Homeহাওড়াহাওড়ার ২৫ ওয়ার্ড জলমগ্ন, পাম্প বসিয়েও কাটছে না দুর্ভোগ

হাওড়ার ২৫ ওয়ার্ড জলমগ্ন, পাম্প বসিয়েও কাটছে না দুর্ভোগ

resizeplus_Screenshot 2026-09-04 120754_edited

নিউজ ডেস্ক; সোমবার থেকে টানা বর্ষণে হাওড়া পুরসভা এলাকার একাধিক ওয়ার্ডে জল জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। নিচু এলাকায় কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান জল। নোংরা জল ঢুকে পড়েছে বহু বাড়িতে। কোথাও বাসিন্দারা ঘরে তালা লাগিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে চলে গিয়েছেন, কোথাও আবার নীচের তলার আসবাবপত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে উপরের তলায়। জলমগ্ন অধিকাংশ বাড়িতে রান্নাবান্নাও বন্ধ বলে স্থানীয়দের দাবি।

হাওড়া পুরসভার ৫০টি ওয়ার্ডের মধ্যে কমপক্ষে ২৫টি ওয়ার্ডে জল জমেছে বলে জানা গিয়েছে। মধ্য হাওড়ার কদমতলা, টিকিয়াপাড়া, উত্তর হাওড়ার সালকিয়া, ঘুসুড়ি ছাড়াও রামরাজাতলা, বেলগাছিয়া, দাশনগর, লিলুয়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পাম্প বসিয়ে জল নামানোর চেষ্টা করছে পুরসভা। তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ, জল নামতে এখনও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

ঘরে জল, বন্ধ রান্নাবান্না

জল জমে যাওয়ায় বহু বাড়ির বাসিন্দা কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। নোংরা জল ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়ায় দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই নীচের তলা থেকে আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিস উপরের তলায় সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। আবার কেউ কেউ বাড়িতে তালা লাগিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয়দের বক্তব্য, জলমগ্ন বাড়িগুলিতে রান্নাবান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পানীয় জলের অভাবও দেখা দিয়েছে। ফলে শুধু জল নামার অপেক্ষা নয়, খাবার ও নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থাও এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘বাড়ির ভিতরে নোংরা জল ঢুকে রয়েছে। রান্না করা যাচ্ছে না, পানীয় জলেরও সমস্যা হচ্ছে। জল নামতে কয়েক দিন সময় লাগবে বলেই মনে হচ্ছে।’’

অতিরিক্ত পাম্পে জল নামানোর চেষ্টা

হাওড়া পুরসভার কমিশনার তেজস্বী রানা জানিয়েছেন, পুরসভার নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পাম্প লাগানো হয়েছে, যাতে জল দ্রুত নেমে যায়।

পুরসভার তরফে জল নিষ্কাশনের কাজ চালানো হলেও, কোথাও কত দ্রুত জল নামবে, তা নির্ভর করছে বৃষ্টির পরিস্থিতি এবং নিকাশি ব্যবস্থার উপর। টানা বৃষ্টিতে নতুন করে জল জমলে পুরসভার কাজও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

পানীয় জল ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা

রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই জানিয়েছেন, হাওড়া শহরের জলনিকাশি ব্যবস্থা উন্নততর করার কাজ চলছে। তাঁর বক্তব্য, আগামী বছর থেকেই মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হবে। পাঁচ বছর পরে শহরে আর জল জমবে না বলেও দাবি করেছেন তিনি।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জলমগ্ন বাড়িগুলিতে শুকনো খাবার এবং পানীয় জলের পাউচ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। কিছু এলাকায় ইতিমধ্যেই জলের পাউচ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ডেঙ্গি নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ

জল জমে থাকার কারণে ডেঙ্গি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জমা জল মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। ফলে জল নিষ্কাশনের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার মন্ত্রী উমেশ রাই এবং হাওড়া পুরসভার কমিশনার তেজস্বী রানার নেতৃত্বে মধ্য হাওড়ার কদমতলা বাজারে স্বচ্ছতা সংকল্প অভিযান চালান পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা। অভিযানে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরাও যোগ দেন। জলমগ্ন এলাকার পাশাপাশি বাজার ও আশপাশের জায়গায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়।

নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ

হাওড়া শহরের নিচু এলাকাগুলিতে বর্ষায় জল জমার সমস্যা নতুন নয়। এ বারও টানা বৃষ্টির পরে একাধিক ওয়ার্ডে একই ছবি দেখা গিয়েছে। কোথাও রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে রয়েছে, কোথাও সেই জল ঢুকে পড়েছে বাড়ির ভিতরে। ফলে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

পুরসভার কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পাম্প বসানো হয়েছে। তবে জল নিষ্কাশনের কাজ কতটা এগিয়েছে, বা কোন কোন এলাকায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যান এখনও জানা যায়নি।

অন্য দিকে, মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের বক্তব্যে দীর্ঘমেয়াদি নিকাশি পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে এসেছে। আগামী বছর থেকে মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগে বর্তমান বর্ষায় জলমগ্ন বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমানোই এখন প্রশাসনের তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ।

বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত জল নামানো হোক

জলমগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, শুধু পাম্প বসালেই হবে না, জল কোথা দিয়ে বেরোচ্ছে এবং কোথায় গিয়ে জমছে, সেই সমস্যারও স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। অনেক বাড়িতে জল ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

বিশেষ করে যাঁরা বাড়িতে তালা লাগিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে চলে গিয়েছেন, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। আবার যাঁরা বাড়িতেই রয়েছেন, তাঁদের রান্নাবান্না, পানীয় জল এবং ঘরের জিনিসপত্র রক্ষার মতো একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

নজরে জল নিষ্কাশন ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি

এখন প্রশাসনের সামনে মূলত দু’টি কাজ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, জলমগ্ন এলাকাগুলিতে দ্রুত জল নামানো এবং প্রয়োজনীয় পাম্প চালু রাখা। দ্বিতীয়ত, পানীয় জল ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি জমা জলের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো।

কদমতলা বাজারে স্বচ্ছতা সংকল্প অভিযানও সেই প্রস্তুতির অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ডেঙ্গি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে কতগুলি ডেঙ্গি আক্রান্তের খবর পাওয়া গিয়েছে বা কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় সংক্রমণ বেড়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

আগামী কয়েক দিনের দিকে নজর

হাওড়ার একাধিক ওয়ার্ডে জল জমে যাওয়ায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ এখনই কাটছে না। পুরসভা অতিরিক্ত পাম্প বসিয়ে জল নামানোর চেষ্টা করছে, প্রশাসনের তরফে পানীয় জল ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তবে জল কত দ্রুত নামবে, তা নির্ভর করছে বৃষ্টির পরিস্থিতি এবং নিকাশি ব্যবস্থার উপর।

দীর্ঘমেয়াদি মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হওয়ার কথা জানানো হলেও, বর্তমান বর্ষায় জলমগ্ন পরিবারগুলির জন্য দ্রুত ত্রাণ ও জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং পরিস্থিতির উন্নতির দিকেই নজর রাখছেন বাসিন্দারা।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved