
নিউজ ডেস্ক; অল্প বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান জলে ডুবে যায় রাস্তা। জল জমে থাকার কারণে যান চলাচল থেকে পথচারীদের যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই তৈরি হয় চরম দুর্ভোগ। বর্ষা এলেই এমন ছবিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন রায়গঞ্জ শহরের বাসিন্দারা। বিশেষ করে বিদ্রোহী মোড় থেকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের দিকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি বৃষ্টির পর জলমগ্ন হয়ে পড়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এ বার সেই জলযন্ত্রণার অন্যতম কারণ খুঁজে বের করে নিকাশি ব্যবস্থা সচল করতে উদ্যোগী হল রায়গঞ্জ পুরসভা।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় রাস্তার পাশে থাকা নিকাশি নালা দীর্ঘদিন ধরে ঠিকমতো পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছিল না। কারণ, বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সামনে নালার উপরে কংক্রিটের স্ল্যাব দিয়ে স্থায়ী ভাবে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। ফলে পুরসভার কর্মীরা নালার ভিতরে ঢুকে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করতে পারছিলেন না। তার জেরে বৃষ্টির জল দ্রুত বেরিয়ে যেতে না পেরে রাস্তায় জমে থাকছিল।
শনিবার সেই সমস্যা সমাধানে সরাসরি মাঠে নামল পুরসভা। ব্যবসায়ীদের দোকানের সামনে নিকাশি নালার উপর তৈরি কংক্রিটের স্ল্যাব ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেন পুরকর্মীরা। পুরকর্তাদের আশা, নালার উপরের অবৈধ বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা অংশ সরিয়ে দিলে নিকাশি নালা নিয়মিত পরিষ্কার করা সম্ভব হবে। ফলে জমে থাকা আবর্জনা সরানো যাবে এবং বৃষ্টির জল দ্রুত নিকাশির মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে পারবে।
এ দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ পুরসভার এগজ়িকিউটিভ অফিসার মদন মণ্ডল। তিনি জানান, রাস্তার ধারে থাকা ড্রেনের উপরে বিভিন্ন জায়গায় কংক্রিট দিয়ে ঢালাই করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে নালার ভিতরে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। বৃষ্টির সময় সেই নালার মাধ্যমে পর্যাপ্ত জল বেরোতে না পারায় রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ছিল।
পুরসভার এগজ়িকিউটিভ অফিসারের বক্তব্য, নিকাশি ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখতে নালার উপরে এমন ভাবে স্থায়ী নির্মাণ করা উচিত নয়, যার কারণে সেটি পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসাবেই দোকানের সামনে তৈরি কংক্রিটের স্ল্যাব ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। তাঁর আশা, নালা পরিষ্কার করার সুযোগ তৈরি হলে জল জমার সমস্যা আগের তুলনায় অনেকটাই কমবে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, বিদ্রোহী মোড় থেকে মেডিক্যাল কলেজের দিকে যাওয়ার এই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বহু মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনে মেডিক্যাল কলেজে যাতায়াতকারী রোগী ও তাঁদের পরিজনদেরও এই রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। বৃষ্টির পরে রাস্তায় জল জমে গেলে ছোট যানবাহন চলাচল থেকে শুরু করে হেঁটে যাতায়াত—সবই সমস্যার হয়ে দাঁড়ায়।
শুধু সাধারণ পথচারী নয়, জল জমে থাকার কারণে ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়েন। দোকানের সামনে জল দাঁড়িয়ে থাকলে ক্রেতাদের চলাচল কমে যায়। অনেক সময় নোংরা নিকাশি জল রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। ফলে জল জমার সমস্যা দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি স্থানীয়দের।
পুরসভার পদক্ষেপে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশও। ব্যবসায়ী তপন পাল বলেন, পুরসভার এই উদ্যোগ ইতিবাচক। তাঁর আশা, নিকাশি নালা পরিষ্কার করা গেলে এলাকায় জল দাঁড়িয়ে থাকার সমস্যা কমবে। দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলেই তাঁর প্রত্যাশা।
তবে শুধু কংক্রিটের স্ল্যাব সরানোই নয়, নালাগুলি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং ভবিষ্যতে যাতে নিকাশি ব্যবস্থার উপর কোনও ধরনের স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কারণ, বর্ষার সময়ে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমার সমস্যা দেখা দেয়। কোথাও কোথাও সেই জল দীর্ঘ সময় ধরে নামতে চায় না।
শহরের নিকাশি ব্যবস্থার সঙ্গে রাস্তার জল জমার সম্পর্ক সরাসরি। নালা আবর্জনায় আটকে থাকলে কিংবা নালার মুখ বন্ধ হয়ে গেলে বৃষ্টির জল স্বাভাবিক গতিতে বেরোতে পারে না। ফলে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেও নিচু রাস্তাগুলিতে জল জমে যায়। রায়গঞ্জের এই অংশে সেই সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে নালার উপরের কংক্রিটের স্ল্যাবকে চিহ্নিত করেছে পুরসভা।
শনিবারের অভিযান তাই শুধু একটি রাস্তার জল জমার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা নয়, বরং শহরের নিকাশি ব্যবস্থাকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনার একটি পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন পুরকর্তারা। নালা পরিষ্কার করার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা তৈরি হওয়ার পরে সেখানে জমে থাকা আবর্জনা সরানোর কাজও করা হবে। এরপর বর্ষার বাকি সময়ে পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হয়, সেটাই দেখার।
এ দিকে, রায়গঞ্জ শহরের আরও যে সব এলাকায় একই ভাবে নিকাশি নালা আটকে জল জমে, সেখানেও পুরসভা একই ধরনের ব্যবস্থা নেয় কি না, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, বৃষ্টির সময় জলমগ্ন রাস্তা শহরবাসীর কাছে নতুন কোনও সমস্যা নয়। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা মোকাবিলায় নিকাশি পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং নিয়মিত পরিষ্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন বাসিন্দারা।
পুরসভার তরফে অবশ্য আপাতত বিদ্রোহী মোড় থেকে মেডিক্যাল কলেজমুখী রাস্তার সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। কংক্রিটের স্ল্যাব সরিয়ে নালা পরিষ্কার করা গেলে বৃষ্টির জল দ্রুত বেরিয়ে যাবে এবং জল জমার প্রবণতা কমবে—এই আশাতেই কাজ এগোচ্ছে। এখন পুরসভার এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, বর্ষার পরবর্তী বৃষ্টিতেই তার পরীক্ষা হবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments