Last updated: August 26th, 2026 at 01:35 pm

নিউজ ডেস্ক : দক্ষিণ ২৪ পরগনার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বকখালি সমুদ্রসৈকতে আচমকাই দেখা মিলল বিষধর কেউটে সাপের। সৈকতের বালির উপর এঁকেবেঁকে এগিয়ে যেতে দেখা যায় সাপটিকে। মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে পর্যটকদের মধ্যে। সমুদ্রের ধারে বেড়াতে এসে এমন বিষধর সাপ চোখের সামনে দেখতে পেয়ে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ নিরাপদ দূরত্বে সরে যান, আবার কেউ দূর থেকেই সাপটির গতিবিধি দেখতে ভিড় করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কাজে নামে সৈকতে কর্তব্যরত সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা। পর্যটকদের যাতে কেউ সাপটির কাছে চলে না যান, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরাও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখেন। পরে খবর দেওয়া হয় বনদফতরকে। খবর পেয়ে বনদফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে উদ্ধার করেন। ফলে বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটার আগেই স্বস্তি ফেরে সৈকতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বকখালি পর্যটনকেন্দ্রের সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ভিড়ের মধ্যেই প্রথম সাপটিকে দেখতে পান সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। তাঁরা বুঝতে পারেন, এটি কোনও সাধারণ সাপ নয়। বিষধর কেউটে হওয়ায় বিষয়টিকে হালকা ভাবে নেওয়া হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের সতর্ক করা হয় এবং সাপটির থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে সৈকতের বিভিন্ন প্রান্তে। ফলে সাপটিকে দেখতে উৎসুক পর্যটকদের একাংশের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। দূর থেকে সাপটির ছবি তোলা এবং গতিবিধি দেখার চেষ্টা করতে থাকেন অনেকে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে উৎসাহ দেখাতে গিয়ে কেউ যাতে বিপদের মুখে না পড়েন, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই পর্যটকদের পিছিয়ে রাখার চেষ্টা করেন সিভিল ডিফেন্স কর্মী ও পুলিশকর্মীরা।
সাপটি সৈকতের বালির উপর দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় পরিস্থিতি আরও চাঞ্চল্যকর হয়ে ওঠে। এক দিকে বিষধর সাপের আতঙ্ক, অন্য দিকে সেটিকে ঘিরে পর্যটকদের ভিড়—দুইয়ের জেরে সৈকতে সাময়িক ভাবে উত্তেজনাও তৈরি হয়। তবে কর্মীদের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। পর্যটকদের একটি অংশকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এর পরেই বনদফতরে খবর পাঠানো হয়। খবর পেয়ে বনদফতরের কর্মীরা দ্রুত বকখালি সৈকতে পৌঁছন। অভিজ্ঞতার সঙ্গে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। বিষধর সাপটি উদ্ধার হওয়ার পরই সৈকতে উপস্থিত পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক অনেকটাই কমে যায়।
বনদফতরের কর্মীদের প্রাথমিক অনুমান, সাপটি সম্ভবত সৈকতের আশপাশের কোনও এলাকা থেকে ভুল করে সমুদ্রসৈকতের দিকে চলে এসেছিল। সাধারণত সমুদ্রের জলে বা সৈকতের খোলা অংশে এই ধরনের সাপের থাকার কথা নয়। আশপাশের ঝোপঝাড়, গাছপালা কিংবা অন্য কোনও জায়গা থেকে সাপটি সরে এসে সৈকতের ব্যস্ত এলাকায় ঢুকে পড়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বকখালির মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে আচমকা বিষধর সাপের দেখা মেলায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, সৈকতের আশপাশের এলাকায় এমন সরীসৃপের আনাগোনা কতটা স্বাভাবিক। তবে বনদফতরের তৎপরতায় সাপটিকে দ্রুত উদ্ধার করা হওয়ায় পর্যটকদের জন্য বড় কোনও বিপদ তৈরি হয়নি।
ঘটনার পর সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের একাংশকে আরও সতর্ক থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে বালিয়াড়ি, ঝোপঝাড় কিংবা নির্জন জায়গায় যাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনও বন্যপ্রাণী বা সাপ দেখতে পেলে সেটিকে ধরতে কিংবা তার একেবারে কাছে গিয়ে ছবি তুলতে না যাওয়াই নিরাপদ।
প্রশাসন ও বনদফতরের কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই এ দিনের ঘটনায় কোনও পর্যটক সাপের কামড়ের শিকার হননি। সাপটিকেও নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফলে আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।
বকখালিতে বেড়াতে এসে বিষধর কেউটের এমন আকস্মিক উপস্থিতি নিঃসন্দেহে পর্যটকদের কাছে চমকে যাওয়ার মতো ঘটনা। তবে বনদফতরের মতে, সাপটি সম্ভবত ভুল করে সৈকত এলাকায় চলে এসেছিল। তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো পর্যটনকেন্দ্রকে অনিরাপদ বলে মনে করার কারণ নেই। বরং সতর্ক থাকা এবং বন্যপ্রাণী দেখলে দূরত্ব বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments