটি বসে যাওয়া, কোথাও ফাটল দেখা দেওয়া—এই ধরনের ঘটনা তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে বসতবাড়ির কাছাকাছি ধস নামায় যে কোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এলাকার ভূগর্ভস্থ পরিস্থিতি এবং পুরনো খনি এলাকার প্রভাব নিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের বদলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। তাঁদের প্রশ্ন, ধসপ্রবণ এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে না?

ঘটনার পর থেকেই ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড বা ইসিএলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, খনি এলাকার সঙ্গে বসতিপূর্ণ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। কোথায় মাটির নীচে ফাঁকা জায়গা রয়েছে, কোথায় ধসের আশঙ্কা বেশি—সেই বিষয়গুলি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

তবে ধসের সঠিক কারণ এবং এর সঙ্গে খনি সংক্রান্ত কার্যকলাপের কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বাসিন্দাদের দাবি, শুধু ধসের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখা নয়, ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ঘটনা না ঘটে তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলিতে ব্যারিকেড, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মাটি পরীক্ষা করারও দাবি উঠেছে।

ফের ধসের ঘটনায় বাউড়িপাড়ায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এখন স্থানীয়দের নজর প্রশাসন ও ইসিএলের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে দাবি বাসিন্দাদের।

No Comments

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved