Homeদেশসনিয়ার ‘Belonging’ প্রকাশে পেঙ্গুইনের না, সম্পাদনা নিয়ে মতবিরোধেই কি থামল বই?

সনিয়ার ‘Belonging’ প্রকাশে পেঙ্গুইনের না, সম্পাদনা নিয়ে মতবিরোধেই কি থামল বই?

নিউজ ডেস্ক; কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর বহু প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা ‘Belonging: A Journey of Love’ প্রকাশ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা।
Screenshot 2026-08-28 165348_edited

নিউজ ডেস্ক; কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর বহু প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা ‘Belonging: A Journey of Love’ প্রকাশ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। ভারতে বইটির প্রকাশনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে প্রকাশনা সংস্থাটি। শুক্রবার একটি বিবৃতিতে পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া বা পিআরএইচআই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভারতে সনিয়া গান্ধীর এই বইটি তারা প্রকাশ করছে না।

প্রকাশনা সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, বইটির পাণ্ডুলিপি নিয়ে লেখিকার সঙ্গে তাদের আলোচনার সময় কিছু সম্পাদনাগত পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পেঙ্গুইনের দাবি, বই প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লেখককে সম্পাদকীয় পরামর্শ দেওয়া প্রকাশকের স্বাভাবিক দায়িত্ব। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই পাণ্ডুলিপির কয়েকটি জায়গায় সম্পাদনা এবং কিছু বিষয় বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল সংস্থা।

কিন্তু সেই পরিবর্তনগুলিতে সনিয়া গান্ধী সম্মতি দেননি বলে জানিয়েছে পেঙ্গুইন। এরপরই ভারতে বইটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা স্মৃতিকথাটির ভারতীয় সংস্করণ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতিতে পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ‘Belonging’ প্রকাশ করার বিষয়ে তারা আগ্রহী ছিল। তবে প্রকাশনার আগে পাণ্ডুলিপির বিষয়বস্তু যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় পরামর্শ দেওয়া তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। সেই প্রক্রিয়াতেই কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। লেখিকা সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রকাশনার পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে সংস্থাটি।

তবে ঠিক কোন কোন অংশে পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিংবা কোন বিষয় বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, তা প্রকাশ করেনি পেঙ্গুইন। সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তাঁদের আলোচনার বিস্তারিতও প্রকাশ করতে নারাজ সংস্থা। তাদের বক্তব্য, প্রকাশক ও লেখিকার মধ্যে হওয়া ওই আলোচনা গোপনীয় এবং সেই কারণে তার বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়।

ফলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বইটির কোন অংশ নিয়ে প্রকাশকের আপত্তি তৈরি হয়েছিল? পেঙ্গুইন নির্দিষ্ট করে কিছু না বলায় সেই উত্তর এখনও অজানা। একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট নয় যে, পাণ্ডুলিপির কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ঐতিহাসিক ঘটনা কিংবা অন্য কোনও অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না।

সনিয়া গান্ধীর এই স্মৃতিকথা নিয়ে অবশ্য বহুদিন ধরেই আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। বইটির বিষয়বস্তু মূলত তাঁর দীর্ঘ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাকে ঘিরে। ইতালির একটি ছোট শহরে শৈশব থেকে শুরু করে ভারতের রাজনৈতিক পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রার কথা এতে উঠে আসার কথা।

বিশেষ করে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়, সম্পর্ক এবং পরবর্তী সময়ে বিবাহিত জীবন—এই অধ্যায় বইটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিয়ের পরে নেহরু-গান্ধী পরিবারের অংশ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতাও স্মৃতিকথায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী পরিবারের ভিতরের জীবন এবং সেই পরিবারের সদস্য হিসেবে সনিয়া গান্ধীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে পাঠকদের আগ্রহ বরাবরই যথেষ্ট।

শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও বইটিতে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড, সঞ্জয় গান্ধীর মৃত্যু এবং রাজীব গান্ধীর হত্যার মতো ভয়াবহ পারিবারিক অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সেই সময়ের স্মৃতি এবং একজন পরিবারের সদস্য হিসেবে সেই ঘটনাগুলিকে কী ভাবে দেখেছিলেন সনিয়া গান্ধী, তা বইটির অন্যতম আলোচিত অংশ হয়ে উঠতে পারে।

এর পাশাপাশি রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশের ঘটনাও স্মৃতিকথায় বিশেষ জায়গা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পর কী পরিস্থিতিতে তিনি কংগ্রেসের নেতৃত্বে এলেন, সেই সিদ্ধান্তের পিছনে কী ধরনের ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক কারণ কাজ করেছিল—সেই প্রশ্নের উত্তরও বইয়ে পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় আসার ঘটনাও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই সময় সনিয়া গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহণ করেননি এবং মনমোহন সিংকে সেই পদে বসানো হয়। ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত এই ঘটনাকে সনিয়া গান্ধী কী ভাবে দেখেছিলেন, তাঁর নিজের ব্যাখ্যা কী—তা নিয়েও বইটি ঘিরে আগ্রহ রয়েছে।

সনিয়া গান্ধী এর আগে তাঁর স্মৃতিকথা সম্পর্কে যে ধারণা প্রকাশ করেছিলেন, তাতেও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য ছিল, নেহরু-গান্ধী পরিবারকে নিয়ে বহু বছর ধরে প্রচুর লেখা হয়েছে। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা কেন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাঁদের কাজের পিছনে কী ধরনের চিন্তা বা অনুভূতি ছিল এবং তাঁদের মানবিক দুর্বলতাগুলি কী ভাবে তাঁদের জীবনকে প্রভাবিত করেছিল—সেই বিষয়গুলি তুলনামূলক ভাবে কম আলোচিত হয়েছে।

এই জায়গা থেকেই ‘Belonging: A Journey of Love’-কে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্মৃতিকথা হিসেবে না দেখে একটি ব্যক্তিগত জীবনকাহিনি হিসেবেও দেখছেন অনেকে। নিজের প্রায় ছয় দশকের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ভারতীয় সমাজ ও রাজনীতির পরিবর্তনের একটি ব্যক্তিগত ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন সনিয়া গান্ধী—এমনটাই জানা গিয়েছে বইটি সম্পর্কে।

তাঁর শৈশবের ইতালির জীবন থেকে ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ, নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক, একের পর এক পারিবারিক ট্র্যাজেডি এবং শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে উঠে আসা—এই দীর্ঘ যাত্রাপথ বইটির কেন্দ্রীয় বিষয় হওয়ার কথা। ফলে বইটি প্রকাশিত হলে ভারতীয় রাজনীতি এবং নেহরু-গান্ধী পরিবারের ইতিহাস নিয়ে নতুন কিছু তথ্য ও ব্যক্তিগত স্মৃতি সামনে আসতে পারে বলে প্রত্যাশা ছিল।

কিন্তু প্রকাশকের সঙ্গে সম্পাদকীয় মতপার্থক্যের কারণে এখন সেই প্রকাশনা প্রক্রিয়াই থমকে গেল। পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার সিদ্ধান্তের ফলে বইটির ভারতীয় সংস্করণ শেষ পর্যন্ত কোন প্রকাশনা সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। পেঙ্গুইন অবশ্য বইটি প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে কোনও রাজনৈতিক চাপ বা অন্য কোনও বাহ্যিক কারণের কথা বলেনি। তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভাবে সম্পাদকীয় পরিবর্তন নিয়ে লেখিকা ও প্রকাশকের মতপার্থক্যকে ঘিরে।

ফলে সনিয়া গান্ধীর বহু প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা প্রকাশের আগে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা বইটির বিষয়বস্তুর মতোই নজর কেড়েছে। কোন অংশে কী পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং কেন লেখিকা তাতে সম্মতি দেননি—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। আলোচনাগুলি গোপনীয় হওয়ায় আপাতত সেই রহস্যও কাটছে না।

এখন নজর থাকবে বইটির পরবর্তী প্রকাশনা পরিকল্পনার দিকে। নতুন কোনও প্রকাশক দায়িত্ব নেয় কি না, পাণ্ডুলিপিতে কোনও পরিবর্তন হয় কি না এবং শেষ পর্যন্ত বইটি প্রকাশিত হলে সেখানে নেহরু-গান্ধী পরিবারের অন্দরমহল ও ভারতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলি কী ভাবে উঠে আসে—তা নিয়েই আগ্রহ থাকবে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ পাঠকের।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved