Homeকলকাতাযাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে ‘ঋষি অরবিন্দের নামে’ করার দাবি! পাল্টা কটাক্ষ সৃজনের, রাজনীতির উত্তাপ ক্যাম্পাসে

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে ‘ঋষি অরবিন্দের নামে’ করার দাবি! পাল্টা কটাক্ষ সৃজনের, রাজনীতির উত্তাপ ক্যাম্পাসে

নিউজ ডেস্ক : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর যেন থামছেই না। গত কয়েক দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে বঙ্গ রাজনীতিতে
Screenshot 2026-09-04 140503

নিউজ ডেস্ক : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর যেন থামছেই না। গত কয়েক দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে বঙ্গ রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে একের পর এক বিতর্ক। তারই মধ্যে বৃহস্পতিবার আরও একটি নতুন দাবি সামনে এল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ঋষি অরবিন্দের নামে করার প্রস্তাব দিলেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। প্রয়োজনে এই দাবির সমর্থনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একাধিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিনভর ছিল ব্যস্ততা। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপির তরফে আয়োজন করা হয় ‘তেরঙ্গা যাত্রা’। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন-সহ নানা কর্মসূচিও ছিল। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় সংগঠনের সদস্যরা একাধিক মনীষীর ছবিও টাঙান।

এই আবহেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের দাবি সামনে আসায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

‘ঋষি অরবিন্দের নামে হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম’

বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণাসেন মঞ্চে বেদ পাঠ এবং জাতীয়তাবাদী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সেই মঞ্চ থেকেই নাম পরিবর্তনের দাবি তোলেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়।

তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ঋষি অরবিন্দের ভূমিকা জড়িয়ে রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তাঁর নামে করার দাবি জানানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

শর্বরীর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রিটিশবিরোধী সময়ে বাঙালি মেধার বিকাশ এবং জাতীয় চেতনার প্রসারের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসের যোগ রয়েছে। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই তিনি ঋষি অরবিন্দের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন।

তাঁর কথায়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্রষ্টা ঋষি অরবিন্দ—এমন দাবি করেই তিনি নাম পরিবর্তনের বার্তা দেন। জাতীয়তাবাদী মঞ্চ থেকেই এই প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে বলেও জানান বিধায়ক।

গণস্বাক্ষরের পথে যাওয়ার ইঙ্গিত

শুধু বক্তব্য দিয়েই বিষয়টি থামিয়ে রাখতে চান না শর্বরী। প্রয়োজন হলে বৃহত্তর জনসমর্থন গড়ে তোলার জন্য গণস্বাক্ষর বা ‘মাস পিটিশন’ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শর্বরীর বক্তব্য অনুযায়ী, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে সেই আবেদনপত্র রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর কাছেও তা জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের কাছেও আবেদন পাঠানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অর্থাৎ, বিষয়টি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের একটি রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রশাসনিক স্তরেও নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেই তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট।

পাল্টা প্রতিক্রিয়া সৃজন ভট্টাচার্যের

শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের এই প্রস্তাব সামনে আসার পরেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য। উল্লেখযোগ্য ভাবে, তিনি শুরুতেই যাদবপুরের বিধায়কের প্রস্তাবকে সমর্থনের কথা জানান। তবে এরপরই বিজেপি এবং আরএসএসকে নিশানা করে নিজের রাজনৈতিক যুক্তি তুলে ধরেন তিনি।

সৃজনের বক্তব্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ঋষি অরবিন্দের নামে করার প্রস্তাবকে তিনি সমর্থন করেন। তবে তাঁর প্রশ্ন, যদি নাম পরিবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিক আদর্শ বা নির্দিষ্ট মতাদর্শকে সামনে রাখার জন্য করা হয়, তাহলে তার পেছনে কী যুক্তি থাকবে?

এই প্রসঙ্গেই তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাস্তার নাম পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্যের লক্ষ্য ছিল, নাম পরিবর্তনের রাজনীতির সঙ্গে বৃহত্তর মতাদর্শগত বিতর্ককে জুড়ে দেওয়া।

‘অরবিন্দ কি ওদের পারপাস সার্ভ করতে পারবেন?’

সৃজন ভট্টাচার্যের বক্তব্যের পরের অংশ আরও তীব্র রাজনৈতিক কটাক্ষে ভরা। তিনি দাবি করেন, ঋষি অরবিন্দ স্বদেশি আন্দোলন এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। অন্য দিকে বিজেপি বা আরএসএসের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অরবিন্দের নাম ব্যবহার করে বর্তমান রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কতটা পূরণ করা সম্ভব, সেটিও ভাবা দরকার।

এরপর আরও কটাক্ষপূর্ণ ভাষায় সৃজন বলেন, যদি নাম বদল করতেই হয়, তা হলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নাথুরাম গডসের নামে করার প্রস্তাব করা হোক। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও কয়েকটি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন এবং শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে উপাচার্য করার কথাও বলেন।

সৃজনের এই বক্তব্য যে নিছক প্রশাসনিক পরামর্শ নয়, বরং রাজনৈতিক ব্যঙ্গ এবং পাল্টা আক্রমণ—তাঁর বক্তব্যের ভাষাতেই তা স্পষ্ট। ফলে নাম পরিবর্তনের একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী কর্মসূচি ঘিরেও চর্চা

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার এবিভিপির কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘তেরঙ্গা যাত্রা’, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের পাশাপাশি মনীষীদের ছবি টাঙানোর ঘটনাও নজর কেড়েছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভাবেই ছাত্র রাজনীতি, মতাদর্শের সংঘাত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে ক্যাম্পাসে কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মসূচি হলেই তা অনেক সময় বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবারের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়।

এক দিকে ঋষি অরবিন্দের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণের দাবি, অন্য দিকে সেই প্রস্তাবকে ঘিরে বাম শিবিরের পাল্টা রাজনৈতিক কটাক্ষ—সব মিলিয়ে যাদবপুরকে ঘিরে বিতর্কে যোগ হল নতুন অধ্যায়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের মতো কোনও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হলে তার জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে দাবি ওঠার পর সেটি শেষ পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা সরকারি সিদ্ধান্তে রূপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

সব মিলিয়ে, বৃহস্পতিবারের ঘটনাপ্রবাহে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ফের উঠে এল বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। জাতীয়তাবাদী কর্মসূচি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলের দাবি এবং তার পাল্টা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া—এক দিনের মধ্যেই একাধিক ইস্যুতে সরগরম হয়ে উঠল ক্যাম্পাস।


No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved