Homeদেশবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি নাবালিকার, পরিত্যক্ত বাড়িতে গণধর্ষণের অভিযোগ

বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি নাবালিকার, পরিত্যক্ত বাড়িতে গণধর্ষণের অভিযোগ

eisamay_2026-09-26_n2g6xhyc_New-Project-2026-09-26T101048.608 (1)

নিউজ ডেস্ক: টিউশন শেষে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বেরিয়েছিল ১৩ বছরের এক নাবালিকা। সেই সাক্ষাৎই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হল। হরিয়ানার গ্রেটার ফরিদাবাদের সেক্টর ৭৮ এলাকায় একটি পরিত্যক্ত নির্মীয়মাণ বাড়িতে নাবালিকাকে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ অগস্ট। ওই দিন টিউশন শেষ করার পর ১৩ বছরের কিশোরী তার ১৬ বছরের এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যায়। দু’জনে একসঙ্গে হাঁটছিল। অভিযোগ, সেই সময় কয়েক জন যুবক তাঁদের পথ আটকায়। পরে ভয় দেখিয়ে দু’জনকেই একটি নির্জন এলাকায় অবস্থিত পরিত্যক্ত নির্মীয়মাণ বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগ, সেখানে নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। একই সঙ্গে তার বন্ধুকেও মারধর ও যৌন হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে দু’জন সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও জায়গাটি নির্জন হওয়ায় তাঁদের আর্তনাদ কারও কানে পৌঁছয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনার পর আতঙ্কে প্রায় এক মাস পরিবারের কাউকেই কিছু জানায়নি ওই নাবালিকা ও তার বন্ধু। তবে মেয়েটির আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তার মা। সে চুপচাপ হয়ে যাচ্ছিল, স্বাভাবিকভাবে কারও সঙ্গে কথা বলছিল না এবং কোচিংয়ে যাওয়াও কমিয়ে দিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে মেয়েকে জিজ্ঞাসা করতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে সে এবং পুরো ঘটনার কথা জানায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এরপর পরিবারের তরফে ওই ১৬ বছরের কিশোরের সঙ্গেও কথা বলা হয়। তিনিও ঘটনার বিষয়ে একই ধরনের তথ্য দেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। অবশেষে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ফরিদাবাদের বিটিপি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। নাবালিকার মেডিক্যাল পরীক্ষাও করা হয়েছে।

তদন্তে নেমে পুলিশ এখনও পর্যন্ত কুণাল, দীপক ও যশ নামে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েক জন স্থানীয় একটি আবাসনে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন বলেও একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনায় আরও কয়েক জনের ভূমিকা রয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। তবে অভিযুক্তের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। একটি রিপোর্টে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা বলা হলেও অন্য একটি প্রতিবেদনে মোট ছ’জনের জড়িত থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত সংখ্যা এবং প্রত্যেকের ভূমিকা স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নাবালিকা জড়িত থাকায় মামলায় POCSO আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বাকি সন্দেহভাজনদের সন্ধানে একাধিক তদন্তকারী দল তল্লাশি চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল, অভিযুক্তদের গতিবিধি এবং নির্যাতনের অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ফের নাবালিকাদের নিরাপত্তা এবং শহরের নির্জন নির্মীয়মাণ বা পরিত্যক্ত বাড়িগুলিতে নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সব দিক যাচাই করা হচ্ছে বলেই জানিয়েছে পুলিশ।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved