Homeকলকাতাডেঙ্গি প্রতিরোধে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান! আগামী মরশুমেই বাজারে আসতে পারে দেশীয় টিকা ‘ডেঙ্গিঅল’, ইঙ্গিত আইসিএমআর কর্তার

ডেঙ্গি প্রতিরোধে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান! আগামী মরশুমেই বাজারে আসতে পারে দেশীয় টিকা ‘ডেঙ্গিঅল’, ইঙ্গিত আইসিএমআর কর্তার

নিউজ ডেস্ক: বর্ষা এলেই দেশে ডেঙ্গির চোখরাঙানি আর প্রাণহানি কার্যত প্রতি বছরের চেনা ছবি। এই ভয়াল মশাবাহিত রোগ রুখতে কার্যকর টিকার জন্য অধীর অপেক্ষায় দিন গুনছেন দেশবাসী। অবশেষে সেই বহু
ডেঙ্গি প্রতিরোধে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান! আগামী মরশুমেই বাজারে আসতে পারে দেশীয় টিকা ‘ডেঙ্গিঅল’, ইঙ্গিত আইসিএমআর কর্তার

নিউজ ডেস্ক: বর্ষা এলেই দেশে ডেঙ্গির চোখরাঙানি আর প্রাণহানি কার্যত প্রতি বছরের চেনা ছবি। এই ভয়াল মশাবাহিত রোগ রুখতে কার্যকর টিকার জন্য অধীর অপেক্ষায় দিন গুনছেন দেশবাসী। অবশেষে সেই বহু প্রতীক্ষিত ডেঙ্গি টিকা নিয়ে বড় আশার কথা শোনাল দেশের শীর্ষ চিকিৎসা-গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ’ (আইসিএমআর)। সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে আগামী বছরের ডেঙ্গি মরশুমের বাড়বাড়ন্তের আগেই, অর্থাৎ অগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ বাজারে আসতে পারে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ডেঙ্গির টিকা। রবিবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই সম্ভাবনার কথা জানান আইসিএমআরের মহানির্দেশক (ডিজি) রাজীব বহেল।

কলকাতায় ‘লিভার ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ‘দিলীপ মহলানবীশ স্মারক বক্তৃতা’য় প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেন আইসিএমআর ডিজি। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, প্রস্তাবিত দেশীয় টিকার দ্বিতীয় দফার ট্রায়াল অত্যন্ত সফল এবং প্রাথমিক ফলাফল যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। বর্তমানে তৃতীয় দফার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। রাজীব বলেন, “টিকার চূড়ান্ত কার্যকারিতা ও সুরক্ষার নির্ভরযোগ্য তথ্য জানতে তৃতীয় পর্যায়ের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ট্রায়ালের ইতিবাচক রিপোর্ট আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানপত্রিকায় প্রকাশের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেলেই আগামী বছর সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে ডেঙ্গির টিকা।”

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে আইসিএমআর এবং প্যানাসিয়া বায়োটেকের যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুত এই প্রতিষেধকটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডেঙ্গিঅল’। এটি মূলত টেট্রাভ্যালেন্ট লাইভ-অ্যাটেনুয়েটেড অর্থাৎ দুর্বল করা জীবন্ত ভাইরাস-ভিত্তিক টিকা। যা ডেঙ্গির চারটি ভ্যারিয়েন্ট বা সেরোটাইপের (ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪) বিরুদ্ধেই একক শক্তিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। দেশের ১৯টি সেন্টারে ১০,৩৩৫ জন স্বেচ্ছাসেবকের উপর এর তৃতীয় দফার ট্রায়াল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বহু টিকার একাধিক ডোজ় নিতে হলেও ‘ডেঙ্গিঅল’ তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ ‘সিঙ্গল ডোজ়’ বা এক ডোজের প্রতিষেধক হিসেবে।

এদিকে জাপানি সংস্থা তাকেডার তৈরি অপর এক ডেঙ্গি টিকা ‘কিউডেঙ্গা’কে আগেই ভারতে ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিডিএসসিও। ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের জন্য তিন মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ়ের এই টিকাটি অনুমোদন পেলেও কেন চলতি মরশুমে সাধারণের নাগালে এল না, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদন মিললেও বাণিজ্যিক উৎপাদন, কসৌলির সেন্ট্রাল ড্রাগস ল্যাবরেটরি (সিডিএল) থেকে ব্যাচভিত্তিক গুণমান পরীক্ষা, কোল্ড-চেন পরিকাঠামো এবং দাম নির্ধারণের মতো একাধিক নিয়ন্ত্রক ধাপ পেরোতে সময় লাগে। করোনা পর্বের মতো জরুরি ছাড়পত্র না থাকায় স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে প্রক্রিয়া। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরই ডেঙ্গির বিরুদ্ধে মানবজাতির হাতে আসতে চলেছে সুরক্ষা কবচ।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved