Last updated: September 3rd, 2026 at 07:39 pm

নিউজ ডেস্ক; রায়গঞ্জ জেলা ও দায়রা আদালত চত্বরে আইনজীবীদের অস্থায়ী বসার জায়গা বা সেরেস্তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ ঘিরে ক্ষোভ ছড়াল আইনজীবী মহলে। বুধবার ওই নির্দেশের প্রতিবাদে আদালত চত্বরেই মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। আইনজীবীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত সেরেস্তাগুলি ভেঙে ফেলার আগে বিকল্প বসার জায়গার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। অল্প সময়ের নোটিসে এ ভাবে তাঁদের কর্মস্থল সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আইনজীবীদের দাবি, গত ৩১ অগস্ট জেলা বিচারকের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেই নির্দেশিকায় আদালত চত্বরে থাকা অস্থায়ী নির্মাণগুলি ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়েছে। আদালত চত্বরে ওই অস্থায়ী নির্মাণগুলির মধ্যেই রয়েছে বহু আইনজীবীর সেরেস্তা। বছরের পর বছর ধরে ওই জায়গাগুলিতে বসেই তাঁরা মামলা সংক্রান্ত নথিপত্র তৈরি করেন, মক্কেলদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আদালতের কাজ পরিচালনা করেন। ফলে হঠাৎ করে সেরেস্তা ভেঙে ফেলার নির্দেশে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। পরে তাঁরা একজোট হয়ে আদালত চত্বরে মিছিল করেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আইনজীবীদের বক্তব্য, আদালতের সৌন্দর্যায়ন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল। বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা না করে পুরনো সেরেস্তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হলে বহু আইনজীবী কার্যত কর্মস্থলহীন হয়ে পড়বেন বলে তাঁদের আশঙ্কা।
উত্তর দিনাজপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সায়ন চৌধুরী বলেন, এত কম সময়ের নোটিসে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত সেরেস্তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সেরেস্তা ভাঙার আগে আইনজীবীদের বসার জন্য উপযুক্ত জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, আদালত চত্বরে তাঁদের সেরেস্তাগুলি শুধু বসার জায়গা নয়, পেশাগত কাজের অপরিহার্য অংশ। প্রতিদিন বহু মক্কেল তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। মামলার নথি, জামিনের কাগজ, হলফনামা, পাওয়ার এবং অন্যান্য আইনি নথি প্রস্তুত করতে নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজন হয়। আদালতের বাইরে অন্য কোথাও বসে এই কাজ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। বিশেষ করে প্রবীণ আইনজীবী এবং দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় কাজ করে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও গুরুতর হতে পারে।
বিক্ষোভকারীরা আরও জানিয়েছেন, অস্থায়ী নির্মাণগুলি যদি প্রশাসনিক বা নিরাপত্তাজনিত কারণে সরাতেই হয়, তা হলে ধাপে ধাপে পরিকল্পনা করে কাজ করা উচিত। প্রথমে বিকল্প জায়গা চিহ্নিত করা, আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী বসার ব্যবস্থা করার পরেই পুরনো সেরেস্তা সরানো উচিত। তা না হলে আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্মও ব্যাহত হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
আদালত চত্বরে আইনজীবীদের বিক্ষোভের কারণে বুধবার কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনজীবীরা তাঁদের দাবি নিয়ে সরব হলেও আদালতের দৈনন্দিন কাজ যাতে সম্পূর্ণ ভাবে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও নজর রাখা হয় বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, নির্দেশিকার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ‘পেন ডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন আইনজীবীরা। অর্থাৎ, ওই দিন তাঁরা আদালতের নিয়মিত কাজ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে মামলার শুনানি, নথি দাখিল এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইনজীবীদের বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলনের পথ থেকে সরবেন না।
বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, সেরেস্তা ভাঙার আগে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তাঁরা প্রস্তুত। তাঁরা চান, আদালত কর্তৃপক্ষ আইনজীবীদের বাস্তব সমস্যাগুলি বিবেচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করুক। আদালতের পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে আইনজীবীদের কর্মপরিবেশের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁদের।
অন্যদিকে, জেলা বিচারকের নির্দেশিকার উদ্দেশ্য কী এবং অস্থায়ী নির্মাণগুলি সরানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা কতটা, তা নিয়ে আদালত কর্তৃপক্ষের তরফে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
রায়গঞ্জ আদালত চত্বরে সেরেস্তা ভাঙার নির্দেশ ঘিরে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা আপাতত শুধু একটি নির্মাণ সরানোর প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আইনজীবীদের কর্মস্থল, পেশাগত নিরাপত্তা এবং আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্মের বিষয়। তাই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান খোঁজা জরুরি বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments