
নিউজ ডেস্ক: ইসলামপুরে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম খুনের ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হল দু’জন। ঘটনার ২২ দিন পর পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামপুর শহরের আলিনগর এলাকার এক মহিলা। অন্য অভিযুক্তকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে উত্তরবঙ্গে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
প্রধান শিক্ষক খুনের ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। অবশেষে দু’জনকে গ্রেফতারের পর তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। তবে খুনের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ ছিল এবং ধৃতদের সঙ্গে নিহত শিক্ষকের কী ধরনের সম্পর্ক বা যোগাযোগ ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ৮ অগস্ট সকালে। প্রতিদিনের মতো সেদিনও স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ইসলামপুরের আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। তিনি রামগঞ্জের রাজাভিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু স্কুলে পৌঁছনোর আগেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদারিপুর এলাকায় পৌঁছতেই নজরুলকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়। আচমকা হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। গুলির শব্দ এবং পরে রাস্তায় এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
আহত নজরুলকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে। চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করার পর বুঝতে পারেন, পরিস্থিতি গুরুতর। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে দ্রুত শিলিগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পরই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ইসলামপুরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে প্রকাশ্য রাস্তায় এক শিক্ষককে গুলি করে খুনের অভিযোগে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। একই সঙ্গে কেন তাঁকে নিশানা করা হল, কারা এই হামলার পিছনে রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে তাঁকে খুন করা হল—তা নিয়েও শুরু হয় জল্পনা।
নজরুলের পরিবারের সদস্য, সহকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি ওঠে। পুলিশের কাছেও ঘটনার দ্রুত কিনারা করার দাবি জানানো হয়। তদন্তকারীরা ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশের তথ্যও সংগ্রহ করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তে একাধিক সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। নিহত শিক্ষকের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক, পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ঘটনার আগে তাঁর গতিবিধি—সবই তদন্তের আওতায় আনা হয়। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত দু’জনের সন্ধান পাওয়া যায় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ধৃতদের একজন ইসলামপুর শহরের আলিনগর এলাকার বাসিন্দা এক মহিলা। অন্য অভিযুক্তকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে বহু দূরে দিল্লিতে গিয়ে একজনকে গ্রেফতার করার ঘটনায় তদন্তের পরিধি যে ইসলামপুরের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছিল, তা স্পষ্ট। দিল্লি থেকে ধৃত ব্যক্তিকে রাজ্যে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
তদন্তকারীদের কাছে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই দু’জনের ভূমিকা ঠিক কী ছিল। তাঁরা সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিলেন, নাকি খুনের পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্রে অন্য কোনও ভাবে যুক্ত ছিলেন—তা জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে গুলি চালানোর ঘটনায় সরাসরি জড়িতদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। অর্থাৎ তদন্তকারীরা আপাতত গ্রেফতার হওয়া দু’জনকেই চূড়ান্ত অভিযুক্ত হিসেবে ধরে নিয়ে তদন্ত শেষ করছেন না। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও নাম উঠে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার।
প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করতেন। তাঁর মতো একজন শিক্ষককে স্কুলে যাওয়ার পথে এ ভাবে গুলি করে খুনের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। বিশেষ করে দিনের ব্যস্ত সময়ে রাস্তায় এই ধরনের হামলার অভিযোগ ওঠায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
ঘটনার পর থেকে নিহত শিক্ষকের পরিবারও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিল। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আনার দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। ২২ দিন পর দু’জনকে গ্রেফতার করার ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও খুনের পুরো রহস্য এখনও কাটেনি।
বিশেষ করে খুনের পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। নজরুলকে কি পরিকল্পিত ভাবে নিশানা করা হয়েছিল, নাকি কোনও ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধ থেকে এই হামলা—তদন্তে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন পুলিশ আধিকারিকেরা। পাশাপাশি হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র কোথা থেকে এসেছিল, হামলার আগে ও পরে অভিযুক্তদের গতিবিধি কী ছিল, সেই তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লি থেকে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার পর তদন্ত আরও গতি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর বয়ান এবং আলিনগর থেকে গ্রেফতার হওয়া মহিলার বক্তব্য মিলিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। দু’জনের মধ্যে যোগাযোগ এবং নিহত শিক্ষকের সঙ্গে তাঁদের কোনও পূর্বপরিচয় ছিল কি না, সেই বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
এখন পুলিশের সামনে মূল লক্ষ্য, খুনের নেপথ্যে থাকা সম্পূর্ণ চক্রকে চিহ্নিত করা। দু’জনের গ্রেফতারির পর তদন্তকারীদের হাতে নতুন তথ্য আসে কি না এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে আরও কাউকে গ্রেফতার করা হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।
প্রকাশ্য রাস্তায় স্কুলে যাওয়ার পথে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তার পূর্ণ অবসান ঘটাতে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত কারণ সামনে আনার দাবি স্থানীয়দের। পুলিশও জানিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২২ দিন পর গ্রেফতারির ফলে তদন্তে নতুন দরজা খুলেছে। এখন সেই দরজা দিয়ে নজরুল ইসলাম হত্যার পুরো রহস্য কতটা বেরিয়ে আসে, সেটাই দেখার।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments