Homeকলকাতামেডিক্যাল অফিসার’ পরিচয় দিলেই শাস্তি, ন্যাশনাল মেডিক্যালে কড়া নিয়ম

মেডিক্যাল অফিসার’ পরিচয় দিলেই শাস্তি, ন্যাশনাল মেডিক্যালে কড়া নিয়ম

নিউজ ডেস্ক;বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের আয়োজিত রক্তদান শিবিরে গিয়ে ‘মেডিক্যাল অফিসার’-এর ভূমিকা পালন করার অভিযোগ উঠেছিল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের কয়েক জন
Blood-Donation-Hospital

নিউজ ডেস্ক;বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের আয়োজিত রক্তদান শিবিরে গিয়ে ‘মেডিক্যাল অফিসার’-এর ভূমিকা পালন করার অভিযোগ উঠেছিল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের কয়েক জন ডাক্তারি পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগ সামনে আসার পরই এবার ছাত্রছাত্রী, ইন্টার্ন এবং হাউসস্টাফদের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। নিয়ম ভেঙে কেউ নিজেকে চিকিৎসক কিংবা ‘মেডিক্যাল অফিসার’ হিসেবে পরিচয় দিলে তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের তরফে বুধবার জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে রক্তদান শিবিরে পড়ুয়া এবং হাসপাতালের প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের অংশগ্রহণ নিয়ে একাধিক নিয়ম স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, রক্তদান একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি হলেও এর সঙ্গে চিকিৎসা সংক্রান্ত একাধিক দায়িত্ব জড়িত। ফলে প্রশিক্ষণরত পড়ুয়া বা এমন কেউ, যাঁর বৈধ স্থায়ী মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন নেই, তিনি কোনও ভাবেই নিজেকে চিকিৎসক বা মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের কোনও ছাত্রছাত্রী, ইন্টার্ন বা হাউসস্টাফ রক্তদান শিবিরে অংশ নিতে চাইলে আগে কলেজ কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে বিষয়টি জানাতে হবে। শুধু শিবিরে যাওয়ার কথা জানালেই হবে না, সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও দিতে হবে। কোথায় শিবির অনুষ্ঠিত হচ্ছে, কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান এর আয়োজন করছে এবং কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে রক্ত সংগ্রহ করা হবে— এই সমস্ত তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই নির্দেশিকার নেপথ্যে মূলত পড়ুয়াদের পরিচয় এবং দায়িত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি এড়ানোর বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হলেও তাঁদের প্রত্যেকের আইনত চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার অনুমতি থাকে না। বিশেষ করে বৈধ স্থায়ী মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন না থাকলে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়া বা সেই পরিচয়ে কোনও দায়িত্ব পালন করা নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে।

অভিযোগ ছিল, একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের রক্তদান শিবিরে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের কয়েক জন ডাক্তারি পড়ুয়া ‘মেডিক্যাল অফিসার’-এর ভূমিকা পালন করেছিলেন। ওই ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে, প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন বা অনুমোদন ছাড়া কোনও মেডিক্যাল পড়ুয়া কী ভাবে চিকিৎসকের দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিচয় ব্যবহার করতে পারেন। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পরই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ স্থায়ী মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর না থাকলে কোনও পড়ুয়া নিজেকে চিকিৎসক বা ‘মেডিক্যাল অফিসার’ বলে পরিচয় দিতে পারবেন না। রক্তদান শিবিরে উপস্থিত থাকলেও নিজের ছাত্র পরিচয় গোপন করে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে কোনও ধরনের দায়িত্ব নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি সম্পর্কে কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

কর্তৃপক্ষের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, নির্দেশিকা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়া বা প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু মৌখিক সতর্কবার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নিয়ম ভাঙার প্রমাণ পাওয়া গেলে কলেজের নিজস্ব বিধি অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হতে পারে। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থার পথও খোলা রাখা হয়েছে।

চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে এই বিজ্ঞপ্তিতে। রক্তদান শিবিরে রক্তদাতাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্ত সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত নজরদারি এবং জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকে। ফলে সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা ও আইনসঙ্গত পরিচয় নিয়ে কোনও ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হলে তা নিয়ে গুরুতর সমস্যা হতে পারে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশিকাকে তাই শুধুমাত্র পড়ুয়াদের উপর বিধিনিষেধ হিসেবে দেখলে বিষয়টির পুরোটা ধরা পড়বে না। বরং রক্তদান শিবিরে কে কোন দায়িত্ব পালন করবেন এবং কোন পরিচয়ে কাজ করবেন, তা স্পষ্ট করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা বা ব্লাড ব্যাঙ্কের আয়োজিত শিবিরে কলেজের পড়ুয়াদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে।

রক্তদান শিবিরে পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ অবশ্যই উৎসাহজনক। কিন্তু সেই অংশগ্রহণ যেন তাঁদের নির্ধারিত শিক্ষাগত বা প্রশিক্ষণগত সীমা অতিক্রম না করে, তা নিশ্চিত করতেই এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ। লিখিত ভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানোর নিয়ম চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে কোন পড়ুয়া কোন শিবিরে অংশ নিচ্ছেন এবং সেখানে তাঁর ভূমিকা কী, সে সম্পর্কেও কলেজের কাছে তথ্য থাকবে।

সব মিলিয়ে, বেসরকারি রক্তদান শিবিরে ‘মেডিক্যাল অফিসার’ পরিচয় ব্যবহার নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের এই নির্দেশিকা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বৈধ স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন ছাড়া চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার না করা, রক্তদান শিবিরে যাওয়ার আগে কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো এবং আয়োজক সংস্থা ও রক্ত সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার নিয়ম কার্যকর করে পড়ুয়াদের দায়িত্ব ও সীমারেখা স্পষ্ট করে দিল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved