Homeজেলামোদীর জন্মদিনে মানবিকতার আলো! রানাঘাটে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার সরঞ্জাম পেলেন প্রবীণ ও দিব্যাঙ্গরা

মোদীর জন্মদিনে মানবিকতার আলো! রানাঘাটে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার সরঞ্জাম পেলেন প্রবীণ ও দিব্যাঙ্গরা

নিউজ ডেস্ক: উৎসবের দিনে কেবল আড়ম্বর বা লোকদেখানো উদযাপন নয়, বরং সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকৃত সেবার এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো নদীয়া জেলার রানাঘাটে।
dibyango

নিউজ ডেস্ক: উৎসবের দিনে কেবল আড়ম্বর বা লোকদেখানো উদযাপন নয়, বরং সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকৃত সেবার এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো নদীয়া জেলার রানাঘাটে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে যখন গোটা দেশজুড়ে নানা রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন চলছে, ঠিক তখনই এক অভিনব ও মানবিক উদ্যোগের সাক্ষী থাকল রানাঘাট শহর। ভারত সরকারের ‘সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক’-এর উদ্যোগে এবং ‘আলিমকো’ (ALIMCO)-র নিবিড় ব্যবস্থাপনায় বৃহস্পতিবার রানাঘাটের পুলিশ ফাঁড়ির নিকটবর্তী কুপার্স ক্যাম্প এলাকায় অনুষ্ঠিত হলো এক বিশেষ ‘সামাজিক অধিকারিতা শিবির’। রাজ্য প্রশাসন তথা নদীয়া জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেগা শিবিরের মাধ্যমে প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম বা দিব্যাঙ্গজনদের মুখে হাসি ফোটানোর এক বৃহৎ কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হলো এ দিন।

ভারত সরকারের ‘রাষ্ট্রীয় বয়োশ্রী যোজনা’ (RVY) এবং ‘এডিআইপি’ (ADIP) প্রকল্পের অধীনে দেশজুড়ে যে নিরলস সামাজিক ক্ষমতায়ন ও পুনর্বাসনের কাজ চলছে, রানাঘাটের এই শিবিরটি তারই একটি বৃহত্তর অংশ। সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত মোট ৭৬টি শিবিরের মধ্যে রানাঘাটের এই শিবিরটি ছিল অন্যতম। আয়োজক ও প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো সমাজের সেইসব প্রান্তিক মানুষদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা, যাঁরা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে ছিটকে গিয়েছেন। এই মেগা শিবিরের পরিসর ও ব্যাপ্তি ছিল রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সম্পূর্ণ রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্র জুড়ে প্রায় ৫ হাজারটি অত্যাধুনিক ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জাম বণ্টনের এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে, যার সর্বমোট বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা।

বৃহস্পতিবারের এই বিশেষ ও বর্ণাঢ্য শিবিরের মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জগন্নাথ সরকার। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত থেকে প্রবীণ ও দিব্যাঙ্গজনদের উৎসাহ জোগান রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়, রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক অসীম কুমার বিশ্বাস সহ স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও রাজনীতির একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এদিন শিবিরের প্রথম পর্যায়ে রানাঘাটের লোকসভা কেন্দ্র সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামীণ ও শহরতলি অঞ্চলের প্রায় ১,৩০০ জন দিব্যাঙ্গজন ও প্রবীণ নাগরিকের হাতে সম্পূর্ণ নিখরচায় তাঁদের জীবনদায়ী ও বহুমূল্য সহায়ক সরঞ্জামগুলি তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যাঁরা কার্যত গৃহবন্দি ছিলেন বা দৈনন্দিন কাজের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন, নিজেদের নামে বরাদ্দ সরঞ্জাম হাতে পেয়ে তাঁদের চোখেমুখে যে আনন্দ ও স্বস্তির ঝিলিক দেখা গিয়েছে, তা ছিল এই শিবিরের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।

কী কী সরঞ্জাম প্রদান করা হলো এদিনের এই মেগা শিবিরে? আয়োজকদের তরফে একটি বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, বিনামূল্যে বিতরিত এই সামগ্রীগুলির মধ্যে ছিল বিশেষভাবে সক্ষমদের যাতায়াতের জন্য আধুনিক মানের সাধারণ ট্রাইসাইকেল, অত্যাধুনিক ব্যাটারি চালিত মোটর গাড়ি, চলাফেরার সুবিধার জন্য মজবুত ক্রাচ, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসা প্রবীণদের জন্য পাওয়ারযুক্ত চশমা, বয়সের ভারে দাঁত হারানো বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য কৃত্রিম বাঁধানো দাঁতের পাটি, শ্রবণশক্তি হারানো মানুষদের জন্য কানের উন্নত প্রযুক্তির শ্রবণ যন্ত্র (হিয়ারিং এইড) সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম ও শারীরিক কসরতের সহায়ক সরঞ্জাম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা মানুষকে যতটা না শারীরিকভাবে পঙ্গু করে, তার চেয়ে অনেক বেশি মানসিক অবসাদ ও হীনমন্যতার দিকে ঠেলে দেয়। অন্যের করুণার পাত্র হয়ে বেঁচে থাকার গ্লানি অনেক সময় তাঁদের জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। ভারত সরকারের এই আধুনিক সরঞ্জামগুলি তাঁদের সেই পরনির্ভরশীলতা ঘুচিয়ে আত্মনির্ভর হতে সাহায্য করবে। একটি ব্যাটারি চালিত গাড়ি পেয়ে একজন দিব্যাঙ্গ মানুষ এখন হয়তো নিজের এলাকায় ছোটখাটো কাজ করে রোজগারের পথ খুঁজে নিতে পারবেন। একইভাবে, যে প্রবীণ মানুষটি কানে শুনতে না পাওয়ার কারণে পরিবারের অন্দরেই ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন, একটি ছোট্ট শ্রবণযন্ত্র তাঁর জীবনে ফিরিয়ে আনবে যোগাযোগের হারানো সেতুবন্ধন। অভাবের সংসারে যেখানে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন সংস্থান করতেই কালঘাম ছুটে যায়, সেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার এই বহুমূল্য সহায়ক যন্ত্রগুলি কেনা একপ্রকার বিলাসিতা। সরকারের এই পদক্ষেপ সেইসব অসহায় পরিবারগুলোর কাছে আক্ষরিক অর্থেই এক নতুন ভোরের আলো নিয়ে এসেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপনের এই বিশেষ ধরনটির পেছনের তাৎপর্য অত্যন্ত সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আজ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বজনপ্রিয় নেতা, আমাদের ভারতবর্ষের গর্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদীর জন্মদিন। তাঁর শুভ জন্মদিনে শুধু কেক কাটা বা উৎসব করার বদলে এই জনকল্যাণমূলক কাজটিকে আমরা সচেতনভাবেই বেছে নিয়েছি। উদ্দেশ্য একটাই— প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে সমাজের একেবারে প্রান্তিক স্তরের ঘরে ঘরে সেই আলোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ, গরিব ও অবহেলিত মানুষের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়ানো।”

এদিনের এই মহতী অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত না থাকতে পারলেও, প্রযুক্তির আশীর্বাদে ভার্চুয়াল মাধ্যমের সাহায্যে নয়াদিল্লি থেকে সরাসরি যুক্ত হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রী ড. বীরেন্দ্র কুমার। তিনি তাঁর তথ্যসমৃদ্ধ ভাষণে দেশের প্রতিটি দিব্যাঙ্গ ও প্রবীণ নাগরিকের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বৃহস্পতিবার একই সময়ে দেশের ৭৬টি বিভিন্ন স্থানে এই বিশেষ মেগা শিবির ও সহায়ক সরঞ্জাম প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে, এক সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে রানাঘাটের এই সামাজিক অধিকারিতা শিবির এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, যা আগামী দিনে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন রসদ জোগাবে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved