Homeজেলাপাহাড় কাটা বন্ধ হবে, আশ্বাস বিধায়ক মামণি বাউড়ির

পাহাড় কাটা বন্ধ হবে, আশ্বাস বিধায়ক মামণি বাউড়ির

images (15)

নিউজ ডেস্ক: পুরুলিয়া পাহাড় কাটা বন্ধের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের বেড়ো চণ্ডী পাহাড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমীদের সেই আন্দোলনের মধ্যেই সোমবার এলাকায় গিয়ে পাহাড় কাটা বন্ধ করার আশ্বাস দিলেন বিধায়ক মামণি বাউড়ি। তাঁর এই আশ্বাসে নতুন করে আশার আলো দেখছেন আন্দোলনকারীরা।

চণ্ডী পাহাড়কে ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, একটি বেসরকারি সংস্থা পাহাড় থেকে গ্রানাইট ও পাথর উত্তোলনের কাজ করছে। পাহাড়ের একটি অংশ ইতিমধ্যেই কাটা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের বক্তব্য, বাকি অংশটুকু রক্ষা করা না গেলে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশের পাশাপাশি ঐতিহ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই দাবিতে ‘চণ্ডী পাহাড় বাঁচাও’ কমিটির নেতৃত্বে একাধিক কর্মসূচিও হয়েছে।

সোমবার চণ্ডী পাহাড় পরিদর্শনে যান বিধায়ক মামণি বাউড়ি। তাঁকে সামনে পেয়ে এলাকার শতাধিক মহিলা নিজেদের দাবি তুলে ধরেন। হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাঁরা পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করার আবেদন জানান। স্থানীয়দের দাবি, এই পাহাড়ের সঙ্গে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং জীবনযাত্রা জড়িয়ে রয়েছে। বহু বছর ধরে পাহাড়কে ঘিরে মেলা ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে আসছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য শোনার পর বিধায়ক জানান, চণ্ডী পাহাড়ের ঐতিহ্যের বিষয়টি তিনি জানেন। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও পাহাড় না কাটার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেই কারণে আগামী দিনে আর পাহাড় কাটা হবে না বলেই আশ্বাস দেন তিনি। বিধায়কের কথায়, মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত এই পাহাড়কে রক্ষা করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

এর আগে পাহাড় কাটা বন্ধের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা অবস্থান-বিক্ষোভ ও মিছিলও করেছেন। স্কুল পড়ুয়াদের একাংশকেও প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলনে সামিল হতে দেখা গিয়েছে। ‘পাহাড় বাঁচাও, প্রকৃতি বাঁচাও’ এবং পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলন বন্ধ করার দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা।

আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, পাহাড়ের নিচের অংশ কেটে পাথর উত্তোলন করা হলে ধীরে ধীরে পাহাড়ের স্থায়িত্বও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইতিমধ্যেই পাহাড়ের একটি অংশে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। গবাদি পশু ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

বিধায়কের আশ্বাসের পর স্থানীয়দের একাংশের আশা, এ বার প্রশাসনিক স্তরেও বিষয়টি গুরুত্ব পাবে এবং পাহাড় কাটা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান হবে। তবে বাস্তবে কাজ কতটা বন্ধ থাকে এবং প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনকারীদের।

No Comments