Homeউত্তর চব্বিশ পরগনাবনগাঁআন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালান চক্রের মূল পাণ্ডাসহ ২ দুষ্কৃতী গ্রেপ্তার বনগাঁয়! পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ আদালতের

আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালান চক্রের মূল পাণ্ডাসহ ২ দুষ্কৃতী গ্রেপ্তার বনগাঁয়! পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ আদালতের

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বনগাঁয় আন্তর্জাতিক অস্ত্র পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করল বনগাঁ থানার পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এক
crime

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বনগাঁয় আন্তর্জাতিক অস্ত্র পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করল বনগাঁ থানার পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এক সফল মধ্যরাতের অভিযানে চক্রের মূল পাণ্ডাসহ দু’জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম শাহিদুল মণ্ডল ওরফে শরিফ (৩৮) এবং অনুপ খান (৩০)। শাহিদুল বনগাঁর বাজিতলা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং অনুপের বাড়ি স্থানীয় ফুলতলা কলোনিতে।

Table of Contents

    পুলিশ সূত্রের খবর, বুধবার গভীর রাতে বাজিতলা এলাকায় শাহিদুল মণ্ডলের বাড়িয় ঘেরাও করে তল্লাশি অভিযান চালায় বনগাঁ থানার বিশেষ টিম। তল্লাশিতে তাঁর ঘর থেকে একটি ৯ এমএম (9mm) পিস্তল এবং দুটি ভর্তি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়। হাতেনাতে শাহিদুলকে গ্রেফতার করার পর জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত পারাপারের মাধ্যমে আন্তঃরাষ্ট্রীয় অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত।

    ধৃত শাহিদুলকে থানায় এনে কড়া জেরার মুখে ফুলতলা কলোনির বাসিন্দা অনুপ খানের নাম উঠে আসে। এরপরই কালবিলম্ব না করে অভিযান চালিয়ে অনুপকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরায় অনুপ স্বীকার করে যে, সম্প্রতি সে শাহিদুলের কাছ থেকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিল, যা ইতোমধ্যে ওপার বাংলায় অর্থাৎ বাংলাদেশে দুষ্কৃতীদের কাছে মোটা টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুই অভিযুক্তকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের ১২ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

    এই মেগা সাফল্য প্রসঙ্গে বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত জানান, “ধৃত দু’জন দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বেআইনি অস্ত্র কারবারের সঙ্গে যুক্ত এবং বাংলাদেশে নিয়মিত অস্ত্র পাচার করত। এই চক্রের মূল শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ হেপাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে।”

    তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে চলত। শাহিদুল বিভিন্ন রাজ্য থেকে বেআইনি অস্ত্র এনে নিজের কাছে গোপন ডেরায় মজুত করত, আর অনুপ কাজ করত চক্রের মূল ‘লিংক ম্যান’ হিসেবে। ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা ও সীমান্ত পার করে অস্ত্র পৌঁছানোর কাজ দেখত সে। জানা গিয়েছে, অনুপের বাবার পেট্রাপোল সীমান্তে এক সময় চায়ের দোকান ছিল, যার আড়ালে ইয়াবা ট্যাবলেট ও নানা মাদকের লেনদেন চলত। ওপার বাংলার দুষ্কৃতীদের সঙ্গে সেই সময় থেকেই আলাপ অনুপের। পরবর্তীতে বরানগরের এক অধিবাসীর সঙ্গে বিদেশে গিয়ে রহস্যজনক ঘটনার পর দেশে ফিরে পুরোদমে আন্তর্জাতিক এই বেআইনি অস্ত্র কারবারে নেমে পড়ে অনুপ।

    No Comments

    তাজা খবর

    আরও পড়ুন