Homeজেলামোদীর জন্মদিনে ‘সেবা সংকল্প’! কল্যাণী মহকুমা শাসকের উদ্যোগে রক্তদান ও অন্নপূর্ণা দিবস পালন

মোদীর জন্মদিনে ‘সেবা সংকল্প’! কল্যাণী মহকুমা শাসকের উদ্যোগে রক্তদান ও অন্নপূর্ণা দিবস পালন

নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভ জন্মতিথি এবং জনপ্রতিনিধি তথা প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তাঁর সুশাসনের পঁচিশ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে গোটা দেশজুড়েই নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক তরজার ঊর্ধ্বে
raktodan

নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভ জন্মতিথি এবং জনপ্রতিনিধি তথা প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তাঁর সুশাসনের পঁচিশ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে গোটা দেশজুড়েই নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক তরজার ঊর্ধ্বে উঠে উৎসবের এই বিশেষ দিনটিকে আক্ষরিক অর্থেই জনকল্যাণ ও সেবামূলক কাজের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখার এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হলো নদীয়া জেলায়। কল্যাণী মহকুমা শাসকের নিজস্ব উদ্যোগে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় নদীয়ার ঐতিহ্যবাহী কল্যাণী ঋত্বিক সদনে অত্যন্ত সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হলো ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ এবং একটি মেগা রক্তদান শিবির। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী— নরেন্দ্র মোদীর এই দীর্ঘ ২৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সেবাকে সম্মান জানাতেই সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া এবং মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচাতে রক্তদানের মতো এই জোড়া কর্মসূচির মাধ্যমে এক বেনজির মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল কল্যাণী মহকুমা প্রশাসন।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মহকুমা ও ব্লক স্তরে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হলো ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর। এই অভিযানের মূল লক্ষ্যই হলো সমাজের একেবারে প্রান্তিক, গরিব ও অসহায় মানুষদের কাছে সরকারি পরিষেবা ও স্বাস্থ্যের সুবিধাগুলি নির্বিঘ্নে পৌঁছে দেওয়া। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আজ থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ সেবামূলক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলবে আগামী ১১ই অক্টোবর পর্যন্ত। এই সুদীর্ঘ সময়কাল ধরে কল্যাণী মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে স্বাস্থ্য শিবির, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, স্বচ্ছতা অভিযান এবং দরিদ্রদের মধ্যে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মতো একাধিক জনকল্যাণমূলক কাজ সংগঠিত হবে বলে প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন। এদিনের ঋত্বিক সদনের মেগা অনুষ্ঠানটি ছিল সেই বৃহত্তর ‘সেবা সংকল্প’ কর্মসূচিরই এক বর্ণাঢ্য শুভসূচনা।

এদিন ঋত্বিক সদন প্রাঙ্গণে আয়োজিত রক্তদান শিবিরটি ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া এবং তাৎপর্যপূর্ণ। উৎসবের মরসুম এবং বর্ষা বিদায়ের মুখে ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে যখন রক্তের আকাল দেখা যায়, ঠিক সেই সংকটময় সময়ে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে বড়সড় স্বস্তি। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু থেকে শুরু করে পথ দুর্ঘটনায় আহত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসায় এই রক্ত নবজীবন প্রদান করবে। এদিনের রক্তদান শিবিরে স্থানীয় যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকরাও রক্তদাতাদের উৎসাহ জোগাতে সারাক্ষণ উপস্থিত ছিলেন। সংগৃহীত রক্ত স্থানীয় ব্লাড ব্যাঙ্কের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের জীবন বাঁচাতে ব্যবহার করা হবে।

রক্তদান শিবিরের পাশাপাশি এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ পালন। দেশের খাদ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে পুষ্টিকর আহার পৌঁছে দিতে এই প্রকল্পের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আধুনিক ভারতে যাতে কোনও মানুষ রাতে অনাহারে ঘুমাতে না যান, সেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এই যোজনার সূত্রপাত। এদিনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে কল্যাণী, গয়েশপুর, চাকদহ এবং হরিণঘাটা— মহকুমার এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা এলাকা থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তারা সশরীরে অংশগ্রহণ করেন। সরকারের এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা যাঁদের কাছে নিরন্তর পৌঁছচ্ছে, তাঁদের উৎসাহ দিতে এবং প্রশাসনিক স্বীকৃতি হিসেবে এদিন উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিদের হাত দিয়ে উপভোক্তাদের হাতে বিশেষ প্রশংসাপত্র বা শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। শংসাপত্র হাতে পেয়ে হাসি ফুটে ওঠে বহু দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যদের মুখে।

কল্যাণী ঋত্বিক সদনের এই বর্ণাঢ্য ও মহতী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের শীর্ষকর্তা থেকে শুরু করে এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। বিশেষ অতিথিদের আসন অলংকৃত করেছিলেন হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার এবং চাকদহের বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কল্যাণীর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অনুপম বিশ্বাস, কল্যাণী মহকুমার মহকুমা শাসক (SDO) নীলাঞ্জন তরফদার, রানাঘাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার আশিষ কুমার মৌর্য সহ জেলা ও মহকুমা স্তরের অন্যান্য শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন কল্যাণী মহকুমার পুর প্রশাসক এবং এলাকার বহু নামী সমাজসেবক।

মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকরা সুশাসনের গুরুত্ব এবং সমাজ গঠনে এই ধরনের সেবামূলক কাজের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যে নিবিড় সেতু তৈরি হয়েছে, তা এই ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমেই আগামী দিনে আরও মজবুত হবে। সার্বিকভাবে, রাজনীতি ও প্রশাসনের মেলবন্ধনে এবং সমাজসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কল্যাণী ঋত্বিক সদনের এই অনুষ্ঠানটি আপামর জনসাধারণের মনে এক গভীর ছাপ ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

শুধুমাত্র কেক কেটে উৎসব পালনের গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে, দিনটিকে যেভাবে মানুষের সেবায় ও কল্যাণে উৎসর্গ করা হলো, তা গোটা জেলার কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নদীয়ার কল্যাণী থেকে স্থানীয় সাংবাদিক পিন্টু অধিকারীর পাঠানো খবরের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে, আগামী এক মাস ধরে চলা এই ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ গোটা মহকুমার চেহারা ও প্রশাসনিক সেবার মানে এক ইতিবাচক বদল আনবে।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved