Homeকলকাতাকলকাতার আকাশে বিপত্তি, জরুরি অবতরণ এয়ার ক্যালিনের এয়ারবাসে! হোটেলে ২৮০ যাত্রী-ক্রু

কলকাতার আকাশে বিপত্তি, জরুরি অবতরণ এয়ার ক্যালিনের এয়ারবাসে! হোটেলে ২৮০ যাত্রী-ক্রু

নিউজ ডেস্ক; কলকাতার আকাশে উড়তে উড়তেই বিপত্তি। মাঝ আকাশে ইঞ্জিনে যান্ত্রিক গোলযোগ ধরা পড়ায় জরুরি অবতরণ করতে হল নিউ ক্যালিডোনিয়ার বিমান সংস্থা এয়ার ক্যালিনের একটি এয়ারবাস ৩৩০-কে। রবিবার দুপুরে কলকাতা
resizeplus_Screenshot 2026-09-14 124722_edited

নিউজ ডেস্ক; কলকাতার আকাশে উড়তে উড়তেই বিপত্তি। মাঝ আকাশে ইঞ্জিনে যান্ত্রিক গোলযোগ ধরা পড়ায় জরুরি অবতরণ করতে হল নিউ ক্যালিডোনিয়ার বিমান সংস্থা এয়ার ক্যালিনের একটি এয়ারবাস ৩৩০-কে। রবিবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। তাতে ছিলেন ২৬৮ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু। বিমানবন্দর সূত্রে খবর, সকলেই নিরাপদে রয়েছেন। তবে তাঁদের কারও কাছেই ভারতে প্রবেশের বৈধ ভিসা না থাকায় যাত্রীদের বিমানবন্দরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ ‘টেম্পোরারি ইমিগ্রেশন পারমিট’-এর ব্যবস্থা করতে হয়।

অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা একাধিক দ্বীপ নিয়ে গঠিত নিউ ক্যালিডোনিয়া। ফ্রান্সের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক সম্পর্কের কারণে ভূখণ্ডটি আন্তর্জাতিক ভাবে বিশেষ পরিচিত। নিউ ক্যালিডোনিয়ার সরকারি বিমান সংস্থা এয়ার ক্যালিডোনি। তার আন্তর্জাতিক পরিষেবা ‘এয়ার ক্যালিন’ নামে পরিচালিত হয়।

বিমান চলাচলের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এয়ার ক্যালিনের কোনও বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে নিয়মিত ভাবে অবতরণ করেছে—এমন নজির তাঁদের স্মরণে নেই। ফলে সংস্থাটির একটি বড় এয়ারবাস ৩৩০-এর আচমকা কলকাতায় জরুরি অবতরণ নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী ঘটনা।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, এয়ার ক্যালিনের এসবি-৫০১ ফ্লাইটটি ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ প্যারিস থেকে উড়েছিল। গন্তব্য ছিল নিউ ক্যালিডোনিয়ার রাজধানী নুমেয়া। দীর্ঘ যাত্রাপথে জ্বালানি ভরার জন্য ব্যাঙ্ককে থামার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কলকাতার আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই বিমানের ইঞ্জিনে সমস্যা ধরা পড়ে।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত কলকাতা বিমানবন্দরের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন পাইলট। বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে জানিয়ে কলকাতায় জরুরি অবতরণের অনুমতি চান তিনি। বিমানবন্দরের তরফেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শুরু করা হয়। জরুরি অবতরণের আগে বিমানটিকে কিছু সময় কলকাতার আকাশে চক্কর কাটতে দেখা যায়।

নিরাপদ অবতরণের জন্য বিমানের ওজন কমানো প্রয়োজন ছিল। সেই কারণে নিয়ম মেনে আকাশে থাকা অবস্থাতেই বিমান থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি ফেলে দেওয়া হয়। এরপর পরিস্থিতি অনুকূল বুঝে রবিবার দুপুরের দিকে কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়েতে নিরাপদে অবতরণ করে এয়ারবাসটি। অবতরণের পর সেটিকে ১১৫ নম্বর বে-তে রাখা হয়।

তবে বিমান মাটিতে নামার পরও যাত্রীদের সঙ্গে সঙ্গে নামানো হয়নি। বেশ কিছু সময় তাঁরা বিমানের ভিতরেই অপেক্ষা করেন। কারণ কলকাতা বিমানবন্দরে এয়ারবাস ৩৩০-এর মতো নির্দিষ্ট ধরনের বিমানের ইঞ্জিন মেরামত বা বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি সামলানোর জন্য সংস্থাটির নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারিং দল ছিল না।

বিমানবন্দর সূত্রে খবর, অন্য একটি বিমান সংস্থার এয়ারবাস বিমানের সঙ্গে কাজ করেন এমন ইঞ্জিনিয়াররা ঘটনাস্থলে এসে বিমানটি পরীক্ষা করেন। কিন্তু তাঁদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেও ত্রুটি সারানো সম্ভব হয়নি। ফলে যাত্রীদের আরও অপেক্ষা করতে হয়।

শেষ পর্যন্ত রবিবার বিকেল চারটে নাগাদ যাত্রী এবং ক্রুদের বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু সমস্যার আর একটি দিক তখন সামনে আসে। বিমানের যাত্রীরা সকলেই বিদেশি নাগরিক এবং কারও কাছেই ভারতে প্রবেশের ভিসা ছিল না। সাধারণ পরিস্থিতিতে ভিসা ছাড়া তাঁদের বিমানবন্দরের বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

তাই বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁদের জন্য ‘টেম্পোরারি ইমিগ্রেশন পারমিট’-এর ব্যবস্থা করা হয়। বিমানবন্দর ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়। জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর চারটে পর্যন্ত চলে ওই পারমিট দেওয়ার কাজ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর যাত্রীদের শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

এ দিকে, বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি এখনও পুরোপুরি মেরামত না হওয়ায় যাত্রীদের যাত্রা কবে ফের শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারদের ঘটনাস্থলে পাঠায়। এয়ার ক্যালিনও সেই পথেই এগোচ্ছে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে।

সমস্যা হল, নিউ ক্যালিডোনিয়ার রাজধানী নুমেয়া থেকে কলকাতায় সরাসরি বিমান পরিষেবা নেই। ফলে সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারদের কলকাতায় পৌঁছতে ব্যাঙ্কক অথবা সিঙ্গাপুর হয়ে আসতে হতে পারে। ইঞ্জিনিয়ারিং দল এসে বিমানের যান্ত্রিক সমস্যা পরীক্ষা করার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

প্রয়োজনে আটকে থাকা যাত্রীদের নিউ ক্যালিডোনিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি খালি বিমানও কলকাতায় পাঠানো হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। তবে সেই ব্যবস্থা কার্যকর হতে কতটা সময় লাগবে, তা নির্ভর করছে বিমানটির ত্রুটি মেরামত এবং সংস্থার পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।

এই মুহূর্তে কলকাতার একটি হোটেলেই থাকতে হচ্ছে বিমানের ২৬৮ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রুকে। অর্থাৎ মোট ২৮০ জনের যাত্রা কার্যত মাঝপথে থমকে রয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই হয়তো প্রথম বার কলকাতায় এসেছেন, কিন্তু কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই এ শহরে তাঁদের এই অপ্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি হয়েছে।

বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে মাঝ আকাশে ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি। সেই অবস্থায় পাইলটের দ্রুত এটিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা, জরুরি অবতরণের আগে বিমানের ওজন কমানোর জন্য জ্বালানি ফেলে দেওয়া এবং নিরাপদে বিমানবন্দরে নামিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় বড় কোনও বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এখন মূল নজর বিমানটির যান্ত্রিক ত্রুটি সারানোর দিকে। নিউ ক্যালিডোনিয়া থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং দল কখন কলকাতায় পৌঁছয়, তাঁরা বিমানের সমস্যা কত দ্রুত সমাধান করতে পারেন এবং আটকে থাকা যাত্রীদের কী ভাবে গন্তব্যে পাঠানো হবে—সেই দিকেই তাকিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং যাত্রীরা।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved