Homeকলকাতামদ খেয়ে মণ্ডপে ঢুকলেই পরীক্ষা! ব্রেথলাইজ়ার নিয়ে প্রস্তুত ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া

মদ খেয়ে মণ্ডপে ঢুকলেই পরীক্ষা! ব্রেথলাইজ়ার নিয়ে প্রস্তুত ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া

নিউজ ডেস্ক; দুর্গাপুজোর আনন্দে মণ্ডপে ভিড় করবেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু মণ্ডপে ঢোকার আগে যদি আচরণে মদ্যপানের লক্ষণ ধরা পড়ে, তা হলে দিতে হবে ‘ফুঁ’! ব্রেথলাইজ়ারে পরীক্ষা করে তবেই মিলবে মণ্ডপে প্রবেশের
resizeplus_Screenshot 2026-09-14 121016_edited

নিউজ ডেস্ক; দুর্গাপুজোর আনন্দে মণ্ডপে ভিড় করবেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু মণ্ডপে ঢোকার আগে যদি আচরণে মদ্যপানের লক্ষণ ধরা পড়ে, তা হলে দিতে হবে ‘ফুঁ’! ব্রেথলাইজ়ারে পরীক্ষা করে তবেই মিলবে মণ্ডপে প্রবেশের অনুমতি। এমনই অভিনব এবং কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতার ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। পুজোর তৃতীয়া থেকে দশমী পর্যন্ত মণ্ডপে মদ্যপ অবস্থায় প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শুধু নিয়ম ঘোষণা করেই থেমে থাকছেন না পুজোর উদ্যোক্তারা। পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপ চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় ব্রেথলাইজ়ার হাতে নজরদারি চালাবেন নিরাপত্তারক্ষীরা। পুজো কমিটির সদস্যরাও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবেন। কারও আচরণ বা কথাবার্তায় মদ্যপ অবস্থার সন্দেহ তৈরি হলে তাঁকে ব্রেথালাইজ়ারে পরীক্ষা দিতে হতে পারে। অর্থাৎ দুর্গাদর্শনে আসা দর্শনার্থীদের জন্য এ বার মণ্ডপে প্রবেশের ক্ষেত্রে এই নিয়মটিও মাথায় রাখতে হবে।

রবিবার এই ব্যবস্থারই মহড়া দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের উপস্থিতিতে ব্রেথলাইজ়ার নিয়ে ‘মক টেস্ট’ করে দেখেন পুজো উদ্যোক্তারা। কী ভাবে যন্ত্রটি ব্যবহার করতে হবে, কী ভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তারক্ষীদের কী ভূমিকা থাকবে—এই সমস্ত বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়। পুজোর দিনগুলিতে যাতে নিয়ম কার্যকর করতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই কারণেই আগেভাগে এই প্রস্তুতি বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

চক্রবেড়িয়া সর্বজনীনের এ বারের পুজোয় মূল ভাবনাই হল ধর্মীয় আবহ এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, মণ্ডপে এসে কেউ মদ্যপ অবস্থায় অশান্তি, হইচই কিংবা অভব্য আচরণ করলে তা শুধু অন্য দর্শনার্থীদের অসুবিধা তৈরি করে না, পুজোর পরিবেশও নষ্ট হয়। তাই আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, ৮১ বছরের পুরনো এই পুজোয় এ বার ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই মণ্ডপে মদ্যপ অবস্থায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত। উদ্যোক্তাদের মতে, পুজোর কয়েকটি দিন বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপে ভিড় করেন। পরিবার নিয়ে আসেন শিশু, প্রবীণ এবং মহিলারাও। সেখানে কারও মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া আচরণ পরিস্থিতিকে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। তাই দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ।

পুজোর প্রস্তুতিতেও ধর্মীয় রীতিনীতির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিটি। যে জায়গায় দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হবে, সেই স্থান গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করার পর মন্ত্রোচ্চারণ এবং নির্দিষ্ট আচার মেনে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পুজোর পরিবেশে কোনও ধরনের অশান্তি যাতে না হয়, সে বিষয়ে শুরু থেকেই সতর্ক থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কমিটির বক্তব্য, মদ্যপানের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্তকে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং মণ্ডপের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা এবং দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য। কারও সঙ্গে অযথা দুর্ব্যবহার না করে, প্রয়োজন অনুযায়ী পরিস্থিতি বুঝে পরীক্ষা করা হবে বলেও উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে।

চক্রবেড়িয়া সর্বজনীনের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট তিমির সরকার জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে তিনটি ব্রেথলাইজ়ার কেনা হয়েছে। রবিবার সেই যন্ত্রগুলি নিয়ে পাড়ায় পরীক্ষামূলক মহড়াও হয়েছে। যন্ত্র ব্যবহারের পদ্ধতি সঠিক ভাবে শেখার জন্য কলকাতা পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে পুলিশকর্মীরা উপস্থিত হয়ে উদ্যোক্তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে দেন।

ফলে পুজোর দিনগুলিতে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীনের মণ্ডপে নিরাপত্তার পাশাপাশি শৃঙ্খলার উপরও বিশেষ নজর থাকবে। মণ্ডপে প্রবেশের আগে ব্রেথলাইজ়ার পরীক্ষা—কলকাতার পুজোর চেনা ছবিতে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। সেই কারণেই উদ্যোক্তাদের এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে।

পুজো কমিটির দাবি, দুর্গোৎসব সকলের। তাই মণ্ডপে এসে প্রত্যেকে যাতে নিরাপদে এবং স্বচ্ছন্দে পুজো দেখতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য। আনন্দ-উৎসবের মাঝেও যাতে মদ্যপ অবস্থায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তৃতীয়া থেকে দশমী পর্যন্ত এই নিয়ম কার্যকর থাকবে।

অর্থাৎ এ বার চক্রবেড়িয়ার মণ্ডপে দুর্গাদর্শনে যাওয়ার আগে পুজোর পোশাক, ছাতা কিংবা মোবাইলের পাশাপাশি আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—মদ্যপ অবস্থায় মণ্ডপে প্রবেশ করা যাবে না। প্রয়োজন হলে মণ্ডপের দরজার কাছেই অপেক্ষা করছে ব্রেথলাইজ়ার পরীক্ষা। উদ্যোক্তাদের কড়া বার্তা, পুজোর আনন্দ হোক, কিন্তু মণ্ডপের পরিবেশ ও অন্য দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস নয়।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved