Homeপশ্চিম বর্ধমানআসানসোলডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে আসানসোলে বিশেষ অভিযান, নজরে ১৩টি ওয়ার্ড

ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে আসানসোলে বিশেষ অভিযান, নজরে ১৩টি ওয়ার্ড

নিউজ ডেস্ক; ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছয়নি। তবে বর্ষার মরসুমে পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, সে জন্য
images (4)

নিউজ ডেস্ক; ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছয়নি। তবে বর্ষার মরসুমে পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, সে জন্য আগেভাগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ শুরু করল আসানসোল পুরসভা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বুধবার থেকে পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। মশার বংশবিস্তার রুখতে নিয়মিত সাফাই ও নিকাশি ব্যবস্থার পাশাপাশি জোর দেওয়া হচ্ছে কীটনাশক ছড়ানো এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজরদারিতে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আসানসোলের ১০৬টি ওয়ার্ডে বুধবার পর্যন্ত মোট ৫০ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। যদিও গত বছরের তুলনায় এই সময় আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম বলে দাবি পুর কর্তৃপক্ষের। তবু বর্ষার সময়ে একটানা বৃষ্টি, জল জমে থাকা এবং নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যাকে সামনে রেখে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না স্বাস্থ্য দপ্তর।

এ বার আসানসোল পুরসভার মোট ১৩টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গি-প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ছ’টি ওয়ার্ডকে অতি স্পর্শকাতর বলে ধরা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে ৩৭, ৪০, ৪৮, ৭৬, ৮১ এবং ৮৫ নম্বর ওয়ার্ড। এই এলাকাগুলিতে মশার উপদ্রব, জল জমার পরিস্থিতি এবং জ্বরের উপসর্গ থাকা বাসিন্দাদের বিষয়ে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে বলে পুরসভা জানিয়েছে।

আসানসোল পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দীপক গঙ্গোপাধ্যায় জানান, গত বছর এই সময় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি ছিল। এ বছর পুরসভার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় জল জমার পরিমাণও কমেছে। তাঁর মতে, এই দুই কারণে ডেঙ্গির প্রকোপ এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূল থাকলেও সতর্কতার ক্ষেত্রে কোনও ঢিলেমি দেওয়া যাবে না।

পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তরের যুগ্ম আধিকারিক সোমনাথ মণ্ডল বলেন, ডেঙ্গি প্রতিরোধে বুধবার থেকেই বিশেষ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। নিয়মিত সাফাই এবং নিকাশি পরিষেবার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কোথাও দীর্ঘদিন ধরে জল জমে রয়েছে কি না, বাড়ির ছাদে, বারান্দায়, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র বা নির্মাণস্থলে জল আটকে আছে কি না—সেই সব বিষয় পরীক্ষা করা হবে।

এ ছাড়াও কোনও বাড়িতে জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি রয়েছেন কি না, তা জানতে চাইবেন আশাকর্মীরা। জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, দুর্বলতা বা ত্বকে র‌্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্তদের চিহ্নিত করা গেলে চিকিৎসা শুরু করা সহজ হবে বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকেরা।

পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গি-প্রবণ ওয়ার্ডগুলিতে কীটনাশক ছড়ানোর কাজ আরও বাড়ানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মশার লার্ভা ধ্বংসের জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হবে। জমা জল চিহ্নিত করে তা সরানোর পাশাপাশি বাসিন্দাদেরও সচেতন করা হবে। শুধু পুরসভার কর্মীদের উদ্যোগে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, সাধারণ মানুষকেও নিজেদের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তবে পুরসভার এই আশ্বাসের মধ্যেই স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। বিভিন্ন পাড়া, রাস্তা এবং নিচু জায়গায় জল জমে থাকায় মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও নিকাশি নালা উপচে জল রাস্তায় উঠে এসেছে বলেও অভিযোগ। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা কম থাকলেও আগামী দিনে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

পুরসভা অবশ্য জানিয়েছে, জল জমার খবর পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তর, সাফাই বিভাগ এবং নিকাশি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে। কোথাও জল জমে থাকলে বা মশার লার্ভা দেখা গেলে পুরসভাকে জানানোর জন্য বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, ডেঙ্গি প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল জমা জল বন্ধ করা। কারণ, পরিষ্কার স্থির জলেই এডিস মশা ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির ভিতরে ও বাইরে নিয়মিত নজরদারি, জল জমতে না দেওয়া এবং জ্বর হলে অবহেলা না করাই এই মুহূর্তে প্রধান করণীয়। পুরসভার বিশেষ অভিযান কতটা কার্যকর হয়, তা আগামী কয়েক সপ্তাহের পরিস্থিতিতেই স্পষ্ট হবে। আপাতত আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্ষার বাকি সময়টুকু সতর্ক নজরদারি চালিয়ে যেতে চাইছে আসানসোল পুরসভা।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved