Homeবীরভূমরামপুরহাটআশিসের বাড়িতে শুভেন্দু, স্ত্রীকে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর দিয়ে বললেন, ‘দাদাকে ফিরিয়ে দিতে পারব না, পাশে থাকব’

আশিসের বাড়িতে শুভেন্দু, স্ত্রীকে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর দিয়ে বললেন, ‘দাদাকে ফিরিয়ে দিতে পারব না, পাশে থাকব’

নিউজ ডেস্ক; সদ্যপ্রয়াত রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রামপুরহাটের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
resizeplus_Screenshot 2026-08-30 144000_edited

নিউজ ডেস্ক; সদ্যপ্রয়াত রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রামপুরহাটের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার রামপুরহাটে প্রশাসনিক সভা শেষ করার পর আশিসের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে প্রয়াত নেতার স্ত্রী সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ছেলে শতদল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি সুস্মিতার হাতে নিজের ব্যক্তিগত ফোন নম্বরও তুলে দেন তিনি।

বাড়িতে পৌঁছেই আশিস-পুত্র শতদলকে জড়িয়ে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিতরে গিয়ে কথা বলেন। বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে থাকার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানেই আশিসের পরিবারের প্রতি নিজের সহমর্মিতার কথা জানান শুভেন্দু।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আশিসকে আর ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তাঁর পরিবারের পাশে থাকার দায়িত্ব তিনি পালন করবেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তিনি তাঁদের এই আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান।

সদ্য প্রয়াত নেতার পরিবারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে এক দিকে যেমন শোকের আবহ তৈরি হয়েছে, তেমনই তাঁর মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া একটি নোটে তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের উল্লেখ নিয়েও তদন্ত চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আশিসের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত বন্ধ হবে না। প্রশাসনিক বৈঠকের পরে তিনি বলেন, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলা তদন্ত থামিয়ে দেওয়া হবে।

গত ১৬ অগস্ট আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল তাঁর বাড়ির কাছের দলীয় কার্যালয় থেকে। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। সেই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া একটি নোটকে কেন্দ্র করেও নানা প্রশ্ন সামনে আসে। ওই নোটে তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বীরভূমের রাজনীতিতেও তাঁর দীর্ঘদিনের প্রভাব ছিল। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুর কারণ এবং তার সঙ্গে কোনও প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক বিষয় যুক্ত ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবিও ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার রামপুরহাটে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সভার ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও তিনি সরাসরি আশিসের বাড়িতে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং সহমর্মিতার বিষয়টি সামনে এসেছে।

পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুধু সমবেদনা জানাননি, তাঁদের নিরাপত্তা ও পাশে থাকার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন। সুস্মিতাকে নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়ে তিনি জানান, প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যরা যেন সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। একই সঙ্গে পরিবারের মোবাইল নম্বরও নিজের ফোনে সেভ করে নেন মুখ্যমন্ত্রী।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু জানান, আশিসের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বলেছেন, প্রশাসন কিংবা বিজেপির কোনও ব্যক্তি তাঁদের কোনও ভাবে উত্ত্যক্ত করেননি। বরং স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক এবং তাঁর প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধার কথাও পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও একটি ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এক অনুষ্ঠানে তিনি আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি কালীমূর্তি উপহার দিয়েছিলেন। সেই মূর্তিই আশিস নিয়মিত পুজো করতেন বলে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি। প্রতিদিন পুজো করে বাড়ি থেকে বেরোতেন প্রয়াত বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সময় পাশে থাকা শতদল মাথা নেড়ে সম্মতি জানান।

আশিসের ছেলে শতদলও এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, বাবার মৃত্যুর পর প্রথম দিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে মুখ্যমন্ত্রী যে ভরসা এবং আস্থা তাঁদের দিয়েছেন, তার জন্য পরিবার চিরকৃতজ্ঞ থাকবে বলেও জানান তিনি।

শতদলের কথায়, শোকের সময় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর যে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তা তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা কাটিয়ে ওঠার এই কঠিন সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত যোগাযোগের আশ্বাস তাঁদের মানসিক ভাবে কিছুটা ভরসা জুগিয়েছে বলেই মনে করছে পরিবার।

তবে পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের পাশাপাশি তদন্তের প্রশ্নেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় যে তদন্ত চলছে, তা তার গতিতেই চলবে। বিশেষ করে তাঁর রেখে যাওয়া নোটে দুর্নীতির অভিযোগের উল্লেখ থাকায় সেই বিষয়টি তদন্তের আওতার বাইরে রাখা হবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, প্রয়াত নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং পরিবারের প্রতি সহমর্মিতার জায়গাটি এক দিকে থাকলেও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত অন্য দিকে চলবে। কোনও ব্যক্তির মৃত্যু তদন্তকে প্রভাবিত করবে না—এমনই বার্তা দিয়েছেন তিনি।

শনিবারের এই সাক্ষাৎ তাই একই সঙ্গে ছিল শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মুহূর্ত এবং তদন্তের বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করার ঘটনা। এক দিকে শতদলকে জড়িয়ে ধরে সমবেদনা, সুস্মিতার হাতে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর তুলে দেওয়া, অন্য দিকে দুর্নীতির তদন্ত চলবে বলে দৃঢ় বার্তা—দুই দিকই সামনে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর রামপুরহাট সফরে।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর পরিবারের পাশে প্রশাসন এবং রাজনৈতিক মহলের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, শনিবারের সাক্ষাতে তারও একটি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে তাঁদের প্রয়োজনের সময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এখন নজর থাকবে তদন্তের দিকে। আশিসের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, তাঁর রেখে যাওয়া নোটে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তি এবং তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে তদন্ত কোন পথে এগোয়, সেটিই আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আশিসের মৃত্যুর ঘটনায় শোক থাকলেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved