
ইসমাইল সেখ: দুই গোষ্ঠীর বিবাদকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বীরভূমের সদাইপুর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছনো পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এক এএসআই-সহ চার পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ এবং ৭ জন মহিলা রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে সদাইপুর থানার ভুরকুনা গ্রামের আগর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরেই বিবাদ চলছিল। সেই বিবাদ বৃহস্পতিবার নতুন করে উত্তেজনার চেহারা নেয়। পুলিশের একটি প্রতিবেদনে বিবাদের সূত্র হিসেবে স্থানীয় পুজোকে কেন্দ্র করে সেবাইত ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে বিরোধের কথা উঠে এসেছে। অন্য একটি প্রতিবেদনে আবার বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিবাদের কথা বলা হয়েছে। ফলে সংঘর্ষের সঠিক সূত্র নিয়ে তদন্ত চলছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাতাহাতির খবর পেয়ে সদাইপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। অভিযোগ, পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের একাংশ তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে এবং পুলিশকর্মীদের মারধর করা হয়। পুলিশের দু’টি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। হামলার জেরে চার পুলিশকর্মী আহত হন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মাথায় আঘাত লাগে। পরে আহত পুলিশকর্মীদের চিকিৎসার জন্য সিউড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পর এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। শুক্রবার দিনভর এলাকায় টহলদারি চালানো হয়। নতুন করে যাতে কোনও সংঘর্ষ না ছড়ায়, সে বিষয়ে নজর রাখে পুলিশ। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনায় রাত থেকেই অভিযানে নামে পুলিশ। বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে মহিলারাও রয়েছেন। শুক্রবার তাঁদের সিউড়ি আদালতে পেশ করা হলে তিন জনকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। বাকিদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের উপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। সংঘর্ষে কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, কী কারণে বিবাদের সূত্রপাত এবং পুলিশের উপর হামলার পিছনে কারা ছিলেন—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি দুই গোষ্ঠীর মধ্যে পুরনো কোনও বিরোধ ছিল কি না, তাও তদন্তকারীরা দেখছেন।
ঘটনার জেরে শুক্রবারও সদাইপুরের ওই এলাকায় চাপা উত্তেজনা ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি নজরদারি জারি রয়েছে। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন প্রশাসনের আধিকারিকরাও।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments