Last updated: October 7th, 2026 at 03:14 pm

নিউজ ডেস্ক: মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর দু’টি পৃথক আর্থিক দুর্নীতির মামলায় জেল হেফাজতে পাঠানো হল সুমিত রায়কে। পুলিশি হেফাজত শেষে সোমবার তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে শালবনির জমি সংক্রান্ত দুর্নীতি এবং বালি কারবারে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে মামলা চলছে।
পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, শালবনিতে সরকারি জমি বেআইনি ভাবে রূপান্তর ও বিক্রির অভিযোগের তদন্তে সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। অভিযোগ, জাল নথি ব্যবহার করে সরকারি জমির চরিত্র বদল এবং বেআইনি লেনদেনের মাধ্যমে জমি বিক্রির একটি চক্র সক্রিয় ছিল। এই মামলায় ইতিমধ্যেই সুমিত রায়-সহ কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।
তদন্তে জমি সংক্রান্ত লেনদেনে বিপুল অঙ্কের টাকার আদানপ্রদানের অভিযোগও সামনে এসেছে। সিআইডির দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে শালবনিতে সরকারি জমি সংক্রান্ত একাধিক অনিয়ম ঘটেছিল। তদন্তে আরও কয়েক জনের নাম উঠে এসেছে এবং তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি শালবনিতে অতিরিক্ত বালি বোঝাই গাড়ি চলাচলের সুবিধা করে দেওয়ার অভিযোগেও সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে ওভারলোড বালির গাড়ি চলাচলে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হত। এই মামলায় ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সেই মামলাতেও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তদন্ত চলাকালীন সুমিত রায়ের ব্যবহৃত সিম কার্ড নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে বলে পুলিশ আদালতে জানিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, নিজের সিমের পাশাপাশি অন্য ব্যক্তিদের নামে নেওয়া একাধিক সিমও ব্যবহার করা হত। ওই সিমগুলি ব্যবহার করে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জমি দুর্নীতি মামলায় সিআইডির তদন্তে একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, কয়েক জন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে জমি সংক্রান্ত লেনদেন পরিচালিত হত। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। এই মামলায় আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার মেদিনীপুর আদালতে সুমিত রায়ের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেছিলেন কি না এবং আদালতে তদন্তকারী সংস্থার তরফে কী কী যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও নজর ছিল। শেষ পর্যন্ত আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। ফলে আপাতত জেলেই থাকতে হবে তাঁকে।
এর আগে শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়কে সিআইডি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারীরা তাঁর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয় খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে বালি সংক্রান্ত মামলার তদন্তও চলছে।
দু’টি মামলার তদন্ত আলাদা ভাবে এগোলেও সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন। এই ঘটনায় আগামী দিনে আরও কারও নাম সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments