Homeদেশগণধর্ষণে ফাঁসি, তিন জনের আমৃত্যু সাজা

গণধর্ষণে ফাঁসি, তিন জনের আমৃত্যু সাজা

resizeplus_6HDRO6B7JNCUXCNCGNOWQM5LJY

নিউজ ডেস্ক জয়গাঁ, আলিপুরদুয়ার সাত বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর খুনের মামলায় বড়সড় সাজা ঘোষণা করল আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। মামলার মূল অভিযুক্ত বাবলু মিয়াঁকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে। বাকি তিন অভিযুক্ত জাইদুল ইসলাম, মনির হোসেন এবং মজিবুল শেখকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে মৃত নাবালিকার পরিবারকে ৬ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের। ওই বছরের ১৫ অক্টোবর জয়গাঁ এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় সাত বছরের নাবালিকা। পরের দিন পরিবারের তরফে জয়গাঁ থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর শুরু হয় পুলিশি তদন্ত। তদন্তকারীরা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, নাবালিকাকে চাউমিন খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল বাবলু মিয়াঁ। এরপর একটি পরিত্যক্ত গোডাউনে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তদন্তে দাবি করা হয়। সেখান থেকেই পরে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্ত বাবলু এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে শিলিগুড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, সে নেপালে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

বাবলুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তিন জনের নাম সামনে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর জাইদুল ইসলাম, মনির হোসেন ও মজিবুল শেখকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ। ডিএনএ প্রোফাইলিং, সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিয়ো রেকর্ডিং এবং গেট প্যাটার্ন অ্যানালাইসিসের মতো প্রমাণ আদালতে পেশ করা হয়।

এই মামলায় মোট ২২ জন সাক্ষ্য দেন। বিচারপর্ব চলাকালীন নাবালিকার বাবার মৃত্যু হয়। তিনি দীর্ঘদিন পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। মেয়েকে হারানোর পর বিচারপ্রক্রিয়ার শেষ পরিণতি দেখার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সোমবার আদালত সাজা ঘোষণা করার পর নাবালিকার মা জানান, মেয়ের মৃত্যুর পর তিনি সমস্ত আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। আদালতের রায়ে তাঁর মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকারি পক্ষের আইনজীবী দেবরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে অত্যন্ত নৃশংস অপরাধ বলে উল্লেখ করেন।

তবে আদালতে আগুন লাগিয়ে নাবালিকার দেহ পোড়ানোর বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় যে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করা হয়েছে, সেগুলির ভিত্তিতেই দোষীদের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।

এই রায় ঘিরে জয়গাঁ এলাকায় আলোড়ন তৈরি হয়েছে। নাবালিকার পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের নির্দেশের পাশাপাশি মূল অভিযুক্তকে ফাঁসি এবং অন্য তিন জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দেওয়াকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

No Comments