Homeকলকাতাদমদমউত্তর ২৪ পরগনার উত্তর দমদমে জঞ্জাল সাফাইয়ে কর চাপাল পুরসভা, ক্ষোভ স্থানীয়দের

উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর দমদমে জঞ্জাল সাফাইয়ে কর চাপাল পুরসভা, ক্ষোভ স্থানীয়দের

eisamay_2026-09-19_lq6zcdo5_wszws

নিউজ ডেস্ক: জঞ্জাল সাফাইয়ের জন্য নতুন করে কর বসানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর দমদম পুরসভা এলাকায় তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। পুরসভার তরফে বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে এই কর নেওয়ার উদ্যোগ বলে জানা গেলেও, বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন—নিত্যপ্রয়োজনীয় নাগরিক পরিষেবার জন্য আলাদা করে কেন অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে?

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ, তা নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পুরসভার কর্মীরা কাজ করেন। এই পরিষেবাকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যেই জঞ্জাল সাফাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট হারে কর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুরসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য।

তবে এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের অভিযোগ, তাঁরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ধরনের পুরকর ও অন্যান্য পরিষেবা বাবদ অর্থ প্রদান করেন। তার পরেও জঞ্জাল পরিষ্কারের জন্য পৃথক কর চাপানো হলে সাধারণ পরিবারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে।

বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, সব এলাকায় নিয়মিত ও সমানভাবে বর্জ্য সংগ্রহ করা হয় না। কোথাও সময়মতো জঞ্জাল নেওয়া হলেও কোথাও দীর্ঘক্ষণ রাস্তার ধারে বা নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা পড়ে থাকে। সেই পরিষেবার মান আরও উন্নত না করে নতুন কর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পুরসভার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আমরা পুরসভাকে বিভিন্ন কর দিই। তার পরেও যদি জঞ্জাল পরিষ্কারের জন্য আলাদা টাকা দিতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি বোঝা পড়বে।”

অন্যদিকে, পুরসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, শহরাঞ্চলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়। সেই বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহণ এবং প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। নাগরিক পরিষেবাকে আরও উন্নত করতে হলে একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত পরিষেবার জন্য নির্দিষ্ট কর নেওয়ার উদ্যোগ বলে পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে।

পুরসভা আরও মনে করছে, নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা সম্ভব নয়। বাড়ি থেকে ভেজা ও শুকনো বর্জ্য আলাদা করে দেওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য তুলে দেওয়ার মতো বিষয়েও বাসিন্দাদের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তবে কর চালুর আগে পরিষেবার মান, করের পরিমাণ এবং কোন কোন পরিবারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে—তা স্পষ্টভাবে জানানো দরকার বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের বক্তব্য, স্বচ্ছ নিয়ম ও পর্যাপ্ত পরিষেবা নিশ্চিত না হলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে।

নতুন কর নিয়ে পুরসভা ও বাসিন্দাদের মধ্যে এই মতপার্থক্যের মধ্যেই এখন নজর রয়েছে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নাগরিকদের আপত্তি ও অভিযোগ বিবেচনা করে পুরসভা কোনও পরিবর্তন আনে কি না, সেটাই দেখার।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved