Homeজেলা‘UCC চালু হলে লাভ জিহাদ-ল্যান্ড জিহাদ বন্ধ করব’, অশোক সিংঘলের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে ঘোষণা শুভেন্দুর

‘UCC চালু হলে লাভ জিহাদ-ল্যান্ড জিহাদ বন্ধ করব’, অশোক সিংঘলের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে ঘোষণা শুভেন্দুর

resizeplus_eisamay_2026-09-25_i0bsbn4o_Suvendu-12

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। অশোক সিংঘলের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যে Uniform Civil Code বা UCC কার্যকর করার পাশাপাশি ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’-এর বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনার কথা জানালেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গেও UCC কার্যকর করা হবে। উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটে যেভাবে এই ধরনের আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়েছে, বাংলাতেও সেই ধরনের সাংবিধানিক ও আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলে জানান তিনি। UCC-এর মাধ্যমে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও দত্তক গ্রহণের মতো দেওয়ানি বিষয়গুলিতে অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।

এর পাশাপাশি ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’-এর বিরুদ্ধে পৃথক কঠোর আইন আনার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা। জোরপূর্বক ধর্মান্তরের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শুভেন্দুর বক্তব্য, তাঁর সরকার সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই কাজ করবে। একই সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতন ঐতিহ্য, মন্দির, মঠ এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের উপর কোনও ধরনের আক্রমণ বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি জানান। রাজ্যে কোনও ‘দেশবিরোধী কার্যকলাপের’ জায়গা থাকবে না—এমন বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গে UCC কার্যকরের বিষয়টি অবশ্য নতুন ঘোষণা নয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ছয় মাসের মধ্যে UCC কার্যকর করা। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত UCC-এর খসড়া নিয়ে কাজ এগিয়ে নিতে অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।

‘লাভ জিহাদ’ শব্দটি মূলত দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলির ব্যবহৃত একটি পরিভাষা। আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক বা বিয়েকে ঘিরে এই শব্দ ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও আদালত কোনও সর্বজনীন আইনি সংজ্ঞা হিসেবে ‘লাভ জিহাদ’কে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে প্রস্তাবিত আইনের নির্দিষ্ট পরিধি ও প্রয়োগ কী হবে, তা চূড়ান্ত আইন ও তার বিধান স্পষ্ট হওয়ার পরেই বোঝা যাবে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য, UCC-সহ এই ধরনের আইন রাজ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজন বাড়াতে পারে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের অবস্থান, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই অভিন্ন দেওয়ানি আইন ও সংশ্লিষ্ট কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অশোক সিংঘলের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর এখন নজর বিধানসভায়। UCC-এর খসড়া কোন পথে এগোয়, ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’-এর বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত আইনের প্রকৃতি কী হয় এবং আগামী ছয় মাসে সরকার কতটা বাস্তব পদক্ষেপ নেয়—রাজ্য রাজনীতিতে এখন সেদিকেই নজর।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved