Homeউত্তর ২৪ পরগনাবারাসতরাখি উৎসব ঘিরে বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ, আহত একাধিক

রাখি উৎসব ঘিরে বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ, আহত একাধিক

নিউজ ডেস্ক : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এ বার ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত বারাসতের ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি। রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে
west-bengal-state-university-administrative-block-wbsu-berunanpukhuria-kolkata-universities-ony9epitj0

নিউজ ডেস্ক : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এ বার ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত বারাসতের ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি। রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা গড়ায় হাতাহাতি ও সংঘর্ষে। অভিযোগ, হস্টেলে ঢুকে কয়েক জন ছাত্রকে মারধর এবং ভাঙচুর করা হয়। পাল্টা অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় অন্তত দুই ছাত্রকে ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ঘটনায় ১০-১২ জন ছাত্র জখম হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

ঘটনার জেরে বুধবার বারাসত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দত্তপুকুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এমএ প্রথম বর্ষের ছাত্র অরূপ বিশ্বাস, অভিষেক পাল এবং অনিমেষ দাস। তাঁদের মধ্যে অরূপ ও অভিষেকের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরে তাঁদের চিকিৎসার জন্য বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে অরূপ বিশ্বাসকে কথা বলার জন্য ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি অন্য ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েক জন তাঁকে দেখতে ছাত্রাবাসে পৌঁছন। এর পরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের ছাত্রদের মধ্যে বচসা শুরু হয় এবং তা দ্রুত সংঘর্ষের আকার নেয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, সেই সময় অরূপ বিশ্বাস এবং অভিষেক পালকে ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয়। তাঁদের বুকে এবং কপালে চোট লাগে বলে অভিযোগ। সংঘর্ষের জেরে আরও বেশ কয়েক জন ছাত্র আহত হন। সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা ১০-১২ জন বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও প্রত্যেকের আঘাতের মাত্রা এক নয়। গুরুতর আহত তিন ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্য দিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টা অভিযোগও উঠেছে। এক পক্ষের দাবি, তাঁদের ছাত্রাবাসে ঢুকে কয়েক জন ছাত্রকে মারধর করা হয়েছে এবং হস্টেলের ভিতরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ফলে ঠিক কী কারণে প্রথমে উত্তেজনার সূত্রপাত, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে যথেষ্ট ফারাক রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই গোলমালের সূত্রপাত বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে। অভিযোগ, অনুষ্ঠান পরিচালনা বা আয়োজনের কাজে কেন এক পক্ষের ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবে, তা নিয়েই অন্য পক্ষের আপত্তি তৈরি হয়। সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। ABVP-র তরফে দাবি করা হয়েছে, তাদের দুই সদস্য এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন। সংগঠনের অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। যদিও অন্য পক্ষের তরফে ওঠা অভিযোগও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও পক্ষের অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়নি।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। ছাত্রাবাসে থাকা পড়ুয়াদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পুলিশ পৌঁছয়। যাতে নতুন করে কোনও সংঘর্ষ না বাধে, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর এবং ছাত্রাবাস সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফেও ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের পিছনে ঠিক কারা জড়িত, কী ভাবে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠল এবং ব্লেড দিয়ে হামলার অভিযোগ কতটা সত্য—সবই তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দুই পক্ষের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাখিবন্ধনের মতো একটি উৎসবকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাঙ্গনে অনুষ্ঠান আয়োজন ঘিরে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তা কী ভাবে হিংসাত্মক সংঘর্ষে পরিণত হল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved