Homeরাজ্য“কোটি কোটি টাকা, তবু নেই ফল!” পঞ্চায়েতের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তোপ দিলীপ ঘোষের

“কোটি কোটি টাকা, তবু নেই ফল!” পঞ্চায়েতের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তোপ দিলীপ ঘোষের

নিউজ ডেস্ক: শহর থেকে গ্রাম— পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সামনে রেখে এ বার রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেই নিশানা করলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী
resizeplus_ChatGPT Image Sep 1, 2026, 12_36_08 PM (1)

নিউজ ডেস্ক: শহর থেকে গ্রাম— পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সামনে রেখে এ বার রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেই নিশানা করলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিপুল সরকারি অর্থ বরাদ্দ হলেও বহু প্রকল্প প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। কোথাও বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছে, আবার কোথাও পরিকাঠামো তৈরি হলেও তা কার্যকর হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একাধিক প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ বলেন, শহর কিংবা গ্রাম পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়, সাধারণ মানুষেরও। তাঁর মতে, নাগরিকদের সচেতনতার পাশাপাশি নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে শাস্তির ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য পুরআইনে জরিমানার ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।

দিলীপের কথায়, একটি শহর বা এলাকার পরিচ্ছন্নতা সেই রাজ্যের সামগ্রিক ভাবমূর্তির সঙ্গেও যুক্ত। তাই শুধু সরকারি কর্মী বা প্রশাসনের উপর দায়িত্ব চাপিয়ে না দিয়ে নাগরিকদেরও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে।

পরিচ্ছন্নতার পাঠ নিতে ইন্দোর সফর

দেশের পরিচ্ছন্ন শহরগুলির তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই উল্লেখযোগ্য নাম ইন্দোর। সেই শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি কাছ থেকে দেখতে সম্প্রতি কয়েক জন আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান দিলীপ ঘোষ।

ইন্দোরে কীভাবে বাড়ি-বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়, কোন পদ্ধতিতে বর্জ্য আলাদা করা হয় এবং পরে তা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে সার বা গ্যাস তৈরিতে ব্যবহার করা হয়— সেই ব্যবস্থাই মূলত খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্য, শুধু আবর্জনা সংগ্রহ করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। বর্জ্যকে তার প্রকৃতি অনুযায়ী পৃথক করা এবং পরে বৈজ্ঞানিক উপায়ে তা প্রক্রিয়াকরণ করাই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে রাজ্যের পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতেও নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তিনি।

“শুধু সচেতনতা নয়, নিয়ম ভাঙলে শাস্তিও প্রয়োজন”

শহর পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভূমিকার উপরও জোর দিয়েছেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, রাস্তা বা প্রকাশ্য স্থানে আবর্জনা ফেলার অভ্যাস বদলাতে প্রশাসনিক প্রচারের পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপও প্রয়োজন।

তাঁর মতে, নিয়ম তৈরি করলেই হবে না, সেই নিয়ম কার্যকর করার জন্য প্রশাসনিক নজরদারিও জরুরি। একই সঙ্গে নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া কোনও পরিচ্ছন্নতা অভিযান দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য পেতে পারে না।

সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সফল করতে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রশাসন এবং নাগরিকদের যৌথ দায়িত্বের কথাই তুলে ধরেছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী।

পঞ্চায়েতের বর্জ্য প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

এর পরই পঞ্চায়েত এলাকায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের বাস্তব চিত্র নিয়ে সরব হন দিলীপ। তাঁর অভিযোগ, বহু পঞ্চায়েতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উল্লেখযোগ্য অঙ্কের সরকারি অর্থ বরাদ্দ হলেও সব জায়গায় প্রকল্প সফল হয়নি।

তাঁর দাবি, যথাযথ নজরদারির অভাবের কারণেই একাধিক প্রকল্প কার্যকরভাবে এগোতে পারেনি।

দিলীপের অভিযোগ, কিছু জায়গায় বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরি হওয়ার পরে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কোথাও আবার প্রয়োজনীয় অর্থ খরচ হলেও প্রকল্প পূর্ণমাত্রায় চালু হয়নি। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরেও প্রত্যাশিত পরিষেবা পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাঁর।

তিনি জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নিজেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। কোথায় কী পরিকাঠামো রয়েছে, কোন প্রকল্প চলছে এবং কোথায় সমস্যা তৈরি হয়েছে— সে সব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও তাঁর দাবি।

পড়ে রয়েছে ই-ভেহিকেল, অভিযোগ দিলীপের

বর্জ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ই-ভেহিকেল কেনা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, কোথাও কোথাও সেই যান দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না হওয়ায় কার্যত অচল হয়ে পড়ে রয়েছে।

দীর্ঘদিন চার্জ না হওয়া বা নিয়মিত ব্যবহার না হওয়ার কারণে কিছু ই-ভেহিকেলের ব্যাটারিও নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

দিলীপের বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি তার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনও প্রকল্প শুরু হওয়ার পর তার ভবিষ্যৎ কী হচ্ছে, সেটি নিয়মিত খতিয়ে না দেখলে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন।

No Comments

তাজা খবর

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved