Homeজেলাশান্তিপুরে ডেঙ্গির থাবা! সতর্ক প্রশাসন, ময়দানে বিডিও ও স্বাস্থ্য কর্তারা

শান্তিপুরে ডেঙ্গির থাবা! সতর্ক প্রশাসন, ময়দানে বিডিও ও স্বাস্থ্য কর্তারা

নিউজ ডেস্ক: বর্ষা বিদায়ের মুখেও শান্তিপুর ব্লকে নতুন করে চোখ রাঙাতে শুরু করল মারণ পতঙ্গবাহিত রোগ ডেঙ্গি। বিগত বছরগুলির তুলনায় চলতি মরসুমে নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত উল্লেখযোগ্য ভাবে কম
resizeplus_dengi

নিউজ ডেস্ক: বর্ষা বিদায়ের মুখেও শান্তিপুর ব্লকে নতুন করে চোখ রাঙাতে শুরু করল মারণ পতঙ্গবাহিত রোগ ডেঙ্গি। বিগত বছরগুলির তুলনায় চলতি মরসুমে নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত উল্লেখযোগ্য ভাবে কম হলেও সম্প্রতি তিন জনের শরীরে এই সংক্রমণের হদিস মেলায় নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে ব্লকের তিনটি পৃথক পঞ্চায়েত এলাকা থেকে তিন জনের রক্তে ডেঙ্গির জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তরা যথাক্রমে বেলগড়িয়া ১, বেলগড়িয়া ২ এবং নবলা পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। তবে স্বস্তির বিষয়, যথাসময়ে উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় আক্রান্ত তিন জনই এখন সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।

গত কয়েক বছরে নদীয়া জেলার সীমান্ত ও আধা-শহরাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ডেঙ্গির সংক্রমণ এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরে ব্লক প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আগাম পরিকল্পনার জোরে সংক্রমণের রেখচিত্র অনেকটাই নিম্নমুখী। শান্তিপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ) ডা. সুজন দাস জানিয়েছেন, ডেঙ্গি পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। স্বাস্থ্য দফতর ও পঞ্চায়েত প্রশাসন যৌথভাবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে। প্রতিটি পঞ্চায়েতে নিয়মিত ভাবে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। কোথাও যাতে বৃষ্টির জল বা নর্দমার নোংরা জল জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে সার্বক্ষণিক প্রতিরোধমূলক কাজকর্ম চালু রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকের স্পষ্ট বার্তা— আতঙ্কের বদলে প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সচেতনতা।

ব্লকে নতুন করে তিন জনের ডেঙ্গি শনাক্ত হওয়ার পরেই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন শান্তিপুরের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) সব্যসাচী রায়। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা যাতে তৃণমূল স্তরে নিখুঁত ভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য পঞ্চায়েতের কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং যত্রতত্র গড়ে ওঠা জঙ্গল পরিষ্কারের দায়িত্বে থাকা ভিটিডি (VTD) ও ভিএইচএসটি (VHST) কর্মীদের কাজে কোনও রকম ঢিলেঢালা মনোভাব বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি দল গ্রামে গ্রামে ঘুরে স্প্রে করা, ব্লিচিং ছড়ানো এবং জমে থাকা জলের উৎস ধ্বংস করার কাজ নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরিচালনা করছে কি না, তা কড়া নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বাইরে থেকে আসা মানুষের সংক্রমণ। জীবিকা বা ভ্রমণের সূত্রে জেলার বাইরে কিংবা কলকাতায় গিয়ে অনেকেই সংক্রমিত হয়ে বাড়ি ফিরছেন। বিডিও সব্যসাচী রায় জানিয়েছেন, বাইরে থেকে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে গ্রামে ফিরছেন যাঁরা, তাঁদের শনাক্ত করে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে, যাতে তাঁদের মাধ্যমে স্থানীয় এডিস মশার কামড়ে নতুন করে এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে না পারে। জেলার অন্যান্য প্রান্তে ডেঙ্গির প্রকোপ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও শান্তিপুরে এই সংখ্যাটি এখনও পর্যন্ত অত্যন্ত সীমিত। সেই স্বস্তির বাতাবরণ বজায় রাখতেই প্রশাসন এখন থেকেই আগাম প্রতিরোধকে হাতিয়ার করছে।

প্রশাসনের তরফে সাধারণ গ্রামবাসীদের সতর্ক করে জানানো হয়েছে, নিজের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় কোথাও যেন স্বচ্ছ জল জমতে না দেওয়া হয়। বিশেষ করে ছাদ, বারান্দা বা উঠোনে পড়ে থাকা ভাঙা পাত্র, ডাবের খোসা, পুরোনো গাড়ির টায়ার কিংবা ফুলের টবের ট্রে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সাত দিনের বেশি জল জমে থাকলে সেখানেই প্রাণঘাতী এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করে। স্বাস্থ্যকর্তাদের পরামর্শ, কারও শরীরেই যদি প্রবল জ্বর, গাঁটে ব্যথা বা চোখের পেছনে যন্ত্রণার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে স্থানীয় হাতুড়ে ডাক্তারের খপ্পরে না পড়ে অবিলম্বে নিকটস্থ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। বিনামূল্যে পরীক্ষার পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসার পরিকাঠামো মজুত রেখেছে স্বাস্থ্য প্রশাসন।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved