HomeজেলাCPI এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ, কংগ্রেস সভাপতিকে আটক, উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামের ছবিটা কেমন?

CPI এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ, কংগ্রেস সভাপতিকে আটক, উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামের ছবিটা কেমন?

resizeplus_eisamay_2026-10-06_68nh0vwu_midws

নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর উপনির্বাচনের দিন সকাল থেকেই একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল নন্দীগ্রামে। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরই নন্দীগ্রাম-১ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি শেখ আসাফুল তুল্লাকে পুলিশ আটক করে। একই সঙ্গে সরবেড়িয়ার ২১২ নম্বর বুথে সিপিআইয়ের এজেন্ট শেখ সাদ্দাম হোসেনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি একাধিক বুথে বিরোধী দলের এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা এবং উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে শেখ আসাফুল তুল্লাকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে নন্দীগ্রাম থানায় রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ভাবে কাউকে আটক করা হতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহাও জানিয়েছেন, ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন হলে এমন পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

অন্য দিকে, সরবেড়িয়ার ২১২ নম্বর বুথে সিপিআইয়ের এজেন্ট শেখ সাদ্দাম হোসেনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। সাদ্দামের অভিযোগ, ভোট শুরুর আগেই তিনি বুথে পৌঁছনোর পর তাঁকে আক্রমণ করা হয়। পরে তাঁকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নন্দীগ্রামের একাধিক বুথে কংগ্রেসের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দলের প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর দাবি, কিছু জায়গায় এজেন্টদের বাধা দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের স্বাধীন ভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী।

অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের বক্তব্য, নন্দীগ্রামে ভোট উৎসবের পরিবেশেই হচ্ছে এবং কোথাও কোনও সমস্যা নেই। ফলে একই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, বড় ধরনের অশান্তির কোনও খবর নেই এবং সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নেই ভোট দিচ্ছেন। তবে অভিযোগ পেলেই দ্রুত বাহিনী পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার।

নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণের শুরুতেই মারধর, এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা এবং রাজনৈতিক নেতাকে আটক করার অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। এখন নজর ভোটের বাকি সময়ে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অভিযোগগুলির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সেদিকে।

No Comments