Homeদার্জিলিংপুজোর আগেই সুখবর! দার্জিলিংয়ে বাড়ছে টয় ট্রেনের জয়রাইড, ১ অক্টোবর থেকে চলবে ৬ স্পেশাল

পুজোর আগেই সুখবর! দার্জিলিংয়ে বাড়ছে টয় ট্রেনের জয়রাইড, ১ অক্টোবর থেকে চলবে ৬ স্পেশাল

নিউজ ডেস্ক : পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তা হলে পর্যটকদের জন্য এল বড় সুখবর। পুজোর মরশুম থেকেই দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনে বাড়ছে বিশেষ জয়রাইড পরিষেবা। পাহাড়ি সৌন্দর্য,
resizeplus_23238179272_7fa38a5d6b_k

নিউজ ডেস্ক : পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তা হলে পর্যটকদের জন্য এল বড় সুখবর। পুজোর মরশুম থেকেই দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনে বাড়ছে বিশেষ জয়রাইড পরিষেবা। পাহাড়ি সৌন্দর্য, মেঘের আনাগোনা আর শতাব্দীপ্রাচীন রেলপথ—এই তিনের মেলবন্ধন আরও উপভোগ করার সুযোগ পাবেন পর্যটকেরা। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের তরফে আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত একাধিক বিশেষ জয়রাইড চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উৎসবের মরশুমকে সামনে রেখে নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের উদ্যোগে এই অতিরিক্ত পরিষেবা চালু হতে চলেছে। পুজোর ছুটি থেকে শুরু করে বড়দিন, নিউ ইয়ার এবং শীতের পর্যটন মরশুম—দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় থাকে। সেই সময়ের কথা মাথায় রেখেই দার্জিলিং-ঘুম এবং কার্শিয়াং-মহানদী রুটে বিশেষ ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

দার্জিলিং-ঘুম রুটে প্রতিদিন চলবে দু’জোড়া ডিজেল জয়রাইড। ফলে পর্যটকদের জন্য দিনে দু’বার পাহাড়ি রেলভ্রমণের সুযোগ থাকছে। প্রথম জয়রাইডের ট্রেন নম্বর ০২৫৪৫। এটি দার্জিলিং থেকে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ছাড়বে এবং সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ঘুম পৌঁছবে। এরপর ঘুম থেকে ১০টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে ট্রেনটি আবার দার্জিলিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবে এবং ১১টা ৫ মিনিটে পৌঁছবে।

এর পর রয়েছে দ্বিতীয় জয়রাইড। ০২৫৪৭ নম্বর ট্রেনটি দার্জিলিং থেকে সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে ছাড়বে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ঘুমে পৌঁছবে সেটি। সেখানে নির্দিষ্ট সময় কাটানোর পর ০২৫৪৮ নম্বর ফিরতি ট্রেনটি ঘুম থেকে ১২টা ৩০ মিনিটে ছাড়বে এবং দুপুর ১টা ১০ মিনিটে দার্জিলিংয়ে ফিরে আসবে।

অর্থাৎ, একই দিনে পর্যটকদের সামনে থাকছে দু’টি আলাদা জয়রাইডের সুযোগ। বিশেষ করে যাঁরা অল্প সময়ের মধ্যে টয় ট্রেনের অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাঁদের কাছে এই পরিষেবা যথেষ্ট আকর্ষণীয় হতে পারে।

তবে এবারের বিশেষ পরিষেবার আকর্ষণ শুধু দার্জিলিং-ঘুম রুটেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। কার্শিয়াং থেকেও পাহাড়ি রেলভ্রমণের জন্য থাকছে দু’টি বিশেষ পরিষেবা। এর মধ্যে অন্যতম হল ‘রেড পান্ডা স্টিম স্পেশাল’। ট্রেন নম্বর ০২৫৪২-এর এই পরিষেবাটি চলবে কার্শিয়াং-মহানদী-কার্শিয়াং রুটে।

সকাল ৯টায় কার্শিয়াং থেকে যাত্রা শুরু করবে রেড পান্ডা স্টিম স্পেশাল। প্রায় এক ঘণ্টার যাত্রার পর ১০টায় মহানদী পৌঁছবে ট্রেনটি। এরপর মহানদী থেকে ১০টা ১৫ মিনিটে ফের যাত্রা শুরু করে সকাল ১১টায় কার্শিয়াংয়ে ফিরে আসবে।

এই পরিষেবাটির বিশেষত্ব হল স্টিম ইঞ্জিন। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে ঐতিহ্যবাহী বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের টানে ট্রেনযাত্রার অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন পর্যটকেরা। টয় ট্রেনের ইতিহাস এবং স্টিম লোকোমোটিভের প্রতি যাঁদের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে, তাঁদের কাছে এই জয়রাইড বিশেষ ভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

সকালবেলার স্টিম স্পেশালের পাশাপাশি বিকেলেও থাকছে বিশেষ পরিষেবা। কার্শিয়াং-মহানদী রুটে চালানো হবে ‘মুক্তধারা ডিজেল স্পেশাল’, যার ট্রেন নম্বর ০২৫৪৩

সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে কার্শিয়াং থেকে ছাড়বে ট্রেনটি। ৪টায় মহানদী পৌঁছনোর পর সেখানে ১০ মিনিটের বিরতি থাকবে। এরপর ৪টা ১০ মিনিটে মহানদী থেকে ফের কার্শিয়াংয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে ট্রেনটি এবং বিকেল ৫টায় গন্তব্যে পৌঁছবে।

ফলে সকাল ও বিকেল—দু’সময়েই কার্শিয়াং থেকে পাহাড়ি টয় ট্রেনের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ থাকছে। এক দিকে স্টিম ইঞ্জিনের ঐতিহ্য, অন্য দিকে ডিজেল জয়রাইড—দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারে।

পুজোর মরশুমে দার্জিলিং, ঘুম, কার্শিয়াং এবং আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকের চাপ সাধারণত বেড়ে যায়। এই সময় অতিরিক্ত জয়রাইড চালু হওয়ায় পর্যটকদের কাছে বিকল্প বিনোদনের সুযোগও বাড়বে। বিশেষ করে যাঁরা পাহাড়ে গিয়ে শুধু ঘোরাঘুরি নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাঁদের জন্য এই পরিষেবা বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করবে।

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে শুধু একটি পর্যটন পরিষেবা নয়, পাহাড়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা ছোট্ট টয় ট্রেনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দার্জিলিংয়ের পর্যটনের দীর্ঘ ইতিহাস। UNESCO-র বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পাওয়া এই রেলপথে যাত্রা তাই অনেক পর্যটকের কাছেই নিছক এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার অভিজ্ঞতা নয়।

বিশেষ জয়রাইডের সময় পাহাড়ি পথ, সবুজ বনভূমি, মেঘে ঢাকা পর্বতশ্রেণি এবং ছোট ছোট পাহাড়ি জনপদের দৃশ্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। ধীর গতির ট্রেনযাত্রাই এই পরিষেবার অন্যতম আকর্ষণ। ফলে ছবি তোলা, প্রকৃতি উপভোগ কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যও জয়রাইড পর্যটকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়।

এ বার পুজোর মরশুমে পরিষেবার পরিধি বাড়ানোয় সেই আকর্ষণ আরও বাড়তে পারে। ১ অক্টোবর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ পর্যটন মরশুম জুড়ে বিশেষ জয়রাইড চলবে। অর্থাৎ দুর্গাপুজো থেকে বড়দিন, নিউ ইয়ার হয়ে শীতের ছুটি—একাধিক পর্যটন পর্বকে এই পরিষেবার আওতায় আনা হচ্ছে।

তবে পাহাড়ে যাওয়ার আগে পর্যটকদের ট্রেনের নির্দিষ্ট সময়সূচি, বুকিংয়ের নিয়ম এবং পরিষেবা চালুর তারিখ অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত। পাহাড়ি আবহাওয়া বা অন্য কোনও operational কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তন হলে তা রেলের তরফে জানানো হতে পারে।

সব মিলিয়ে পুজোর আগে দার্জিলিং ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকদের জন্য নিঃসন্দেহে এটি বাড়তি আকর্ষণ। পাহাড়ের মেঘ, সবুজের মাঝখান দিয়ে ছুটে চলা ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন এবং তার সঙ্গে জয়রাইডের বিশেষ অভিজ্ঞতা—এ বার শারদোৎসবের পাহাড় সফরে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved