HomeজেলাMBBS চিকিৎসকের বদলে AYUSH চিকিৎসক? বেসরকারি হাসপাতাল-নার্সিংহোমে ‘ক্রসোপ্যাথি’র অভিযোগ, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি

MBBS চিকিৎসকের বদলে AYUSH চিকিৎসক? বেসরকারি হাসপাতাল-নার্সিংহোমে ‘ক্রসোপ্যাথি’র অভিযোগ, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি

WB-to-shift-patients-to-private-hospitals-to-offset-bed-shortage

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতে চিকিৎসক নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে উঠল গুরুতর অভিযোগ। কয়েকজন MBBS চিকিৎসকের দাবি, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রশিক্ষিত MBBS চিকিৎসকের পরিবর্তে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে RMO বা Resident Medical Officer পদে AYUSH-এর বিভিন্ন শাখার চিকিৎসকদের নিয়োগ করা হচ্ছে। অভিযোগ, তাঁদের দিয়েই অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে একটি গোপন চিঠিও পাঠানো হয়েছে বলে দাবি।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, কোথাও হোমিওপ্যাথি, কোথাও আয়ুর্বেদ কিংবা ইউনানি চিকিৎসায় ডিগ্রিধারীদের RMO বা সমজাতীয় দায়িত্বে রাখা হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, MBBS চিকিৎসকদের তুলনায় কম পারিশ্রমিকে এই ধরনের চিকিৎসকদের নিয়োগ করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। ফলে রোগীর সামনে কোন চিকিৎসক কোন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষিত, তা নিয়ে বিভ্রান্তির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

এই অভিযোগের আওতায় কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার কয়েকটি নার্সিংহোম, দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এবং মুর্শিদাবাদের কয়েকটি নার্সিংহোমের নাম উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে তদন্ত ছাড়া কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা সমীচীন নয়।

মূল বিতর্ক ‘ক্রসোপ্যাথি’ নিয়ে। অর্থাৎ, এক চিকিৎসাপদ্ধতিতে প্রশিক্ষিত ব্যক্তি অন্য চিকিৎসাপদ্ধতির ওষুধ বা চিকিৎসা প্রয়োগ করছেন কি না, সেই প্রশ্নই এখানে সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক মহলে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৩ সালের একটি NCDRC মামলায়ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ প্রয়োগের বিষয়টি বিচারিক পর্যালোচনায় আসে। আদালতের সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পরিষেবা ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল।

তবে AYUSH চিকিৎসক মানেই তাঁরা ‘ভুয়ো চিকিৎসক’—এমন ধারণাও সঠিক নয়। আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি, ইউনানি-সহ AYUSH-এর বিভিন্ন শাখার স্বীকৃত চিকিৎসকদের নিজ নিজ চিকিৎসাপদ্ধতিতে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নিবন্ধন রয়েছে। কেন্দ্রীয় AYUSH ব্যবস্থার হাসপাতালগুলিতেও সংশ্লিষ্ট শাখার চিকিৎসকদের জন্য পৃথক পদ ও দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে।

সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন কোনও চিকিৎসকের যোগ্যতা ও নিবন্ধনের সীমার বাইরে গিয়ে অন্য চিকিৎসাপদ্ধতির চিকিৎসা বা প্রেসক্রিপশন দেওয়া হয়—এমনটাই তুলে ধরছেন এই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত MBBS চিকিৎসকেরা। তাঁদের দাবি, রোগী যাতে চিকিৎসকের যোগ্যতা, নিবন্ধন এবং তিনি কোন চিকিৎসাপদ্ধতিতে পরিষেবা দিচ্ছেন, তা স্পষ্টভাবে জানতে পারেন, সেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগগুলির তদন্ত, বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতে RMO নিয়োগের নিয়ম খতিয়ে দেখা এবং রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এখন প্রশ্ন, রাজ্যের বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সত্যিই যোগ্যতার সীমা অতিক্রম করে চিকিৎসা করানোর ঘটনা ঘটছে কি না, আর কোথাও এমন হয়ে থাকলে তার পরিধিই বা কতটা? অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রশাসনিক তদন্ত হলে তবেই পুরো ছবিটা স্পষ্ট হবে।

রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসকের যোগ্যতা এবং বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা—এই তিন প্রশ্নকে সামনে রেখে এখন স্বাস্থ্য দফতরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর।

কলকাতা থেকে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেটে নজর রাখছে NGTV News।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved